ঢাকা,বুধবার,৪ কার্তিক ১৪২৮,২০,অক্টোবর,২০২১
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * টি‌সি‌বির বিক্রয় শুরু, চলবে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত   * রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগ প্রকাশ   * ডিএমপির ৪ থানার ওসিকে বদলি   * শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল টাইগাররা   * জলবায়ু ঝুঁকির হাত থেকে বাঁচাতে কমনওয়েলথকে অগ্রণী ভূমিকার আহ্বান   * আরও ২৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৪৪১ জন   * বাংলাদেশিদের জন্য ইসরাইল ভ্রমণ বন্ধই থাকবে: তথ্যমন্ত্রী   * করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিলেন ওবায়দুল কাদের   * ফিলিস্তিনের যুদ্ধাহতদের জন্য ওষুধ পাঠাবে বিএনপি   * ১৫ শতাংশ সারচার্জ মওকুফ: মেয়র আতিক  

   উপ-সম্পাদকীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ডেঙ্গু ও নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিতে সর্বোত্তম ব্যবস্থা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী‘র বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণরোগ প্রতিরোধ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী, সুপ্রিয় দেশবাসী এবং সুধীবৃন্দ আসসালামু আলাইকুম।

আজ আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সময়োপযোগী পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন একটি অত্যাশ্চার্য্য আবিস্কার নিয়ে। আর তা হলো ডেঙ্গু ভাইরাস প্রতিরোধক এবং ডেঙ্গুজ্বরের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে। ইদানিং ডেঙ্গুর প্রকোপে যখন সারাদেশবাসী আতংকগ্রস্থ, ঠিক এই মুহূর্তে সুদীর্ঘ ২০ বছরের গবেষণা ও বাস্তব পর্যবেক্ষণ এবং বহু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মহান সৃষ্টি কর্তার অশেষ কৃপায় আমি এই সফলতায় উত্তীর্ণ হয়েছি যে, হোমিওপ্যাথি শাস্ত্র অনুযায়ী সিম্পটমিক (ঝুসঢ়ঃড়সরপ) বিশেষ কিছু মেডিসিন প্রয়োগের ফলে এডিস মশাবাহী ডেঙ্গু ভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই পূর্ব হতেই যদি আমার গবেষণা লদ্ধ মেডিসিন প্রয়োগ করা যায় তাহলে ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার কোন ঝুঁকি থাকেনা। আর পূর্ব হইতে যদি কোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারনে ডেঙ্গু জ্বর হয়েই যায়। তাহলে ও চিন্তার কোন কারণ নেই। আমার রিসার্সকৃত ডেঙ্গু জ্বরের মহৌষধ প্রয়োগের ফলে রোগী যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, ঐ অবস্থা হতেই রোগীর অবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটবে। রোগী দ্রুত আরোগ্য লাভ করবে। ডেঙ্গুু জ্বর হলে রোগীর চষধঃবষবঃব দ্রুত কমতে থাকে, মাথা ঘোরা, বমি ভাব ও বমি, অরুচি, ক্ষুধামন্দা, খেতে না পারা ইত্যাদি উপস্বর্গগুলো দেখা দেয়। তাহা আমার এই ঔষধ প্রয়োগের ফলে খুব তাড়াতাড়ি দুরীভুত হয় এবং রোগী দ্রুতই সুস্থ্যতা লাভ করে। ডেঙ্গু রোগীর বিপদজনক অবস্থা হলো হেমোরোজিক অবস্থা। এই অবস্থায় রোগীর চোখ মুখ লাল, থমথমে ভাব, দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, অনেক সময় বমির সাথে রক্ত আসা, ইন্টারনাল রক্তক্ষরন। এই অবস্থায়ও যদি সঠিক ভাবে আমার এই ঔষধ প্রয়োগ করা যায়, তাহলেও সৃষ্টি কর্তার অশেষ কৃপায় (রহমতে) রোগী সুস্থ্য হয়ে উঠে। আমার এই সুদীর্ঘ পরিশ্রম ও গবেষণার ফসল যদি আমি লোকহিতার্থে জনগনের কল্যাণে ব্যাপক ভাবে কাজে লাগাতে পারি, তাহলেই আমার জীবন স্বার্থক বলে মনে করব। ইতি মধ্যেই আমি মানিকগঞ্জ শহরে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী চিকিৎসা করে প্রায় ৯৯% সফল হয়েছি। তাই আমার এই আবিস্কার দ্বারা সমগ্র দেশবাসী তথা সমগ্র বিশ্ববাসীর সেবা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি যে, আমার এই আবিস্কারের সফলতা প্রমাণের জন্য আমাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুযোগ দেওয়া হোক। ডেঙ্গু রোগী যেখানে বেশী ভর্তি আছে সেই রকম বড় বড় কয়েকটি মেডিকেলে আমার ঔষধ প্রয়োগ করার সুযোগ দিয়ে ফলাফল যাচাই করা হোক। রোগী হসপিটালে ভর্তি থাকবে। হসপিটালের কেয়ারেই থাকবে, হসপিটালের যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তাই দিবে, তাতেও সমস্যা নেই। ঐ চিকিৎসার সাথে শুধু মাত্র আমার ঔষধ প্রয়োগ করা হবে এবং বাস্তবতা পর্যবেক্ষণ করা হবে। যেখানে এলোপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীকে শুধু মাত্র প্যারাসিটামল ব্যতিত কোন প্রকার অহঃরনরড়ঃরপ বা অংঢ়রৎরহ জাতীয় কোন ঔষধ প্রয়োগ করা যাবে না। আর এই কারণেই, রোগী খারাপের দিকে গেলেও তাকে বাঁচানোর জন্য পর্যাপ্ত কোন ব্যবস্থা অবলম্বন করা সম্ভব হয় না। সেখানে আমার এই ঔষধ প্রয়োগের ফলে রোগী যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, সেই অবস্থা হতেই আরোগ্য লাভ করবে। এটাতো হবে অত্যাশ্চার্য্য ভাবে রোগীর নতুন জীবন ফিরে পাওয়া। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশের সমস্ত ডাক্তারবৃন্দ এবং সমগ্র দেশবাসির নিকট আমার আকুল আবেদন আপনারা সকলেই আমার চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রয়োগ করে পর্যবেক্ষণ করে, ফলাফল যাচাই করা হোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রীর নিকট আমার এই আবেদন আপনারা আমার এই চিকিৎসার সফলতা প্রমাণ করার লক্ষ্যে আপনাদের নির্দেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মত বড় বড় হসপিটালে ভর্তিকৃত ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় আমাকে সুযোগ দান করা হোক, সফলতার প্রমাণ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আমাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। যেখানে কয়েক হাজার ডেঙ্গু আক্রান্তরোগী রোগ যন্ত্রণায় ছটফট করছে। অনেক রোগী মারাও যাচ্ছে। সেখানে এত ভাল একটা চিকিৎসা পদ্ধতি মানব কল্যাণে গ্রহণ করা হবে একটি অতি মহৎ কাজ। মানুষ হিসাবে অপর একজন মানুষের কল্যাণ কামনাই তো মানুষের মহত্ব্যের পরিচয়। এছাড়া অধিক মশক কবলিত অঞ্চল চিহ্নিত করে আমার ডেঙ্গু প্রতিরোধক ঔষধ প্রয়োগ করে ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা হোক। যেখানে পূর্বে অধিক পরিমানে মশক বাহিত রোগে মানুষ আক্রান্ত হইত, আমার এই ঔষধ প্রয়োগের ফলে সেখানে আল্লাহর রহমতে উল্লেখযোগ্য হারে মশক বাহিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাবে। ইহা আমার বহুবার পরিক্ষীত। তাই আমার এই আবিষ্কারকে তুচ্ছ না করে, যথোপযুক্তভাবে প্রয়োগ করে ফলাফল যাচাই করে মানব কল্যানে ব্যাপকভাবে প্রচার এবং ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তাই কারো সাথে বিরোধ নয়, যদি মানুষের কল্যাণ কামনাই মানব ধর্ম হয় তাহলে অত্যন্ত ভাল পার্শ্ব প্রতিক্রীয়াহীন সফল একটি চিকিৎসা পদ্ধতি প্রমাণ করে গ্রহণ করলে অবশ্যই সেটা মহৎ কর্ম হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয়কে আমি মহান সৃষ্টিকর্তার উপর পূর্নআস্থা ও বিশ্বাস রেখে আশ্বস্থ্য করতে চাই যে সমগ্র বাংলাদেশ হতে ডেঙ্গু নির্মূলের জন্য আমার এই আবিষ্কার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ইনশাল্লাহ।

বিনীত নিবেদক

ডাঃ পিকে হালদার

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত ৭৬, শহীদ রফিক সড়ক, মানিকগঞ্জ।

মোবাইল- ০১৭১৮৬২০৫৫০, ০১৬৮৬৭৮৫৪৫৫

Email- drpkhalder2011@gmail.com

 

ডেঙ্গু ও নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিতে সর্বোত্তম ব্যবস্থা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী‘র বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণরোগ প্রতিরোধ
                                  

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী, সুপ্রিয় দেশবাসী এবং সুধীবৃন্দ আসসালামু আলাইকুম।

আজ আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সময়োপযোগী পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন একটি অত্যাশ্চার্য্য আবিস্কার নিয়ে। আর তা হলো ডেঙ্গু ভাইরাস প্রতিরোধক এবং ডেঙ্গুজ্বরের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে। ইদানিং ডেঙ্গুর প্রকোপে যখন সারাদেশবাসী আতংকগ্রস্থ, ঠিক এই মুহূর্তে সুদীর্ঘ ২০ বছরের গবেষণা ও বাস্তব পর্যবেক্ষণ এবং বহু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মহান সৃষ্টি কর্তার অশেষ কৃপায় আমি এই সফলতায় উত্তীর্ণ হয়েছি যে, হোমিওপ্যাথি শাস্ত্র অনুযায়ী সিম্পটমিক (ঝুসঢ়ঃড়সরপ) বিশেষ কিছু মেডিসিন প্রয়োগের ফলে এডিস মশাবাহী ডেঙ্গু ভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই পূর্ব হতেই যদি আমার গবেষণা লদ্ধ মেডিসিন প্রয়োগ করা যায় তাহলে ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার কোন ঝুঁকি থাকেনা। আর পূর্ব হইতে যদি কোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারনে ডেঙ্গু জ্বর হয়েই যায়। তাহলে ও চিন্তার কোন কারণ নেই। আমার রিসার্সকৃত ডেঙ্গু জ্বরের মহৌষধ প্রয়োগের ফলে রোগী যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, ঐ অবস্থা হতেই রোগীর অবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটবে। রোগী দ্রুত আরোগ্য লাভ করবে। ডেঙ্গুু জ্বর হলে রোগীর চষধঃবষবঃব দ্রুত কমতে থাকে, মাথা ঘোরা, বমি ভাব ও বমি, অরুচি, ক্ষুধামন্দা, খেতে না পারা ইত্যাদি উপস্বর্গগুলো দেখা দেয়। তাহা আমার এই ঔষধ প্রয়োগের ফলে খুব তাড়াতাড়ি দুরীভুত হয় এবং রোগী দ্রুতই সুস্থ্যতা লাভ করে। ডেঙ্গু রোগীর বিপদজনক অবস্থা হলো হেমোরোজিক অবস্থা। এই অবস্থায় রোগীর চোখ মুখ লাল, থমথমে ভাব, দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, অনেক সময় বমির সাথে রক্ত আসা, ইন্টারনাল রক্তক্ষরন। এই অবস্থায়ও যদি সঠিক ভাবে আমার এই ঔষধ প্রয়োগ করা যায়, তাহলেও সৃষ্টি কর্তার অশেষ কৃপায় (রহমতে) রোগী সুস্থ্য হয়ে উঠে। আমার এই সুদীর্ঘ পরিশ্রম ও গবেষণার ফসল যদি আমি লোকহিতার্থে জনগনের কল্যাণে ব্যাপক ভাবে কাজে লাগাতে পারি, তাহলেই আমার জীবন স্বার্থক বলে মনে করব। ইতি মধ্যেই আমি মানিকগঞ্জ শহরে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী চিকিৎসা করে প্রায় ৯৯% সফল হয়েছি। তাই আমার এই আবিস্কার দ্বারা সমগ্র দেশবাসী তথা সমগ্র বিশ্ববাসীর সেবা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি যে, আমার এই আবিস্কারের সফলতা প্রমাণের জন্য আমাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুযোগ দেওয়া হোক। ডেঙ্গু রোগী যেখানে বেশী ভর্তি আছে সেই রকম বড় বড় কয়েকটি মেডিকেলে আমার ঔষধ প্রয়োগ করার সুযোগ দিয়ে ফলাফল যাচাই করা হোক। রোগী হসপিটালে ভর্তি থাকবে। হসপিটালের কেয়ারেই থাকবে, হসপিটালের যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তাই দিবে, তাতেও সমস্যা নেই। ঐ চিকিৎসার সাথে শুধু মাত্র আমার ঔষধ প্রয়োগ করা হবে এবং বাস্তবতা পর্যবেক্ষণ করা হবে। যেখানে এলোপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীকে শুধু মাত্র প্যারাসিটামল ব্যতিত কোন প্রকার অহঃরনরড়ঃরপ বা অংঢ়রৎরহ জাতীয় কোন ঔষধ প্রয়োগ করা যাবে না। আর এই কারণেই, রোগী খারাপের দিকে গেলেও তাকে বাঁচানোর জন্য পর্যাপ্ত কোন ব্যবস্থা অবলম্বন করা সম্ভব হয় না। সেখানে আমার এই ঔষধ প্রয়োগের ফলে রোগী যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, সেই অবস্থা হতেই আরোগ্য লাভ করবে। এটাতো হবে অত্যাশ্চার্য্য ভাবে রোগীর নতুন জীবন ফিরে পাওয়া। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশের সমস্ত ডাক্তারবৃন্দ এবং সমগ্র দেশবাসির নিকট আমার আকুল আবেদন আপনারা সকলেই আমার চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রয়োগ করে পর্যবেক্ষণ করে, ফলাফল যাচাই করা হোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রীর নিকট আমার এই আবেদন আপনারা আমার এই চিকিৎসার সফলতা প্রমাণ করার লক্ষ্যে আপনাদের নির্দেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মত বড় বড় হসপিটালে ভর্তিকৃত ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় আমাকে সুযোগ দান করা হোক, সফলতার প্রমাণ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আমাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। যেখানে কয়েক হাজার ডেঙ্গু আক্রান্তরোগী রোগ যন্ত্রণায় ছটফট করছে। অনেক রোগী মারাও যাচ্ছে। সেখানে এত ভাল একটা চিকিৎসা পদ্ধতি মানব কল্যাণে গ্রহণ করা হবে একটি অতি মহৎ কাজ। মানুষ হিসাবে অপর একজন মানুষের কল্যাণ কামনাই তো মানুষের মহত্ব্যের পরিচয়। এছাড়া অধিক মশক কবলিত অঞ্চল চিহ্নিত করে আমার ডেঙ্গু প্রতিরোধক ঔষধ প্রয়োগ করে ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা হোক। যেখানে পূর্বে অধিক পরিমানে মশক বাহিত রোগে মানুষ আক্রান্ত হইত, আমার এই ঔষধ প্রয়োগের ফলে সেখানে আল্লাহর রহমতে উল্লেখযোগ্য হারে মশক বাহিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাবে। ইহা আমার বহুবার পরিক্ষীত। তাই আমার এই আবিষ্কারকে তুচ্ছ না করে, যথোপযুক্তভাবে প্রয়োগ করে ফলাফল যাচাই করে মানব কল্যানে ব্যাপকভাবে প্রচার এবং ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তাই কারো সাথে বিরোধ নয়, যদি মানুষের কল্যাণ কামনাই মানব ধর্ম হয় তাহলে অত্যন্ত ভাল পার্শ্ব প্রতিক্রীয়াহীন সফল একটি চিকিৎসা পদ্ধতি প্রমাণ করে গ্রহণ করলে অবশ্যই সেটা মহৎ কর্ম হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয়কে আমি মহান সৃষ্টিকর্তার উপর পূর্নআস্থা ও বিশ্বাস রেখে আশ্বস্থ্য করতে চাই যে সমগ্র বাংলাদেশ হতে ডেঙ্গু নির্মূলের জন্য আমার এই আবিষ্কার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ইনশাল্লাহ।

বিনীত নিবেদক

ডাঃ পিকে হালদার

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত ৭৬, শহীদ রফিক সড়ক, মানিকগঞ্জ।

মোবাইল- ০১৭১৮৬২০৫৫০, ০১৬৮৬৭৮৫৪৫৫

Email- drpkhalder2011@gmail.com

 

আসছে নতুন বাজেট
                                  

আসছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট। এটি হবে টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম বাজেট। জানা যায়, নতুন বাজেটে নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়নে যেমন গুরুত্ব আরোপ করা হবে, তেমনি অর্থনীতির জরুরি প্রয়োজনগুলোও বিবেচনায় রাখা হবে। সংসদে বাজেট উপস্থাপন হতে এখনো এক মাসের কিছু বেশি সময় বাকি আছে। এরইমধ্যে বাজেট নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো সভা-সেমিনার করে নতুন বাজেট প্রণয়নে তাদের দাবিদাওয়া তুলে ধরছে। অর্থনীতিবিদরা আগের বাজেটগুলোর ব্যর্থতা তুলে ধরে নতুন বাজেটে সেগুলো সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন। শুধু অর্থনীতিবিদ বা ব্যবসায়ীরাই নন, বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহও কিছু কম নয়। নতুন কোনো কর আসছে কি না, করের সীমা বাড়ছে কি না কিংবা বাজারে নতুন বাজেটের কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারেÑতা নিয়েও তাঁরা শঙ্কায় থাকেন।
প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, নতুন বাজেটের আকার হতে পারে পাঁচ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা, যা এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বাজেট প্রাক্কলন। এটি চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে ৬০ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা বা ১৩ শতাংশ বেশি। সর্ববৃহৎ বাজেটের আর্থিক দায় মেটাতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও বাড়াতে হবে। জানা যায়, প্রাথমিকভাবে এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা। চলতি বাজেটে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা, পরে কাটছাঁট করে দুই লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অটুট রাখতে নতুন বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকারও বাড়িয়ে এক লাখ ৯৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে, যা মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬.৮ শতাংশ। সূত্র মতে, আসছে বাজেটের বড় চমক হচ্ছে তিন স্তরের ভ্যাট, যা হবে ৫, ৭ ও ১০ শতাংশ। রাজস্ব আদায়ে করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর ওপরই বেশি জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশ হয়েছে। উন্নয়নের এই ধারা আরো বেগবান করতে হবে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন দ্রæততর করতে হবে। এজন্য পদ্মা সেতু, মেট্রো রেলসহ গৃহীত মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রæত সম্পন্ন করতে হবে। বিদ্যুতের উৎপাদন যেমন বেড়েছে, চাহিদাও ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। তাই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ হাবের কাজ দ্রæত এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়নও জরুরি। দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ উৎসাহিত করতেও নানামুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। মানবসম্পদ উন্নয়নে অনেক বেশি জোর দিতে হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে মনোযোগ বাড়াতে হবে। রাষ্ট্রের এই উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো সঠিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্যই প্রয়োজন একটি সুপরিকল্পিত, সুসমন্বিত ও বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট। শুধু বড় বাজেট নয়, বাজেটের সর্বোচ্চ বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। আগামি বাজেটে মানুষ সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চায়।

ইতিহাসের এই দিনে
                                  


ক্স    ১৮৯০ সালের এ দিনে কিউবার জনগণ সেদেশে স্পেনের আধিপত্য বিস্তারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে স্বাধীনতার জন্যে এটি ছিল সেদেশের জনগণের তৃতীয় বিদ্রোহের ঘটনা। স্পেন কিউবার স্বাধীনতাকামীদের বিদ্রোহ দমনে ৩ লাখ সেনা কিউবাতে পাঠায়। কিউবাতে যখন স্বাধীনতাকামীদের আন্দোলন এবং সহিংসতা তুঙ্গে তখন ১৮৯৮ সালে কিউবার উপক‚লে মার্কিন একটি রণতরীর বিস্ফোরণের ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে খাড়া করে কিউবার সমস্ত যুদ্ধ জাহাজ ধ্বংস করে দেয়। এরপর আমেরিকা কিউবা দখল করে নেয়। এভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিউবাতে স্পেনের জায়গায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে। এরপর কিউবার জনগণ আমেরিকার বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ।

ক্স    ১৯০৪ সালের এ দিনে বিখ্যাত মার্কিন পদার্থ বিজ্ঞানী এবং এটম বোমার আবিষ্কারক জুলিয়াস রবার্ট ওপেন হেইমার জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু গবেষণা প্রকল্প ম্যানহাটন প্রজেক্টের পরিচালক হিসেবে প্রথম পরমাণু বোমা উন্নয়নের জন্যে তিনি কাজ করেন। আর যে কারণে তাকে এটম বোমার জনক বলা হয়। তিনি ঐ প্রকল্পে থেকে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের জন্যে তিনটি এটম বোমা তৈরী করেন। তার তৈরী ঐ বোমা আমেরিকা ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় জাপানের হিরোসীমায় নিক্ষেপ করলে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়। এতে তিনি ভীষণ অনুশোচনা করেন। এরপর তিনি শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর আহবান জানান।

ক্স    ১৯৪৮ সালের এ দিনে অবৈধ রাষ্ট্র ইহুদীবাদী ইসরাইল ফিলিস্তিনের উতরা পশ্চিমাঞ্চালে অবস্থিত বান্দর নগরী হাইফাতে হামলা চালায়। দখলদার ইসরাইলীদের ঐ হামলায় ৫০০ ফিলিস্তিনী শহীদ হন। তাছাড়া ২০০ ফিলিস্তিনী আহত হয় ।ইসরাইলের নৃশংস হামলায় ভয় পেয়ে নারী ও শিশুরা অন্যত্র পালিয়ে যায়। কিন্তু নিষ্ঠুর ইসরাইলী সেনারা সেখানেও নারী ও শিশুসহ নিরীহ ফিলিস্তিনীদের উপর হামলা চালালে আরো একশ জন শহীদ এবং ২০০ জন আহত জন। ইসরাইলীরা এভাবে ফিলিস্তিনীদের হত্যা করার পর ১৯৪৮ সালের ১৪ ই মে তারা সরকার গঠনের ঘোষণা দেয়।

ক্স    ১৩৫৮ সালের এ দিনে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা ইমাম খোমেনী (রহঃ) ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী গঠনের ফরমান জারী করেন। ইসলামী বিপ্লবকে আভ্যন্তরীণ ও বর্হি শক্তির হাত থেকে রক্ষা করাটাক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মূল দায়িত্ব বলে তিনি জানান। বিপ্লবী গার্ড বাহিনী গঠিত হওয়ার পর বিপ্লব বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সাথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের সশস্ত্র সংগ্রাম হয়। সে সংগ্রামে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী শত্রæদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম হয়। ইরানের বিপ্লবকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে দেশটির বিরুদ্ধে ইরাকের সাবেক সাদ্দাম সরকার যে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল সেই যুদ্ধে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী যোগ্যতা ও সক্ষমতা প্রদর্শন করতে সামর্থ হয়। যার ফলে ইরাকী আগ্রাসী বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনী শত্রæদের ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দেয় ।

ক্স    ১৯৯৮ সালের এ দিনে ইরাকে প্রখ্যাত আলেম আয়াতুল্লাহ মুর্তজা বুরুজার্দী ৭০ বছর বয়সে নাজাফে শাহাদাত বরণ করেন। তিনি মসজিদে জামাতে নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পর তাকে গ্রেফতার করা হয় তারপর তাকে হত্যা করা হয়। ইরাকের বাথ সরকার মুর্তজা বরুজার্দীকে হত্যা করেছে বলে সেখানকার সচেতন সমাজ মনে করে। কারণ এর আগেও বাথ সরকার ইরাকের শিয়া আলেমদের সাথে দুর্ব্যবহার করে এবং তাদেরকে হত্যা করে।



ক্স    পানিপথের যুদ্ধে জয়ী হয়ে স¤্রাট বাবর কর্তৃক ভারতে মোগল সা¤্রাজ্য প্রতিষ্ঠা (১৫২৬)
ক্স    মার্কিন লেখক মার্ক টোয়েনের মৃত্যু (১৯১০)
ক্স    মহাকবি ইকবালের ইন্তেকাল (১৯৩৮)
ক্স    লন্ডন ও রোমের মধ্যে বিমান চালনার মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম জেট বিমান চলাচল শুরু (১৯৫২)
ক্স    আলজেরিয়ায় ফরাসি সেনা বিদ্রোহ শুরু (১৯৬১)
ক্স    পাকিস্তানের কমনওয়েলথ ত্যাগ (১৯৭২)
ক্স    ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজ চালু (১৯৭৫)
ক্স    জেনারেল জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত (১৯৭৭)
ক্স    দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গঠন (১৯৮১)

ইতিহাসের এই দিনে
                                  

১২৪৫ হিজরীর এই দিনে ইরানের বিশিষ্ট ফকিহ ও কবি আল্লামা আহমদ নারাকী মৃত্যুবরণ করেন। ১১৮৫ হিজরী সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশব ও কৈশর পিতা মোল্লা মাহদী নারাকীর সাথে কাটান। তার পিতা মাহদী নারাকী তাকে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দেন এবং তিনি একজন ফকীহর মর্যাদা লাভ করেন। আল্লামা নারাকী কয়েক বছর ইরাকের নাজাফেও শিক্ষা গ্রহণ করেন। ইরাক থেকে দেশে ফিরে তিনি কাশানে ফিরে সেখানকার ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ বইও লিখেছেন। যেমন- মেরাজুস সাদাত, আশরারুল হজ, মাশনাভি তাকাদিস ইত্যাদি।

১৮৮২ সালের ১৯ এপ্রিল ব্রিটেনের বিশিষ্ট জীববিজ্ঞানী, বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদের উৎপত্তি ও বিকাশের তত্তে¡র প্রতিষ্ঠাতা চার্লেস ডারউইন মৃত্যু বরণ করেন। ১৮০৯ সালের ১২ ফেব্রæয়ারি শ্রেউসবার্গে তার জন্ম হয়। কিশোরবেলা থেকেই তিনি মিউজিয়াম সংক্রান্ত বিদ্যা ও রসায়নবিদ্যা ইত্যাদি প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ভালবাসেন। ১৮৫৯ সালে ডারউইন "অরিজিন অব দি স্পেসিস" নামক তাঁর মহাগ্রন্থ প্রকাশ করেন এবং বিবর্তন তত্ত¡ প্রতিষ্ঠা করেন। বিবর্তনবাদ অর্থাৎ এক প্রাণী থেকে আরেক প্রাণীতে পরিবর্তন এ তত্ত¡ আবিষ্কার করে জীব বিজ্ঞানের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন এ বৃটিশ বিজ্ঞানী।

১৯০৬ সালের ১৯ এপ্রিল বিখ্যাত ফরাসী পদার্থ বিজ্ঞানী পিয়েরে কুরি মৃত্যুবরণ করেন।। তাঁর জন্ম ১৮৫৯ সালে। প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরেট ডিগ্রী পাওয়ার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যাপক নিযুক্ত হন। এসময় তিনি মাদাম ম্যারি কুরির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে তারা দুজনে মিলে তেজস্ত্রিয়তা সম্পর্কে গবেষণা চালান। ১৯০৩ সালে ম্যাডাম ম্যারি কুরি ও পিয়েরে কুরি এক সাথে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৯৩ সালের ১৯ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের হামলায় ড্যাভিডিয়ানস নামের এক ধর্মীয় স¤প্রদায়ের শিশু, নারীসহ প্রায় ৮০ জন সদস্য নিহত হয়। এই গোষ্ঠীটি মার্কিন সরকারের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিল। এফবিআই-এর হামলার আগে তারা ৫১ দিন ধরে একটি ভবন দখলে রেখেছিল। এ নৃশংস হত্যাকান্ডের পর মার্কিন সরকার দাবি করে যে, ড্যাভিডিয়ানস স¤প্রদায়ের নেতা ড্যাভিড কোরেশ এফবিআইকে ধমক দিয়ে বলেছিলেন যে, যদি এফবিআইয়ের আইনপ্রয়োগকারী কর্মীরা তার ক্ষতি করার অপচেষ্টা করে সমুচিত জবাব দেয়া হবে। কিন্তু মার্কিন সরকারের এ বক্তব্যের বিরুদ্ধে সে সময় বিশ্বব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। কারণ বিনা বিচারে কাউকে হত্যা করা মানবাধিকার ও আইনের পরিপন্থী।

৫৯৯ হিজরী সনের ২৩শে রবিউস সানী সিরিয়ার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক শাহাব উদ্দিন আব্দুর রহমান দামেশকী মোকাদ্দাসী দামেশকে জন্মগ্রহণ করেন। দামেশকের এই শিক্ষাবিদ আবু শামাহ নামে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া থেকে হাদিস, ফিকাহসহ অন্যান্য বিষয়ে শিক্ষা লাভ করেন। অধ্যাপক আবু শামাহ বেশ কিছু মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন।

২০০৫ সালের ১৯শে এপ্রিল পোপ দ্বিতীয় জন পলের মুত্যুর পর ষোড়শ বেনেডিক্ট ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের নতুন ধর্মগুরু নির্বাচিত হন। তার আসল নাম জোসেফ আলোইস রাতজিঙ্গার। ষোড়শ বেনেডিক্ট ১৯২৭ সালের ১৬ই এপ্রিল জার্মানীর বাভারিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি ধর্মীয় শিক্ষা শুরু করেন এবং ১৯৫১ সালে তিনি ধর্মতত্ত¡ কেন্দ্র থেকে পাদ্রী হিসেবে স্বীকৃতি পান। ১৯৭৭ সালের ২৭শে জুন তিনি কার্ডিনাল নির্বাচিত হন। ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর তিনি কার্ডিনাল কলেজের ডিন নির্বাচিত হবার পর কার্ডিনাল বিশপ হিসেবে পরিচিত পান। পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট বর্তমান রোমান ক্যাথলিক চার্চ এবং ভ্যাটিকান সিটির সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।

১৮০৭ সালের এই দিনে ব্রিটিশ বাহিনী মিশরের আলেক্সান্ড্রিয়া থেকে পিছু হটে এবং মিশরের কাছে পরাজিত হয়। ওসমানী খেলাফতকে দুর্বল করার লক্ষ্যে ব্রিটিশরা আলেক্সান্ড্রিয়া দখল করে নেয়। কিন্তু আলেক্সান্ড্রিয়ার তৎকালীন গভর্নর মোহাম্মদ আলী জনগণকে সাথে নিয়ে ব্রিটিশ ঔপনিবেশের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ব্রিটিশ বাহিনীর ভারী অস্ত্রশস্ত্রের মোকাবেলা তারা অত্যন্ত হালকা ও সাধারণ অস্ত্র নিয়ে মোকাবেলা করে। কিন্তু তারপরও ব্রিটিশরা ১৮০৭ সালের এই দিনে আলেক্সান্ড্রিয়া ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।


দিল্লীর স¤্রাট ইলতুতমিশের মৃত্যু (১২৩৬)
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের লেক্সিংটন ও কনকর্ড ব্রিটিশদের পরাজেয়ের মাধ্যমে মার্কিন স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা (১৭৭৫)
কংগ্রেসে মার্কিন স্বাধীনতা যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা (১৭৮৩)
ইংরেজ কবি জর্জ বায়রনের মৃত্যু (১৮২৪)
বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স প্রতিষ্ঠা (১৮৩৪)
ইংরেজ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইনের মৃত্যু (১৮৮২)
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) প্রতিষ্ঠা (১৯১৯)
পাকিস্তানের গণপরিষদে বাংলা ও উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা (১৯৫৪)
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট সিংম্যান রী ক্ষমতাচ্যুত (১৯৬০)
লাওসে ডানপন্থী সামরিক গোষ্ঠীর আন্দোলনে জোট সরকার ক্ষমতাচুত (১৯৬৪)
ভারতের প্রথম উপগ্রহ আর্যভট্ট মহাকাশে উৎক্ষিপ্ত (১৯৭৫)
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলোহামায় একটি সরকারি ভবনে সন্ত্রাসীদের ট্রাকবোমা বিস্ফোরণে ১৬৮ জন নিহত (১৯৯৫)

থেমে নেই যৌন পীড়নের ঘটনা
                                  

শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন পীড়নের অভিযোগ এনে জীবন দিতে হয়েছে ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে। তাঁর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল নৃশংস এই ঘটনা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই বর্বর ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-মানববন্ধন হয়েছে। সর্বত্রই এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে অনেকে। কিন্তু দেশ নাড়িয়ে দেওয়া এই ঘটনা কি রিরংসাপ্রবণ পুরুষের মধ্যে বিন্দুমাত্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পেরেছে? তেমনটি হলে তো নারী ও শিশুর প্রতি যৌন পীড়নের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না।
গত দুই দিনে গণমাধ্যমে আসা খবরে দেখা যাচ্ছে সারা দেশে অন্তত ১৪টি যৌন পীড়নের ঘটনা ঘটেছে। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে এক কিশোরীকে গণধর্ষণ করেছে সাত দুষ্কৃতকারী। মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করেছে তারা। সিলেটে আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে এক তরুণী। বগুড়ার ধুনটে এক মাদরাসাছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করা হয়েছে। হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। নওগাঁয় দুই ও রাজবাড়ীতে এক স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ময়মনসিংহে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুমিল্লায় ধর্ষণের অভিযোগে এক মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নওগাঁয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এক কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, পাবনা, বাগেরহাট, বরগুনা, ময়মনসিংহ এবং ঝালকাঠি থেকেও ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের খবর এসেছে সংবাদপত্রে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব খবরে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে যে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ ধরনের অনাচার চলতেই থাকবে। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? বলতে দ্বিধা নেই, সমাজচিত্র আজ অনেকটাই বদলে গেছে। এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এখন মেয়েদের জন্য নিরাপদ নয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগে যে সম্পর্ক ছিল, তা এখন নেই বললেই চলে। একটি প্রতিবেদন বলছে, ২০১৭ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৯টি যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও যেন দায়বদ্ধতা থেকে সরে এসেছে। ২০০৯ সালে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নবিরোধী কমিটি গঠন করার জন্য হাইকোর্ট থেকে একটি গাইডলাইন দেওয়া হয়েছিল। সংবাদমাধ্যেমে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, উচ্চ আদালতের এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কমিটি থাকলেও কোনো কার্যকারিতা নেই। যৌন নিপীড়ন রোধ করার লক্ষ্যে আইন বা বিধিমালা করারও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে সামাজিক অনুশাসন বলতে কিছু আর অবশিষ্ট নেই। ফলে অনাচারী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। অন্যদিকে বিচারহীনতার সংস্কৃতিও যেন অপরাধীদের উসকে দিচ্ছে। আর সে কারণেই শাস্তির একটা বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন একান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

ইতিহাসের এই দিনে
                                  

আজ (বুধবার) ১৭ এপ্রিল’২০১৯



(মুজিবনগর দিবস)
মুজিবনগর দিবস আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরের আ¤্রকাননে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে। স্বাধীন বাংলার প্রবাসী বিপ্লবী সরকারও বলা হতো এটিকে । মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলার আ¤্রকাননে বিপ্লবী সরকারের এ শপথ মুক্তিযুদ্ধে একটি রাষ্ট্রীয় গতি যোগ করে। জন্ম নেয় এক নতুন ইতিহাস। পাকিস্তানে কারাবন্দী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিয়ে গঠিত সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম । তাজউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিসভায় আরো ছিলেন- কামরুজ্জামান, মনসুর আলী, খন্দকার মোশতাক আহমদ। সেই সরকারের শপথ পাঠ করিয়েছেন আলীগ নেতা আবদুল মান্নান। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন চিফ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী। নির্বাচিত সংসদ সদস্য তৎকালীন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এমএজি ওসমানী নিযুক্ত হন প্রধান সেনাপতি। আওয়ামী লীগ খুব গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিবছর দিবসটি পালন করে ।

(নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর মৃত্যু)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, রাষ্ট্রভাষা বাংলার প্রথম প্রস্তাবক মুসলমানদের শিক্ষা, সংস্কৃতি স্বাধিকার ও রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টির অগ্রদূত নবাব সৈয়দ নওয়াব আলীর মৃত্যু দিবস আজ। ১৮৮৫ সালে নিখিল ভারত কংগ্রেস গঠনের সময় মুসলিম কমিউনিটির নেতৃত্ব শূন্যতায় বীরদর্পে এগিয়ে এসেছিলেন তিনি। জমিদারিত্বের জৌলুস তাকে প্রভাবিত করেনি। নিজের অর্থ, মেধা, শ্রম সব ব্যয় করেছেন অনগ্রসর মুসলমানদের কল্যাণে। ম্যাজিস্ট্রেটের চাকরিকালেও এদেশের গরীব অশিক্ষিত মুসলমানদের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে ভেবেছেন। তার রাজনৈতিক হাতেখড়ি শুরু হয় মিউনিসিপ্যাল কমিশনার ও জেলা বোর্ডের সদস্য হওয়ার মধ্য দিয়ে। ১৯০৬ থেকে ১৯১১ সাল পর্যন্ত ছিলেন পূর্ববঙ্গ ও আসাম ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য। ১৯২১-২৩ ছিলেন ইন্ডিয়ান লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য । ১৯১৪ সালে আইন পরিষদের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখেন। অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলমান মন্ত্রী হন তিনি। ১৯০৬ সালে গঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন নবাব নওয়াব আলী। সাহিত্যাঙ্গনেও ছিলো তার পদচারণা। ১৯২৯ সালের ১৭ এপ্রিল দার্জিলিং এর ইডেন ক্যাসেলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯১৫ সালের ১৭ই এপ্রিল এক যুদ্ধে বিশ্বে প্রথমবারের মত শ্বাসরোধক গ্যাস ব্যবহৃত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জার্মানী / ফ্রান্স ও বৃটেনের বিরুদ্ধে ঐ গ্যাস ব্যবহার করে বহু সৈন্যকে হত্যা করে। গ্যাস যুদ্ধ নামে পরিচিত ঐ লাড়াইয়ে জার্মান বাহিনী বিজয় লাভ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যুদ্ধে এ ধরণের রাসায়নিক গ্যাস ব্যবহার নিষিদ্ধ করার জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা শুরু হয় এবং ঐ গ্যাস উৎপাদন ও বিস্তাররোধ সংক্রান্ত চুক্তিতে বেশ কয়েকটি দেশ স্বাক্ষর করে। নিষিদ্ধ হওয়া সত্তে¡ও বেশ কয়েকটি দেশ স্বাশরোধক রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার অব্যাহত রাখে। যেমন ভিয়েতনাম যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার এবং ইরানের উপর চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের সময় ইরাকের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা যায়।

১৯৪৬ সালের ১৭ই এপ্রিল সিরিয়া স্বাধীন দেশ হিসাবে আত্ম প্রকাশ করে। বর্তমান সিরিয়া ও এর আশেপাশের এলাকাকে পূর্বে শাম নামে অভিহিত করা হত। ইসলামের আবির্ভাবের আগে শামের উপর যথাক্রমে ইরান, গ্রীস, মিশর ও রোমের প্রভাব ও দখলদারিত্ব বজায় ছিল। ইসলাম আবির্ভাবের কিছুকাল পর শাম অঞ্চল অর্থাৎ আজকের সিরিয়া মুসলিম শাসনের অন্তর্ভুক্ত হয়। সিরিয়া ছিল উমাইয়া শাসক গোষ্ঠীর প্রধান কেন্দ্র এবং পরবর্তীতে মিশর ও উসমানিয় শাসকদের নিয়ন্ত্রনে আসে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান এবং ওসমানিয় সা¤্রাজ্যের পতনের পর সিরিয়া ফরাসীদের দখলে চলে যায়। কিন্তু পরে সিরিয়ায় জাতীয়তাবদী আন্দোলন মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে এবং তারা স্বাধীনতার ডাক দেয়। ১৯৪৬ সালে সিরিয়া পুরোপুরি স্বাধীনতা লাভ করে এবং বৃটিশ ও ফরাসী সেনারা সেদেশ ত্যাগ করে। সিরিয়া ভ‚মধ্য সাগরের তীরে অবস্থিত এবং লেবানন, সিরিয়া, জর্দান, ইরাক, তুরস্ক ও অধিকৃত ফিলিস্তিনের সাথে এর সীমান্ত রয়েছে।

১৯৫৩ সালের এই দিনে কম্বোডিয়া ফরাসীদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। প্রতিবেশী দখলদাররা ১৫শ` শতাব্দী থেকে এমন সময় কম্বোডিয়ায় আগ্রাসন শুরু করে যখন খেমারুজ স¤্রাটদের ১১ শ` বছরের শাসনের অবসান ঘটে। এরপর উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে কম্বোডিয়ার বাদশাহ প্রতিবেশীদের হামলার হাত থেকে রেহায় পাওয়ার জন্য ফরাসীদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানায়। কিন্তু ফরাসীরা ১৮৬৩ সালে কম্বোডিয়াকে সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১৯৫৩ সালে দেশটি স্বাধীনতা লাভের আগ পর্যন্ত ফরাসীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। স্বাধীনতার পর কম্বোডিয়ায় ব্যাপক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত সময়ে খেমারুজরা ব্যাপক গণহত্যা চালায়। ব্যাপক দ্ব›দ্ব সংঘাতের পর শেষ পর্যন্ত ১৯৯৯ সালে কম্বোডিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

ফার্সী ১৩৬৫ সালের এই দিনে ইরানের খ্যাতনামা কবি ও লেখক মোহাম্মদ আমিন শায়েখ উল ইসলাম পরলোক গমন করেন। তিনি ফার্সী ১৩০০ সালে পশ্চিম ইরানের একটি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিন ১৩২১ সালে একটি দৈনিকের লেখক পরিষদের সদস্য হন। ঐ দৈনিকটি স্বৈরাচারী রেজা শাহের বিরুদ্ধে গোপনে তৎপরতা চালাত এবং সরকারের বহু দুষ্কর্মের ঘটনা ফাঁশ করে দিত।

২০০৪ সালের ১৭ই এপ্রিল ইসরাইলের হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ফিলিস্তিনের অন্যতম শীর্ষ সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব ও ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের নেতা আব্দুল আযিয রানতিসি মর্মান্তিকভাবে শহীদ হন। হামাসের আধ্যাত্মিক নেতা শেইখ আহমদ ইয়াসিন ইসরাইলের হামলায় শহীদ হওয়ার মাত্র এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে রানতিসি হামাসের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন। রানতিসি ১৯৪৭ সালে অধিকৃত ফিলিস্তিনের ইয়াফ শহরে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি মিশরের আলেকজান্ডার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উপর পড়ালেখা করেন। ড: রানতিসি ছাত্র জীবন থেকেই দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করেন এবং জীবনে বহুবার কারাভোগ করেছেন। হামাস দল গঠিত হওয়ার পর তিনি এ সংগঠনে যুক্ত হন এবং দলটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন।


ওয়ারেন হেস্টিংস কর্তৃক কলকাতায় প্রথম মাদ্রাসা স্থাপন (১৭৮১)
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের ৮৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ (১৭৯০)
গুয়াতেমালা প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা (১৮৩৯)
কলকাতায় প্রথম বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু (১৮৯৯)
ইথিওপিয়ার দাস প্রথা বিলুপ্ত (১৯৩২)
জার্মানদের কাছে যুগোশ্লাভিয়ার পরাজয় (১৯৪০)
সিআইএ`র বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দেড় সহ¯্রাধিক কর্মীর কিউবা উপসাগর নির্বাসিত কিউবান প্রেসিডেন্ট ফিদেল ক্যাস্ট্রোর সরকারকে উৎখাতের ব্যর্থ অভিযান (১৯৬১)
মহাকাশযানে সফলতার সাথে অক্সিজেন ট্যাক সংযোজনের ৪ দিন পর এ্যাপোলো-৪ এর নভোচারীরা পৃথিবীতে ফিরে আসেন (১৯৭০)
খেমাররুজ বাহিনীর কাছে রাজধানী নমপেন আত্মসমপণ । কম্বোডিয়ায় গৃহযুদ্ধের অবসান (১৯৭৫)
ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণের মৃত্যু (১৯৭৫)

ইতিহাসের এই দিনে
                                  

১৮৬৮ সালের এ দিনে রাশিয়ার বিখ্যাত ছোট গল্পকার, লেখক, উপন্যাসিক ম্যাক্সিম গোর্কি জন্ম গ্রহণ করেন। পুরানো হিসেবে তার জন্ম তারিখ হবে ১৬ই মার্চ। গোর্কি তার ছদ্মনাম। যার অর্থ হলো তিক্ত প্রাণ। তিনি নিজনি নভগোরোড নামের রাশিয়ার একটি শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। পরে এ তার সম্মানে এ শহরের নাম বদলিয়ে গোর্কি রাখা হয়। অল্প বয়সেই গোর্কি তার বাবা মাকে হারান। তার বাবা কলেরায় মারা যান এবং মা মারা যান য²ায়। গোর্কি তার আত্মজীবনী আমার ছেলেবেলার মায়ের একটি মর্মস্পশী বর্ণনা দিয়েছেন। রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পটভ‚মিতে রচিত তার বিখ্যাত গ্রস্থের নাম মা। ১৯৩৬ সালে গোর্কি পরলোকগমন করেন।

১৯৩৯ সালের এ দিনে প্রায় তিন বছর যুদ্ধের পর স্পেনের গৃহযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। এ যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জেনারেল ফ্রান্সিকো ফ্রাংকোর নেতৃত্বাধীন জাতীয়বাদিরা বিজয় লাভ করে। গৃহ যুদ্ধ চলাকালে ফ্রাংকোকে সহায়তা দিয়েছে জার্মানী ও ইতালি। অন্যদিকে তার প্রতিপক্ষ রিপাবলিকানদের সহায়তা করেছে সোভিয়েত ইউনিয়ন। এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল বিগ্রেড নামে একটি সংগঠন তৈরি করে আমেরিকা সহ বিশ্বের অন্যান্য স্থানের কম্যুনিষ্টরা রিপাবলিকানদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলো। তিন বছরের এ লড়াইয়ে দশ লক্ষ লোক প্রাণ হারিয়েছে এবং স্পেনের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ ছিলো।

১৯৩০ সালের এ দিনে তুরস্কের প্রাচীন শহর কন্টান্টিনোপেলের নাম পরিবর্তন করে ইস্তাম্বুল রাখা হয়। উত্তর পশ্চিম তুরস্কের অবস্থিত এ শহর দুই মহাদেশ ইউরোপ এবং এশিয়ার মধ্যে অবস্থিত। বিশ্বের আর কোনো শহর এ ভাবে দুই মহাদেশের মধ্যে অবস্থিত নয়। বসফরাস নামের ছোট একটা প্রণালীর মাধ্যমে কৃষ্ণ সাগর এবং মারমারা সাগরের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করা হয়েছে। এই প্রণালীই ইউরোপ ও এশিয়ারকে বিভক্ত করেছে। তুরস্কের সবচেয়ে বড় শহর ইস্তাম্বুল দেশটির প্রধান বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। সপ্তদশ শতকে এই শহরের গোড়াপত্তন হয়েছিলো ।

১৯৭৯ সালের এ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের পেনিসেলভিয়া অঙ্গরাজ্যের অবস্থিত থ্রি মাইল আইল্যান্ডের পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুঘর্টনা ঘটেছিলো। পরামাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে শীতল রাখার যে ব্যবস্থা ছিলো তাতে ক্রটি দেখা দেয়। ফলে পরমাণু চুল্লীর অংশ বিশেষ গলে যায়। এই ব্যবস্থা পুনরায় কার্যকর করতে বেশ কয়েক দিন সময় লেগে যায়। এর মধ্য পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় পানি বাইরে চলে যায়। দুর্ঘটনার খবর দেরি করে জনগণকে জানানো হয়েছিলো। পরে গর্ভবতী নারীদেরকে থ্রি মাইল আইল্যান্ড ত্যাগ করতে বলা হয়েছিলো। তবে এ দুর্ঘটনার পর ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশে পাশে ক্যান্সারের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে একই সাথে বেড়েছে শিশু মৃত্যুর হার।

২০০১ সালের এ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডবিøউ বুশ কিয়াটো প্রোটোকল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেন। তার এ পদক্ষেপের ফলে সমগ্র বিশ্বের পরিবেশ সচেতন মানুষ প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়েছিলো। বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গ্রীণ হাউজ গ্যাসের বিশেষ ভ‚মিকা আছে। এ গ্রীণ হাউজ গ্যাসের নির্গমন হ্রাস করার জন্য কিয়োটো প্রোটোকল নামের আর্ন্তজাতিক চুক্তি ১৯৯৭ সালে গ্রহণ করা হয়। উন্নত দেশগুলোর গ্রীণ হাউজ গ্যাসের নির্গমন বন্ধ করার জন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য মাত্রা এতে নির্ধারণ করা হয়। বিশ্বের জলবায়ুর পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘের কনভেনশনের পরপুরক হিসেবে কিয়োটো প্রোটোকল বা চুক্তি করা হয়। কোয়োটো চুক্তি বাস্তবায়নে বেশ কয়েক বছর বিলম্ব হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ২০০৫ সালে এ চুক্তি বলবৎ হলেও বিশ্বের ১৩০টি দেশ এ পর্যন্ত এ চুক্তি স্বাক্ষর করলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ চুক্তি স্বাক্ষর করেনি। অথচ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রীণ হাউস গ্যাসের নির্গমন ঘটে যুক্তরাষ্ট্রে। এখানে উল্লেখ্য যে ছয়টি প্রধান গ্রীণ হাউজ গ্যাসের মধ্যে তিনটি হলো কাবর্ন ডাই অক্সসাইড,মিথেন এবং নাইট্রাস অক্সাইড।

আইরিশ পার্লামেন্টে ইংল্যান্ডের সঙ্গে সংযুক্তি আইন অনুমোদন (১৮০০) 
উর্দু ভাষায় প্রথম ভারতীয় সংবাদপত্র সাপ্তাহিক ‘জাম-ই-জাহান জুম্মা’ প্রকাশিত (১৮২২) 
রাশিয়ার বিরুদ্ধে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের যুদ্ধ ঘোষণা (১৮৫৪) 
কনস্টানটি নোপলের নাম ইস্তাম্বুল ও আঙ্গোরার নাম আংকারা নির্ধারণ (১৯৩০) 
স্পেনের জেনারেল ফ্লাঙ্কোর ক্ষমতা দখল (১৯৩১) 
জাপান নানকিংয়ে চীন প্রজাতন্ত্রের পুতুল সরকার গঠন (১৯৩৮) 
মাদ্রিদ জেনারেল ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কের বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ এবং স্পেনের গৃহযুদ্ধের অবসান (১৯৩৯) 
সুদান সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থান ব্যর্থ। আলজেরিয়ায় ইউরোপীয় সিক্রেট আর্মি সংগঠন ফরাসি বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক গেরিলা যুদ্ধ ঘোষণা (১৯৬২) 
ইকুয়েডরে ভ‚মিকম্পে ৫০ জন নিহত (১৯৯৬)

আজ মায়ের ভাষার দিন
                                  

সবার সব পথ এসে মিশে যাবে আজ শহীদ মিনারে। কণ্ঠে থাকবে সেই চিরচেনা বিষণœ সুর। অনুরণিত ভোরের হাওয়ায় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রæয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি...।’ মাতৃভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বাংলা মায়ের বীর সন্তানদের বুকের রক্ত ঢেলে রাজপথ রাঙিয়ে দেওয়ার দিন অমর একুশে ফেব্রæয়ারি। সারা বিশ্বে আজ বৃহস্পতিবার পালিত হবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে।

একুশ মানেই মাথা নত না করা। একুশ মানেই আন্দোলন, সংগ্রাম, প্রতিরোধ। এবার এমন এক সময় একুশ এল, যখন সব মানবতাবিরোধী অপরাধীর শাস্তির দাবিতে তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলেছে অভূতপূর্ব গণজাগরণ। ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করবে তরুণ প্রজন্ম।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রæয়ারি সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিকসহ নাম না জানা আরও অনেকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নেমেছিলেন ঢাকার রাজপথে। ঘাতকদের উদ্যত রাইফেলের সামনে বুক পেতে দিয়ে ১৪৪ ধারা ভেঙেছিলেন। বসন্তের রোদ ঝলমলে দিন উত্তাল হয়ে উঠেছিল ‘মাতৃভাষা বাংলা চাই’ ¯েøাগানে ¯েøাগানে। তারপর ইতিহাসের পাতায় রচিত হলো এমন এক অধ্যায়, যা কখনো লেখা হয়নি আগে। মাতৃভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করল এ দেশের সংগ্রামী তারুণ্য।
মাতৃভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে স্বাধিকার চেতনার স্ফুরণ ঘটেছিল, তা দিনে দিনে রূপ নেয় স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলনে। এরই পথ ধরে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাঙালি অর্জন করে তার চিরকাক্সিক্ষত স্বাধীনতা।
জাতি আজ বিনম্র শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে ভাষাশহীদদের। দিনের আলো ফোটার আগে থেকেই শুরু হচ্ছে নগ্ন পায়ে প্রভাতফেরি করে শহীদ মিনার অভিমুখে যাত্রা। সারাদেশের শহীদ মিনারগুলো ভরে উঠবে হৃদয়ের নিখাদ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার ফুলে।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালে মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত কয়েক বছর ধরে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাঁতি একুশের মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আজ একুশের প্রথম প্রহরে ১২টা ১ মিনিটে সর্বপ্রথম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর পরপরই শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি পালনে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
ইতোমধ্যেই অমর একুশে পালনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, আজিমপুর কবরস্থানসহ একুশের প্রভাতফেরি প্রদক্ষিণের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, প্রণয়ন করা হয়েছে শহীদ মিনারে প্রবেশের রোডম্যাপ।
একুশে ফেব্রæয়ারি শোকাবহ হলেও এর যে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় তা পৃথিবীর বুকে অনন্য। কারণ বিশ্বে এ যাবতকালে একমাত্র বাঙালি জাতিই ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে। আজ ২১ ফেব্রæয়ারি জাতীয় ছুটির দিন। এদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। ২১ ফেব্রæয়ারি উপলক্ষে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র এবং বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো একুশের বিশেষ অনুষ্ঠান স¤প্রচার করবে।
আওয়ামী লীগের দু’দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- রাত ১২টা ১ মিনিটে (রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকালে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সংগঠনের সকল শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন।
এ ছাড়াও আগামীকাল ২২ ফেব্রæয়ারি শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশন মিলতনায়তনে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল এক বিবৃতিতে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সকল কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য দলের নেতা-কর্মীসহ সংগঠনের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহŸান জানিয়েছেন।
এছাড়াও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যদায় উদযাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, নজরুল ইনিস্টিটিউট, জাতীয় গ্রন্থকেšদ্র, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, জাতীয় জাদুঘর, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, শিশু একাডেমি সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে: আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ৩০মিনিটে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে প্রভাতফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থান হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গমন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ। বাদ জোহর অমর একুশে হলে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত, বিশ^বিদ্যালয় মসজিদুল জামিয়া, সকল হলের মসজিদ এবং বিশ^বিদ্যালয় আবাসিক এলাকার মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাষা শহীদদের রুহের মাগফেরাত/শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত/প্রার্থনা।
রাজধানী ঢাকার মতোই সারাদেশে প্রভাতফেরি করে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ভাষাশহীদদের আÍার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিলের মতো বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে।

একুশ মানে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো
                                  

ডাঃ মোঃ শহীদুল্লাহ সিকদার :

বাংলাদেশ ও বাঙালী জাতির ইতিহাসে একুশে ফেব্রæয়ারি এক অবিস্মরণীয় দিন। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ঐতিহাসিক দিন একুশে ফেব্রæয়ারি। এ দিনের ইতিহাস আমাদের সংগ্রামী চেতনার ইতিহাস। এ দিন বাঙালীর জাতীয় জীবনের পরবর্তী সকল আন্দোলনের প্রেরণার উৎস। দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক আবুল ফজল লিখেছিলেন ‘একুশ মানে মাথা নত না করা।’ একুশ মানে মাতৃভাষকে সম্মানের সঙ্গে শ্রদ্ধার আসনে বসানো। একুশ মানে ভাষার জন্য জীবন ও রক্ত দেয়ার দিন। একুশ আমাদের মহান শহীদ দিবস। তাই এ দিনটিকে আমরা ভুলতে পারি না। একুশে ফেব্রæয়ারির ভাষাভিত্তিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার আন্দোলন। একুশের পথ ধরে আমরা পেয়েছি ৫৪ এর নির্বাচন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন, ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ। এসব আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠা হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। যার স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ’৭৫-এ জাতির জনকের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পর তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশী-বিদেশী সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আবার মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধার লাভ করে। তাই বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী যখন বলেন, ‘বাঙালী জাঁতি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছে- এই জাঁতি উন্নত সমৃদ্ধ জাঁতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য, তাঁর নেতৃত্বে অর্থনৈতিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও অন্যান্য সামাজিক সূচকে বিশ্ব মন্দার কালেও সা¤প্রতিক সাফল্যগুলো তার পরিচায়ক। তাই আজকে একুশের মূল প্রেরণা উদার বাঙালী জাতীয়তাবাদী অসা¤প্রদায়িক চেতনাই আমাদের বার বার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে ‘একুশ মানে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো।’
বঙ্গবন্ধু ভাষা আন্দোলনের প্রথম থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত অবিচল ও দূর দৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর অকুতোভয় নেতৃত্বেই বাংলা ভাষা রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে বাংলা ভাষার উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও বিকাশে তার পদক্ষেপ ছিল অনন্য ও উল্লেখযোগ্য। বঙ্গবন্ধু ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছাত্রনেতা ছিলেন যার জন্য পাকিস্তানের কায়েমি শাসক এবং নেতৃবৃন্দ ছিলেন তার নখদর্পণে। তাদের রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি সম্পর্কে তাঁর পরিষ্কার ধারণা ছিল- এ ভাষা আন্দোলন তার কাছে মাত্র একটি আন্দোলন বিশেষ ছিল না। ছিল জাতির অস্তিত্বের জাগরণকাল। বাকস্বাধীনতার অভ্যন্তরে নির্মিত রাজনৈতিক স্বাধীনতার বীজ বপনকাল।
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পকিস্তান প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গেই পাঞ্জাবী শাসকচক্র প্রথম আঘাত হানে বাঙালীর মাতৃভাষার ওপর। পাকিস্তানের জনসংখ্যার শতকরা ৫৬ জনের মুখের ভাষা বাংলাকে অস্বীকার করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালায় পাকিস্তানী সরকার। পাকিস্তানের পশ্চিমাংশের নেতাদের ভাষা নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হলে বাংলার মানুষ নীরবে বসে থাকেনি। তাঁরা পাকিস্তানের শাসকদের চক্রান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
বাংলা ভাষার দাবি নিয়ে ছাত্র-শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলনের প্রতিফলন ঘটে ধীরেন্দ্র নাথ দত্তের গণপরিষদের ভাষণে। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রæয়ারি করাচীতে পাকিস্তানের গণপরিষদের প্রথম অধিবেশণে কংগ্রেস দলীয় নেতা শ্রী ধীরেন্দ্রনাথ বলেন, যে, উর্দু ইংরেজীর সঙ্গে বাংলাকে গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহারের অধিকার থাকতে হবে। ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রæয়ারি ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ভাষা সম্পর্কীয় বক্তব্যের ওপর আলোচনা হয়।
শ্রী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের গণপরিষদের বক্তব্য বাংলার ছাত্র-যুবক-শিক্ষকসহ সকলকে প্রচ-ভাবে ভাষার আন্দোলনে উৎসাহ যোগায় এবং ভাষা আন্দোলনের নতুন মাত্রা সৃষ্টি করে। করাচীর গণপরিষদের ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দানের দাবি অগ্রাহ্য হওয়ার সংবাদ ঢাকায় পাওয়ার পর প্রগতিশীল ছাত্র-যুবক ও বুদ্ধিজীবী প্রচ- বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তখন বঙ্গবন্ধু বেশ কিছু প্রগতিশীল ছাত্র ও যুবক নেতৃবৃন্দ বাংলা ভাষার দাবিকে জোরালো করার জন্য একটি সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এ লক্ষ্যে পূর্ব বাংলার বিভিন্ন প্রগতিশীল অসা¤প্রদায়িক সংগঠনের কর্মীরা ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে এক সভায় মিলিত হন। কামরুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে এই সভায় উপস্থিত ছিলেন শেখ মুজিবর রহমান, শামসুল হক, অলি আহাদ, মুহম্মদ তোয়াহা, আবুল কাসেম, রনেশ দাশগুপ্ত, অজিত গুহ প্রমুখ। সভায় গণপরিষদের সিদ্ধান্ত এবং মুসলিম লীগের বাংলা ভাষা বিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে সক্রিয় আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রস্তাবে একটি সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়।
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ বাংলা ভাষা নিয়ে মুসলিম লীগ সরকারের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ সাধারণ ধর্মঘট আহŸান করে। ধর্মঘট চলাকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন। এখান থেকে তাঁকে পুলিশ গ্রেফতার করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের গ্রেফতারের প্রতিবাদে সারা দেশের ছাত্র সমাজ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। মুসলিম লীগ সরকার ছাত্র সমাজের আন্দোলনের চাপে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবসহ বন্দীদের মুক্তি দিতে রাজি হয়।

১৯৪৮ সালের প্রথম দিক থেকে ভাষা আন্দোলনের যে তীব্র আকার ধারণ করে সেক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভ‚মিকা ছিল। ভাষা আন্দোলনকে জোরদার করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিরলস পরিশ্রম করেন। সেই সময়ে আরও যে সমস্ত ছাত্র যুবনেতা ভাষার দাবির আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ, শামসুল হক, আবদুল মতিন, মোহম্মদ তোয়াহা, শওকত আলী, নঈমুদ্দিন আহমদ প্রমুখ।
বাংলা ভাষার দাবি নিয়ে যখন বাংলার মানুষ সোচ্চার ঠিক সেই সময়েই ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ এম এ জিন্নাহ ঢাকা সফরে আসেন। ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় এম এ জিন্নাহ ঘোষণা করেন উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে ওঠেন সভার এক প্রান্তে থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে তাজউদ্দীন আহমদ ও আবদুল মতিন। এর তিন দিন পর জিন্নাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের কার্জন হলে যান সমাবর্তন উৎসবে। সেখানে ভাষণ দিতে গিয়ে আবার সেই একই কথা জোর দিয়ে বললেন, উর্দুই হবে একমাত্র পাকিস্তানের রাষ্টভাষা। সবাই একবারে প্রতিবাদ করে ওঠেন। এতে জিন্নার কণ্ঠ তলিয়ে যায় ফলে জিন্নাহ ক্ষোভে-দুঃখে অপমানে কিছু সময় চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকেন। তারপর আবার তিনি ভাষণ শুরু করেন। তবে এবার কথা বলেন অনেকটা নরম সুরে।
এরপর এম এ জিন্নাহ রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য ডাকেন। জিন্নাহর সঙ্গে আলোচনার জন্য এক প্রতিনিধি দল যান। জিন্নাহ সাহেব তখন মিন্টো রোডে তৎকালীন প্রধান সচিব আজিজ আহম্মদের বাসায় অবস্থান করছিলেন। সেখানে জিন্নাহর সঙ্গে প্রতিনিধি দল মিলিত হন এবং আলোচনা করেন। জিন্নাহর অনুমতিক্রমে তাঁর সামনে স্মারকরিপি পাঠ করেন কামরুদ্দিন সাহেব। স্মারক লিপির কিছু অংশ পাঠ করার পর জিন্নাহ সাহেব ক্রুদ্ধ কণ্ঠে স্মারকরিপি পাঠ করতে নিষেধ করেন। প্রতিনিধি দলের কোন কথা না শুনে জিন্নাহ একতরফাভাবে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের ভারতের দালাল বলে গালি দেন। তিনি এক রাষ্ট্র, এক ধর্ম, এক ভাষার কথা বললে তাঁর সামনেই প্রতিনিধি দল তীব্র প্রতিবাদ জানান, চলে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে জিন্নাহর তর্কাতর্কি। প্রতিনিধি দলের প্রশ্নে ক্রুদ্ধ হয়ে জিন্নাহ আলোচনাসভা ত্যাগ করার হুমকি দেন। সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্ধ নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাঁদের সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন বলে জিন্নাহকে জানিয়ে আসেন। জিন্নাহর গোয়ার্তুমি নাজিমুদ্দিন ও নূরুল আমিনের অনুসরণ করাই ভাষা আন্দোলনকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়।
মুসলিম লীগ সরকারের বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে তৎপরতার প্রতিবাদে ছাত্র যুবকদের মাঝে ভাষার দাবির আন্দোলন শক্তিশালী হতে থাকে। এ অবস্থা মোকাবেলার জন্য মুসলিম লীগ সরকার দমন নীতির পথ বেছে নেয়। সরকারের সব প্রকার দমন নীতিকে উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছাত্র-যুব শক্তিকে সংগঠিত করেন ভাষা আন্দোলনকে একটি গণআন্দোলনে রূপান্তরিত করার জন্য। তিনি যতই সংগঠিত হতে লাগলেন ততই মুসলিম লীগ সরকারের কোপনালে পড়তে লাগলেন। ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দানের জন্য ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বও তিনি গ্রেফতার হন এবং ১৯৪৯ সালে জেল থেকে মুক্তি লাভ করেন।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রæয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ধর্মঘট ডাকা হয়। ওইদিন ছিল সরকারের বাজেট অধিবেশন। এর কয়েকদিন আগে থেকেই চলে ভাষার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচী। ক্রমশই ভাষার দাবিতে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। এ অবস্থায় ২১ ফেব্রæয়ারির ধর্মঘটের প্রস্তুতি দেখে সরকার বুঝতে পারে তাঁদের অবস্থা ক্রমশই বেগতিক হচ্ছে। নাজিমুদ্দিন সরকার ভাষার আন্দোলনকে দমানোর জন্য ২০ ফেব্রæয়ারি ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করার ঘোষণা দেন। এদিকে সংগ্রাম পরিষদ এবং সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা পরিষদ ১৪৪ ধারার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আলাপ-আলোচনা শুরু করে দেয়। ২০ ফেব্রæয়ারি সন্ধায় নবাবপুর রোডে আওয়ামী মুসলিম লীগের কার্যালয়ে এক সভার আহŸান করা হয়। সভায় মূল আলোচনার বিষয়ে পরদিন ২১ ফেব্রæয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ হবে কি-না? সভায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি আলোচনা করে আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন। পরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিষয়টি ভোটে দেয়া হয়। সেখানে ১১ জন ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার পক্ষে রায় দেয়। মোহাম্মদ তোয়াহা ভোটদানে বিরত থাকেন।
অপরদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেলের ভেতর থেকে ভাষাসৈনিক গাজীউল হকের নিকট এক ঐতিহাসিক চিঠি লেখেন। ওই চিঠিতে তিনি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ছাত্র সমাজকে আহবান জানান।
২১ ফেব্রæয়ারি সকালে দলে দলে এসে জমায়েত হতে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন প্রাঙ্গণে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তাতে খাকী হাফপ্যান্ট পরা পুলিশের দল এসে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ায়। তাঁরা কাউকে বের হতে দেবে না। পরিষদ ভবনের দিকেও যেতে দেবে না। ১৪৪ ধারা কোনক্রমেই ভাঙতে দেবে না। কিন্তু ছাত্ররা তা মানবে না। ভাষাসৈনিক গাজীউল হকের সভাপতিত্বে আমতলায় সভা শুরু হয়।

১৪৪ ধারা ভাঙ্গার সিদ্ধান্তের পর ১০ জন ১০ জন করে দলে দলে ছাত্ররা রাস্তায় বের হয়। বিভিন্ন সেøাগান সহকারে ছাত্ররা দলে দলে এগুতে থাকে ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে। পুলিশ গিয়ে মিছিল থেকে ছাত্রদের ধরে ট্রাকে তুলে লালবাগ থানায় নিয়ে যেতে থাকে। এতেও মিছিল দমেনি বরং ক্রমশই মিছিল আরও বড় হতে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ মিছিলে আক্রমণ চালিয়ে লাঠিচার্জ টিয়ার গ্যাসসহ গুলিবর্ষণ শুরু করে। বেলা ৩-১০ মিনিটের সময় ঢাকার বুকে ঘটে যায় নারকীয় ঘটনা। পুলিশ কোন রকম পূর্ব সঙ্কেত ছাড়াই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোরাইশীর নির্দেশে পুলিশ গুলি চালায় মিছিলে। তাতে আবুল বরকত, জব্বার, রফিক, সালাম, সালাউদ্দিন শহীদ হন এবং আহত হন ৯৬ জনের মতো।
এভাবে নির্মম নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েও বাংলার মানুষকে দমন করতে পারেনি পাক সরকার। বরং একুশের চেতনাকে ধারণ করে বাংলার মানুষ পাক শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভাষার আন্দোলনকে পরিণত করে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার আন্দোলনে। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রæয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে একুশের প্রথম বার্ষিকী পালন করা হয়। এ দিনের স্মরণে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি ভাষণ দেন। ওই ভাষণে তিনি বাংলা ভাষার গুরুত্বের পাশাপাশি স্বাধিকারের গুরুত্ব দেন। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের একজন মন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলা ভাষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেন। তিনি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার সঙ্গে সঙ্গে বাংলার স্বাধিকারের দাবিও তোলেন।
১৯৫৬ সালে গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জোর দাবি তোলেন। এ বছরেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি প্রদান করা হয় সাংবিধানিকভাবে। এ ভাবেই ভাষার লড়াইকে পর্যায়ক্রমে স্বাধিকার এবং স্বাধীনতার সংগ্রামে রূপ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর আহŸান ও নেতৃত্বে ৬৬ সালের ৬ দফার আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের ছাত্র গণআন্দোলন, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন, সর্বোপরি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে। সশস্ত্র ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্বাধীনতা লাভের পর বঙ্গবন্ধু বাংলা ভাষার উন্নয়ন ও প্রসারের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেন। অফিস-আদালতসহ জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলন ও ব্যবহারের নির্দেশ দেন। ১৯৭২ সালের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মর্যাদা দেয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলা ভাষাকেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদের সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। তাই স্বাধীন রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি ১৯৭৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলা ভাষায় প্রথম ভাষণ দেন। এ ভাষণের মাধ্যমে তিনি বিশ্ব দরবারে বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। তিনি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে বিকশিত করে বাঙালী জাতীয়তাবাদী চেতনাকে শক্তিশালী করেন। তার এই ঐতিহাসিক ভ‚মিকা বাংলা ও বাঙালীর ইতিহাসে সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র। তারা ক্ষমতা দখল করেই একুশের চেতনাভিত্তিক গড়ে ওঠা বাঙালী জাতীয়তাবাদী চেতনার ভাবধারার ওপর আঘাত হানে।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে পুনরায় বাঙালী জাতীয়তাবাদী ভাবধারাকে বিকশিত করার কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তিনি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলা ভাষায় ভাষণ দেন। ফলে বাংলা ভাষা ও ২১ ফেব্রæয়ারি বিশ্ব দরবারে ব্যাপক মর্যাদা লাভ করে।
মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার চেষ্টায় বাঙালীর ভাষা দিবস একুশ ফেব্রæয়ারি ও বাংলা ভাষার আবেদন সারা বিশ্বে যখন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন পাকিস্তানী ভাবধারায় বিশ্বাসী একটি মহল খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার নামে ভাষা দিবস ও বাঙালীর শিল্প সংস্কৃতির বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এসব যড়যন্ত্র প্রতিহত করে আমাদের ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাঙালী জাতিকে সুসংগঠিত হতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাঙালি জাঁতি উন্নত সমৃদ্ধ জাঁতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে। এটাই হোক এবারের একুশের শপথ। (সংক্ষেপিত)

নির্বাচনে সংঘাতের আশঙ্কা
                                  

বাংলাদেশে যেকোনো নির্বাচনই উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এলাকায় প্রার্থীদের জনসংযোগ, কর্মী-সমর্থকদের নানামুখী প্রচার-প্রচারণায় মুখর থাকে নির্বাচনী এলাকাগুলো। পাড়া-মহল্লায় গড়ে ওঠা নির্বাচনী অফিসে বাজে গানের সিডি। মিছিল-স্লোগানে মুখর হয় এলাকা। আবার এই নির্বাচন ঘিরে এক শ্রেণির অপরাধীচক্রও সক্রিয় হয়ে ওঠে। নির্বাচনে কালো টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহারও নতুন কিছু নয়। আত্মগোপনে থাকা অপরাধীরা এলাকায় ফিরতে শুরু করে। কোনো কোনো এলাকায় সাধারণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। খুব সামান্য কারণে একপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের আক্রমণের শিকার হতে হয় প্রতিপক্ষকে। সম্প্রতি মোহাম্মদপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের দুই মনোনয়নপ্রত্যাশীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুই কিশোর নিহত হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় তার নমুনা দেখা গেছে। বিএনপি অফিসের সামনে তুচ্ছ ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পুলিশের গাড়ি। এসব সংঘাতের ঘটনায় সাধারণত প্রতিপক্ষের ওপর দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়। যেমনÑনয়াপল্টনের ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে দায় চাপানো হয়েছে পুলিশের ওপর।
নির্বাচন সামনে রেখে এই দুটি ঘটনার মধ্য দিয়েই সংঘাত-সংঘর্ষের অবসান হবেÑএমন নিশ্চয়তা একেবারেই দেওয়া যায় না। বরং বলা যেতে পারে এটা সূচনা মাত্র। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি টানা ১০ বছর ক্ষমতার বাইরে। গত পাঁচ বছর সংসদেরও বাইরে রয়েছে দলটি। ফলে দলটির কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি প্রার্থীরাও এবার ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হবেন মরিয়া হয়ে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় তাদের নেতাকর্মীদের মধ্যেও প্রবল আশাবাদ জন্ম নিয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকমহলের আশঙ্কা, নির্বাচনের মাঠে প্রভাব বজায় রাখতে সব দলই নিজেদের শক্তির মহড়া দিতে পারে। এই সুযোগে নতুন করে মাঠে নামতে পারে পেশিশক্তি ও অপরাধীচক্র। একই সঙ্গে উপেক্ষা করা যায় না উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িক, জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থানের আশঙ্কাও। স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনের আগে-পরে বড় ধরনের সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা দানা বাঁধছে জনমনে। যেমনটি দেখা গিয়েছিল ২০০১ সালের নির্বাচনের পর দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর আঘাত করা হয়েছিল। সেই একই আশঙ্কা এবারও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আবার ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে যেসব ঘটনা ঘটে, তার পুনরাবৃত্তি হতে পারেÑএমন আশঙ্কাও রয়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকমহলে।
অতীতের ঘটনাগুলো মাথায় রেখেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিজেদের ইতোকর্তব্য স্থির করবে বলে আমরা আশা করি। আসন্ন নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে হোকÑএটাই সবার চাওয়া। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পলাতক দাগি আসামিরা যাতে এলাকায় ফিরতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। যেকোনো সন্ত্রাসী কর্মকা- প্রতিহত করতে সঠিক নির্দেশনাও আগে থেকে দিতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এখন থেকেই সমন্বিত অভিযান চালানো প্রয়োজন।

চামড়া পাচার বন্ধে সীমান্তমুখী যানবাহন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ
                                  

অনলাইন ডেস্ক :

কোরবানির পশুর চামড়া যাতে দেশ থেকে পাচার হতে না পারে সেজন্য ঈদের পর সীমান্তমুখী চামড়াবাহী সব ধরনের যানবাহন চলাচলের ওপর এক সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই সাথে সড়ক-মহাসড়কে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়েও বিশেষ অভিযান চালানো হবে। চেকপোস্টগুলোতে চামড়াবাহী প্রতিটি যানবাহনের নম্বর, চালকের মোবাইল নম্বর ও ছবি তুলে রাখাসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে রাখা হবে। চামড়াবাহী যানবাহনকে সাভারের চামড়া শিল্প নগরীর দিকে পাঠানো হবে। যেসব যানবাহন যেতে অনাগ্রহ দেখাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। মূলত আগামী ২০২১ সাল নাগাদ চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা আয় করার লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্যই এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টাস্কফোর্স পুরো বিষয়টি মনিটরিং করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সারাদেশে ছোট বড় প্রায় ৩শ’ চামড়া প্রস্তুতকারী কারখানা রয়েছে। তারমধ্যে ঢাকাতেই ২৬৫টি। বাকিগুলো ঢাকার বাইরে। উচ্চ আদালতের নির্দেশের পর বেশিরভাগ কারখানাই সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে চলে গেছে। প্রতিবছর ঈদ-উল-আজহায় সারাদেশে এক কোটি প্রাণী কোরবানি হয়। অধিকাংশ চামড়াই এক সময় ঢাকায় আসতো। এখন সাভারে ট্যানারি শিল্প গড়ে ওঠায় চামড়া সেখাবে যাবে। তাছাড়া বেশকিছু চামড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় থাকা চামড়া প্রস্তুতকারী কারখানায় যায়। সরকারের পক্ষ থেকে এবার বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চামড়া পাচাররোধে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সেজন্য নিয়মিত সড়ক মহাসড়কে, রেলস্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনালেও চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হবে। আর বেআইনিভাবে চামড়া বেচাকেনা ও পাচারকারীদের শাস্তি দিতে মাঠে থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে রফতানিকারক পণ্যের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে তৈরি পোশাক। দ্বিতীয় অবস্থানে হিমায়িত মাছ। আর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে ৫০ কোটি ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার ও ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে সাড়ে ৬২ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। আর ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে বৈদেশিক আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় একশ’ কোটি ডলার। বাণিজ্যমন্ত্রী ২০২১ সাল এ লক্ষ্য মাত্রা ৪০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছেন।
সূত্র আরো জানায়, চামড়া পাচার রোধে রাজধানীর চারদিকে ১৪টি জায়গায় চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে। ওসব চেকপোস্ট বসছে পোস্তা, লালবাগ, হাজারীবাগ, সোয়ারীঘাট, সদরঘাট, আশুলিয়া বেড়িবাঁধ, আমিনবাজার, গাবতলী, সাভার, সাভারের বলিয়ারপুর, আব্দুল্লাহপুর, যাত্রাবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায়। সাভারের বলিায়ারপুরের চেকপোস্টটি পরিচালনা করবে ঢাকা জেলা পুলিশ। গাজীপুরের জয়দেবপুর চৌরাস্তা, মানিকগঞ্জ, মাওয়া ফেরিঘাট, কাঁচপুর ব্রিজসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সুলতানা কামাল ব্রিজ এলাকায়ও চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে। তাছাড়া রেলস্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনালেও চেকপোস্ট বসানো হবে। পাশাপাশি চামড়া পাচার রোধে সারাদেশে বিশেষ অভিযান চালাবে র‌্যাব। একই সাথে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও।
এদিকে চামড়া পাচার প্রসঙ্গে হাইওয়ে পুলিশ প্রধান উপ-মহাপরিদর্শক আতিকুল ইসলাম জানান, সারাবছর জুড়েই চামড়া পাচারের চেষ্টা হয়। সেজন্য সারাবছরই চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এবার চেকপোস্টে দায়িত্বরতদের চামড়াবাহী যানবাহনকে সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে পাঠানোর কড়া নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর চামড়াবাহী যানবাহনগুলোকে সীমান্তের দিকে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যারা এমন নির্দেশ অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঈদের পর টানা এক সপ্তাহ সারাদেশে চামড়া পাচাররোধে বিশেষ অভিযান ও নিরাপত্তা এবং চেকপোস্ট ব্যবস্থা জোরদার থাকবে।
অন্যদিকে একই প্রসঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ সাফিনুল ইসলাম ইতোমধ্যেই সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিজিবিকে চামড়া পাচার রোধে সীমান্তে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।

শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিন আজ
                                  

অনলাইন ডেস্ক :

শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিন আজ বুধবার। ১৯৭৫ সালের এ মাসেই বাঙালি হারিয়েছে তার হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট কালরাতে ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল এবং পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এই ঘৃণ্যতম হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মনি, তার সহধর্মিনী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন। এরপর ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড ছুঁড়ে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল জাতির জনকের কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে গেলেও এই ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো: জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী, আওয়ামী লীগের ওই সময়ের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। ৭৫’র ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপদগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নোবেল জয়ী পশ্চিম জার্মানীর নেতা উইলি ব্রানডিট বলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যেকোন জঘন্য কাজ করতে পারে। ভারত বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ সি চৌধুরী বাঙালিদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরা হয়েছে। দ্য টাইমস অব লন্ডন-এর ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় বলা হয় ‘সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সবসময় স্মরণ করা হবে। কারণ তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই। একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় লেখা হয়, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকান্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।’ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচারের রায় কার্যকর করে জাঁতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। একইভাবে বাঙালির আত্মঘাতী চরিত্রের অপবাদেরও অবসান ঘটেছে। টেলিগ্রাফ পত্রিকার মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পত্রিকাটি সেদিন সুদূরপ্রসারী মন্তব্য করেছিল। দেশের মানুষ এখন অনুধাবন করতে পারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নস্যাৎ করে দেশে পাকিস্তানি ভাবধারা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী এবং দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। প্রতিবারের মত এবারও ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে আগস্টের প্রথম দিন থেকেই শুরু হচ্ছে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর মাসব্যাপি কর্মসূচি। শোকের মাসের প্রথম দিন মধ্য রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথম প্রহরে আলোর মিছিলের মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী কর্মসূচির সূচনা ঘটবে। মিছিলটি ধানমন্ডি ৩২নং সড়কে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর অভিমুখে যাত্রা করবে। আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ এ আলোর মিছিলের আয়োজন করেছে। শোকের মাসের প্রথম দিন আজ বুধবার বঙ্গবন্ধু সমাজ কল্যাণ পরিষদ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহনও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আমরা সূর্যমুখী ’ বিকাল পাঁচটায় জাতীয় জাদুঘর সিনেপ্লেক্স মিলনায়তনে ‘বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন : গণমানুষের উন্নয়ন’ র্শীষক আলোচনা সভা ও আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এ মাসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলতুন্নেসা মুজিব, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামালের জন্মদিন পালন, ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা এবং ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা দিবস স্মরণ। পনেরই আগস্টের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- এদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসহ বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন এবং সশস্ত্র বাহিনী গার্ড অভ্ অনার প্রদান করবে। এছাড়া ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। পরে ঢাকার বনানী কবরস্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার পরিবারের শাহাদত বরণকারী সদস্য ও অন্য শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ এবং দোয়া করবেন। সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ জেলার টুংগীপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এ ছাড়া সেখানে ফাতেহা পাঠ, সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার এবং মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি সমাধিস্থলে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

অগ্নিঝরা মার্চ মাস শুরু
                                  

অনলাইন ডেস্ক :

অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম দিন আজ বৃহস্পতিবার। বাঙ্গালির জীবনে নানা কারণে মার্চ মাস অন্তনির্হিতি শক্তির উৎস। এ মাসেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিববর রহমান। এর আগে তিনি পাকিস্তানি শাসকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, সাতকোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। মরতে যখন শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না। রক্ত যখন দিয়েছি, আরো দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো- ইনশাল্লাহ। এবাররে সংগ্রাম আমাদের মুিক্তর সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা। ১৯৭১ এর ৭ মার্চ সাবেক রেসর্কোস ময়দান- আজকের সোহরাওর্য়াদী উদ্যানে দেয়া এই ঐতিহাসিক ভাষণের সময় মুহুর্মূহু গর্জনে উত্তাল ছিল জনসমুদ্র। লক্ষ কন্ঠের একই আওয়াজ উচ্চারতি হতে থাকে দেশের এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে।। ঢাকাসহ গোটা দেশে পত পত করে উড়ছিল সবুজ জমিনের উপর লাল সূর্যের পতাকা। গত বছরের (২০১৭ ) ৩০ অক্টোবর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা প্যারিসের ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে এই স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। ইউনেস্কোর পক্ষথেকে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণটি মেমোরি অব দ্য ওয়াল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইউনেস্কো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্যের তালিকা সংরক্ষণ করে থাকে। মেমোরি অব দ্য ওয়াল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারের অন্তর্ভুক্ত প্রামাণ্য ঐতিহ্যের তালিকা বিশ্ব প্রেক্ষাপটে গুরুত্ববহ। ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারের লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা এবং বিশ্ববাসী যাতে ঐতিহ্য সম্পর্কে সহজে জানতে পারে তা নিশ্চিত করা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতির পর এবারের মার্চমাসে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালনে যোগ হবে নতুন মাত্রা। আওয়ামী লীগ ৭ মার্চ উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহন করেছে। অন্যদিকে এ মাসেই জাঁতি এবার পালন করবে মহান স্বাধীনতার ৪৭ বছর। এ উপলক্ষে মাসের প্রথম দিন থেকেই শুরু হবে সভা সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নানা আয়োজনে মুখরিত থাকবে গোটা দেশ। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার জন্য যে আগুন জ¦লে উঠছেলি- সে আগুন যেন ছড়িয়ে পরে বাংলার সর্বত্র। এর পরে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ এর ছয়দফা এবং ঊনসত্তরের গণঅভ্যুথানের সিঁড়ি বেয়ে একাত্তরের মার্চ বাঙ্গালীর জীবনে নিয়ে আসে নতুন বারতা। এ বছরের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। এর আগে ২৫ মার্চ রাত একটার অল্প পরে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানি সন্যরা গ্রেফতার করে তার বাড়ি থেকে। ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানিরা বাঙ্গালীর কন্ঠ চিরতরে স্তব্দ করে দেয়ার লক্ষ্যে অপারশেন সার্চলাইট নামে বাঙ্গালি নিধনে নামে। ঢাকার রাস্তায় বেরিয়ে সন্যরা নির্বিচিারে হাজার হাজার লোককে হত্যা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্নি শিক্ষা প্রতষ্ঠিানে হামলা চালিয়ে ছাত্র-শিক্ষককে হত্যা করে। এর পরের ঘটনাপ্রবাহ প্রতিরোধের ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর আহবানে ঘরে ঘরে র্দূগ গড়ে তোলা হয়। আবালবৃদ্ধবনিতা যোগ দেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। র্দীঘ নয়মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বের বিজয় অর্জনের মধ্যদিয়ে জাঁতি লাভ করে স্বাধীনতা।

পতাকা উত্তোলন দিবস ২ মার্চ: আগামীকাল ২ মার্চ শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পতাকা উত্তোলন দিবস’ পালিত হবে। শুক্রবার বেলা ১০টায় ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কলা ভবন সংলগ্ন ঐতিহাসিক বটতলা প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। দিবসটির তাৎপর্য নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও সংগীত পরিবেশনের আয়োজন করা হয়েছে। উল্লেখ্য,১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সংগ্রামী ছাত্র সমাজের উদ্যোগে কলাভবন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়, যা মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণার উৎস ছিল।

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো
                                  

গাজীউল হক ‘একুশের গান’ কবিতায় লিখেছেন-‘ভুলবো না ভুলবো না ভুলবো না/সে একুশে ফেব্রæয়ারি ভুলবো না/ লাঠি গুলি টিয়ারগ্যাস মিলিটারি আর মিলিটারি ভুলবো না’। ভাষা সৈনিক গাজীউল হক ছিলেন রাষ্ট্রভাষা সংগ্রামের অন্যতম একজন নেতা। তিনি কবিতায় একুশে ফেব্রæয়ারিকে এমন আবেগেই দেখেছেন। আবার দ্রোহের আগুন তাঁর বুকের মধ্যে দাউ দাউ করে জ¦লেছে। এই আগুনের ফুলকি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সারা বাংলায়।

বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়ার প্রশ্নটি উত্থাপিত হয় ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের আগে থেকেই। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পূর্বেই আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. জিয়াউদ্দিন উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব করেন, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ পাল্টা বাংলা ভাষার প্রস্তাব দেন। বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক ভাষার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসে ‘গণআজাদী লীগের’ (পরবর্তীতে সিভিল লিবার্টি লীগ)- পক্ষ থেকে ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে। তাঁরা তাঁদের দাবির পক্ষে জোর প্রচার চালায়। সে সময়ের সংবাদপত্রগুলো পাকিস্তানে বাংলা ভাষার সম্ভাবনা নিয়ে বুদ্ধিজীবীদের কলাম এবং নিবন্ধ একের পর এক প্রকাশ করে।
১৯৪৭ সালের ২২ জুন দৈনিক ইত্তেহাদে প্রকাশিত আবদুল হকের কলাম ছিল প্রথম। ২৯ জুলাই মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নিবন্ধটি ছিল বিরাজমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এ সব নিবন্ধের অধিকাংশের বিষয়বস্তু ছিল বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক ভাষার মর্যাদা দেয়া প্রসঙ্গে। ১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান গণতান্ত্রিক যুব লীগের এক সভায় একই দাবি উত্থাপিত হয়। ভারত বিভাগকালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তাঁর নিজ হাতে গড়া দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৯৪৬ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত এই পত্রিকা অল্প কয়েকদিনেই মানুষের মন জয় করে। এ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আবুল মনসুর আহমদ এবং সোহরাওয়ার্দীর ভাবশিষ্য তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত এ পত্রিকার পরিচালনা বোর্ডের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রবন্ধকার আব্দুল হকের ‘বাংলা বিষয়ক প্রস্তাব’, ‘উর্দু রাষ্ট্রভাষা হলে’, মাহাবুব জামালের ‘রাষ্ট্রভাষা বিষয়ক প্রস্তাব’সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ এ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এছাড়া পূর্ব বাংলার প্রথম পর্বের ভাষা আন্দোলনের অনেক খবর গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ হতো নিয়মিতভাবে। যে কারণে বিভিন্ন সময়ে দৈনিক ইত্তেহাদ পূর্ব বাংলায় আসতে বাধাগ্রস্ত হয়।
১৯৫০ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার লক্ষ্যে নতুন সংগঠন তমদ্দুন মজলিশ একটি বই প্রকাশ করে যার নাম ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা নাকি উর্দু?’ বইটিতে তিন জনের লেখা ছিল, তাঁরা হলেন, অধ্যক্ষ আবুল কাশেম, আবুল মনসুর আহমদ ও কাজী মোতাহার হোসেন। তাঁরা এ বইয়ে বাংলা ও উর্দু উভয়কেই রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়ার সুপারিশ করেন। তাঁরা ফজলুল হক মুসলিম হলে ১২ নবেম্বর একটি সভা করেন। এই সভার আগে পূর্ব বঙ্গ সাহিত্য সমাজ ৫ নবেম্বর এ সংক্রান্ত একটি সভা করেছিল।
বাংলা ভাষা আন্দোলন ছিল তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলাদেশ) সংঘটিত একটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন। মৌলিক অধিকার রক্ষাকল্পে বাংলা ভাষাকে ঘিরে সৃষ্ট এ আন্দোলনের মাধ্যমে তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণ দাবির বহির্প্রকাশ ঘটে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রæয়ারিতে এ আন্দোলন চ‚ড়ান্ত রূপ ধারণ করলেও বস্তুত এর বীজ বপন হয়েছিল বহু আগে, অন্যদিকে এর প্রতিক্রিয়া এবং ফল ছিল সুদূরপ্রসারী। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্তে¡র ভিত্তিতে ব্রিটিশ ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তানের উদ্ভব হয়। কিন্তু পাকিস্তানের দুটি অংশ- পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক ও ভাষাগত দিক থেকে অনেক মৌলিক পার্থক্য বিরাজ করছিল। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করে যে, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এ ঘোষণার প্রেক্ষাপটে পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থানকারী বাংলাভাষী সাধারণ জনগণের মধ্যে গভীর ক্ষোভের জন্ম হয় ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। পূর্ব পাকিস্তান অংশের বাংলাভাষী মানুষ আকস্মিক ও অন্যায্য এ সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেনি এবং মানসিকভাবে মোটেও প্রস্তুত ছিল না। ফলস্বরূপ বাংলাভাষার সম-মর্যাদার দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানে আন্দোলন দ্রæত দানা বেঁধে ওঠে। আন্দোলন দমনে পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে ঢাকা শহরে সমাবেশ-মিছিল ইত্যাদি বেআইনী ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় এসে বাংলা একাডেমী গঠন করে। এ প্রতিষ্ঠান বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের সংরক্ষণ, গবেষণা ও মান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করবে বলে গঠনতন্ত্রে উল্লেখ করা হয়। যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই পাকিস্তানের গবর্নর জেনারেল মালিক গোলাম মাহমুদ ১৯৫৪ সালের ৩০ মে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার বাতিল ঘোষণা করে। ১৯৫৫ সালের ৬ জুন যুক্তফ্রন্ট পুনর্গঠন করা হয়; যদিও আওয়ামী লীগ মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেয়নি। ১৯৫৬ সালের পর সরকারী ভাষার বিতর্ক সম্পন্ন হয়, কিন্তু আইয়ুব খানের সামরিক শাসন পাকিস্তানের পাঞ্জাবী ও পশতুনদের দেনাগুলো বাঙালীদের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়। জনসংখ্যার দিক থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্তে¡ও সামরিক এবং বেসামরিক চাকরির ক্ষেত্রে বাঙালীদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। এছাড়া জাতীয় রাজস্ব এবং সরকারী সাহায্যের দিক থেকেও বাঙালীদের প্রাপ্ত অংশ ছিল খুবই কম। জাতিগতভাবে পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে বাঙালীদের এ বৈষম্যের ফলে চাপা ক্ষোভ জন্ম নিতে থাকে। এরই প্রভাব হিসেবে আঞ্চলিক স্বার্থসংরক্ষণকারী রাজনৈতিক দল হিসেবে বাঙালী জাতীয়তাবাদী আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের সমর্থন নিরঙ্কুশভাবে বাড়তে থাকে। এর ফলেই পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আরও বড় অধিকার আদায় ও গণতন্ত্রের দাবিতে ছয় দফা আন্দোলন শুরু করে। এ আন্দোলনই পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের আকার ধারণ করে। অবশেষে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের জন্ম হয়।

আঞ্চলিক কূটনীতি রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে
                                  

মেজর জেনারেল মো. আবদুর রশীদ (অব) :

রোহিঙ্গা শরণার্থী ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে ১৯ ডিসেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমার কর্মপরিধি নির্ধারণসহ জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের চুক্তি স্বাক্ষর করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পথকে প্রসারিত করলো। আশঙ্কা পুরোপুরি মুক্ত না হলেও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে আর একধাপ অগ্রগতি হলো। গত ২৩ নভেম্বরে দুই দেশের মধ্যে প্রথম সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠিত হলো। উভয় দেশ থেকে ১৫ জন নিয়ে মোট ৩০ সদস্যের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদ প্রত্যবাসনের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করবে। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তিন সপ্তাহের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের কথা থাকলেও তা একটু দেরি হলেও অবশেষে বাস্তবতার মুখ দেখায় রাখাইন রাজ্য থেকে আসা রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তাসহ নিজ দেশে ফেরত যাবার সুযোগ সৃষ্টি হলো। ২৩ জানুয়ারি থেকে প্রত্যাবাসন শুরুর অঙ্গীকার নিয়ে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ শুরু করবে। যদিও অনেক কাজ বাকি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও আশার আলো অনেক বেশি। অতীতের আচরণগত অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে অনেকেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সাময়িকভাবে নমনীয় মিয়ানমার সময় ক্ষেপণের পথে হাঁটবে। চাপ কমে গেলে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে না মিয়ানমার। বিশ্বাস ও আস্থার জায়গাটা প্রশস্ত করতে অনেক পথ হাঁটতে হবে। মিয়ানমার প্রতিবেশী হলেও দুই দেশের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব না কমার পেছনে রোহিঙ্গা ইস্যুটি অনেক আগে থেকেই প্রতিবন্ধক হয়ে আছে।
চীন, রাশিয়া ও ভারতের মতো বন্ধু দেশগুলো মিয়ানমারকে সুরক্ষা দিতে বেশি আগ্রহী মনে হলেও রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে তারাও নীতিগতভাবে একমত ছিল। রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোকে জায়গা করে দিতে তাদের আপত্তি বাংলাদেশকে কিছুটা হলেও বিপাকে ফেলেছিল। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মাইলেজ নেবার প্রতিযোগিতার ফলে মানুষের মনে সন্দেহের বীজ রোপিত হয়েছে। বাতাস ছড়ানো হয়েছে যে, রোহিঙ্গাদের কখনই ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে না। বাংলাদেশের কূটনীতিকদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ২৫ আগস্টের পর থেকে ছয় লাখ ৫৫ হাজার আরাকানি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে, ২০১৬ সালের অক্টোবর সহিংসতার পর এসেছিল ৮৭ হাজার। তার আগে বিভিন্ন সময়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা হবে প্রায় দুই লাখ ৭০ হাজার। প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার দায়ভার বাংলাদেশকে নাজুক অবস্থার মধ্যে ফেলেছে। সংকটের উত্তরণ ঘটাতে না পারলে আগামি সাধারণ নির্বাচনে রোহিঙ্গা ইস্যু প্রচারণার খোরাক হবে।
আরাকানি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের এদেশে আশ্রয় দেয়াই অনেক ঝুঁকির জন্ম হয়েছে। বাংলাদেশের পূর্ব সীমান্তে জনমিতির ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিনষ্ট হয়ে সামাজিক অস্থিরতা ও সাম্প্রদায়িক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। অর্থনীতির চাপের সঙ্গে পরিবেশের উপর চাপ বেড়ে সহনীয় মাত্রা অতিক্রম করছে। আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধচক্রে জড়িত হয়ে রোহিঙ্গাদের নিরীহ ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হবার সম্ভাবনা বাড়ছে। ধর্মীয় জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট করার জন্য অনেক দেশি-বিদেশি অশুভ চক্র তৎপর রয়েছে। আরসা নামের জঙ্গি সংগঠনের কথা ছড়িয়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জাঁতি নিধনের পাঁয়তারা বিশ্বের কাছে হালে পানি না পেলেও আরসা সন্ত্রাসী হামলাকে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় সমানভাবে নিন্দা করেছে, যেমন করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে এবং গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে সুবিদিত অঘোষিত রাষ্ট্রপ্রধান অং সান সুচিকে। তার সম্মানের মুকুটগুলো একে একে ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে। তবুও নতুন গণতন্ত্রকে বিপাকে না ফেলতে পশ্চিমা বিশ্ব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে এখনও দ্বিধান্বিত। রোহিঙ্গাদের জিহাদি মতাদর্শে উজ্জীবিত হবার আশঙ্কা অনেক বেশি, কেননা অধিকার বঞ্চিত এবং স্বজনহারা মানুষের মনস্তত্ত্বকে উগ্রবাদে ধাবিত করা অনেক সহজ। রোহিঙ্গাদের প্রলম্বিত উপস্থিতি শুধু বাংলাদেশ নয় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থিতিশীলতা বিনষ্টের জন্য হুমকি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও নিজ বাস্তুভিটাতে ন্যায্য অধিকার নিয়ে বাস করার নিশ্চিত পরিবেশ সৃষ্টির গুরুত্ব অপরিসীম। তার দায় বাংলাদেশের একার নয়।
নিরাপদ, টেকসই ও দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের কাছে অনেকগুলো বিকল্প থাকলেও দ্রুত সমাধানের পথ নিয়েই বাংলাদেশ এগুতে চাইছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের সিদ্ধান্ত বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে অনেক সম্মান ও গৌরব এনে দিয়েছে। বিশ্ব মানবতার দায় কাঁধে নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকে কিছুটা হলেও চমকে দিয়েছে। ফলে রোহিঙ্গা সমস্যা উত্তরণে বিশ্ব যেন বাংলাদেশের সঙ্গে একাত্ম হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট উত্তরণে বিশ্বকে দুটি বলয়ে বিভাজিত দেখা যাচ্ছে। সংকট উত্তরণের কৌশল ও উপায় নিয়ে জাতিসংঘকে ব্যবহার করে বহুপাক্ষিক অংশগ্রহণ চীন, ভারত ও রাশিয়ার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। মিয়ানমারের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কের ভবিতব্য নিয়ে শঙ্কিত দেশগুলো মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের মুখোমুখি হতে দিতে নারাজ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মুসলিম দেশ বাদে অন্যরা হয় প্রতিবেশী না হয় ধর্মযোগের কারণে মিয়ানমারকে শক্ত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারের জাঁতি নিধনের নির্দয় ও নৃশংস কৌশল বিশ্ব ধিক্কারের মুখে পড়ে অধিকাংশ দেশের সমর্থন হারিয়েছে। গুটিকয়েক দেশ মিয়ানমারকে সুরক্ষা দিলেও বিশ্ব নিন্দার মুখে নিজেরাই বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়ে পড়ছে। নিরাপত্তা পরিষদে ক্রমাগত ভেটো দিয়ে টিকে থাকা যাবে না মনে করে চীন সংকট নিরসনে দ্বিপাক্ষিকতার রাস্তা বেছে নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নিয়ে মাঠে নামে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৩৫টি দেশের সমর্থন নিয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাস বাংলাদেশের কূটনীতি ও পদক্ষেপের জয়ের ইঙ্গিত বহন করে। প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া ১০টি দেশ অত্যন্ত বিব্রত বোধ করেছে। ২৬টি দেশ ভোটদানে বিরত থেকে বিশ্ব থেকে কিছুটা হলেও নিজেদের বিচ্ছিন্ন করেছে। ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে চীনের অব্যাহতভাবে মিয়ানমারের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন দেখা গেলেও কূটনীতির পর্দার অন্তরালে রোহিঙ্গা সংকট উত্তরণের উপায় খুঁজতে দেশটি বেশ তৎপর। আন্তর্জাতিকভাবে প্রত্যাখ্যাত অবস্থান চীনের বৈশ্বিক স্বার্থকে ক্ষুণœ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্র্যাম্প যেমন এককভাবে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়ে বিপাকে পড়েছে। শিষ্টাচার উপেক্ষা করে শাসিয়ে ৩৩টি দেশকে ভোট দানে বিরত রাখতে পারলেও ইউরোপীয় মিত্রসহ ১২৮টি দেশ জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী করার বিপক্ষে ভোট দিয়ে পরাশক্তির আধিপত্যবাদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। মিত্রদের  পরিত্যাগ করে একলা চলার নীতি টেকসই হয় না বরঞ্চ বিশ্বকে অস্থিতিশীল করার আশঙ্কা বাড়িয়ে তোলেÑ সেটা সুস্পষ্ট করেছে ট্রাম্পের একগুঁয়েমি কৌশল।
মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে অনুষ্ঠিত এশিয়া ইউরোপের বিদেশ মন্ত্রীদের সম্মেলন হয় ২০-২১ নভেম্বর। প্রতিটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যু এজেন্ডাতে না থাকলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে। আসেম সম্মেলনেও হবে নিশ্চিত জেনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা আসেন রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক নিয়ে কোনো প্রেস ব্রিফিং না হলেও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট ১৭ নভেম্বর সংখ্যায় প্রকাশ করে যে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে যাচ্ছেন বেইজিং-এর আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা শরণার্থীর গভীর সংকট নিয়ে দূতিয়ালি করতে। তিনি মিয়ানমার গমন করেন। তিনি সেখানে তিন দফার একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তারপর থেকেই পরিস্থিতি মোড় ঘুরতে শুরু করে। রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ গমন বন্ধ করা, বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের ফেরত আনা ও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ছিল প্রস্তাবের সার-সংক্ষেপ। রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে অস্বীকারে থাকা মিয়ানমার হঠাৎ করেই বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতায় মেতে ওঠে এবং প্রত্যাবাসন স্মারক সই হয়। তার পরপরই মিয়ানমারের সেনাপ্রধানকে বেইজিং সফর করতে দেখা যায়। তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং-এর সাক্ষাৎ পান। চীনের একদলীয় শাসনের একসময়ের সমালোচক  ও গণতন্ত্রী নেতা অং সান সু চি’কেও চীন সফরে দেখা যায়। সপ্তাহের মধ্যেই তিনি আবার চীনে গমন করেন। রোহিঙ্গা নিধন ও আন্তর্জাতিক চাপ চীনকে মিয়ানমারের অনেক কাছে নিয়ে এসেছে বলে মনে হয়। আন্তর্জাতিক শাসানি থেকে বাঁচতে চীনের সমর্থন মিয়ানমারের খুব প্রয়োজন এবং চীনের প্রভাব মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর হবে এই মুহূর্তে। বাংলাদেশ সুযোগ হাতছাড়া করেনি এবং চীনের অপ্রত্যক্ষ দূতিয়ালি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে বাস্তবে রূপ দিতে পারবে। রোহিঙ্গা থেকে আঞ্চলিক ঝুঁকি ঘনীভূত হবার আগে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের মনোভাব সুস্পষ্ট ও ইতিবাচক ছিল। চীনের দূতিয়ালিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরুর সাথে ভারতের কূটনীতিও সক্রিয় হতে দেখা গেছে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জয়শঙ্কর মিয়ানমার সফর করেন এবং অং সান সু চি এবং সেনবাহিনী প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং লায়েং-এর সঙ্গে আলোচনায় বসেন। আরাকান অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভারতের সহযোগিতার আগ্রহ অনেক আগে থেকেই ছিল এবং ২৫ মিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা সমঝোতা স্মারক সই হয় যেখানে প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড বসতবাড়ি ফেরত আসা রোহিঙ্গাদের আবাসনের জন্য সরবরাহ করবে ভারত। রাখাইন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ও বাস্তুচ্যুতদের ফিরিয়ে আনার পথ প্রশস্ত করা ছিল এই সহযোগিতার মূল লক্ষ্য।
আঞ্চলিক কূটনীতি রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। মিয়ানমারের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। মিয়ানমারের পক্ষে থাকা এশিয়ার দেশগুলোর রোহিঙ্গা নীতিতে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। জাপানও এগিয়ে আসতে আগ্রহী হয়েছে। আসিয়ান দেশগুলো অচিরেই শান্তিপূর্ণ সমাধানে তাদের প্রভাব ছড়াবে, পশ্চিমা বিশ্ব এখনও জাতিনিধনের অভিযোগে মিয়ানমারকে দায়ী করে আসছে। নিরাপত্তা পরিষদ এগুতে পারছে না চীন ও রাশিয়ার ভেটো ক্ষমতার জন্য। নিরাপত্তা পরিষদকে পাশ কাটাতে এখন ভেটোবিহীন সাধারণ পরিষদের দিকে ঝুঁকে পড়ছে আন্তর্জাতিক মহল। রাখাইন রাজ্যে নৃশংস সেনা অভিযানের নেতৃত্বে থাকা জেনারেল মং মং সোয়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মানবতা-বিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় তৈরি হচ্ছে। বহুপাক্ষিক উদ্যোগ থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে না আসলেও দ্রুত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর উপর নির্ভর করে দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগে বেশি নজর দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জাতিসংঘের প্রক্রিয়া বেশ লম্বা এবং ধীর। অপরদিকে আঞ্চলিক দেশগুলো বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিকভাবে সমাধান খুঁজতে ব্যস্ত হয়েছে। মিয়ানমারকে এবার সোজা ও সহজ পথে হাঁটতে হবে কেননা রোহিঙ্গা জাঁতি নিধনের কৌশল এবার মিয়ানমারকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে সবচেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণেœর কারণে বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ধাক্কা লেগেছে। উন্নয়নের গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার কামড় লাগতে শুরু করেছে মিয়ানমারে। রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবার আবশ্যিকতা থেকে মিয়ানমারকে সমাধান খোঁজার পথেই থাকতে হবে। নিরাপদ, টেকসই ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের অভীষ্ট লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হোক বাংলাদেশের কৌশল।


লেখক: স্ট্রাটেজি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক। ইন্সটিটিউট অফ কনফ্লিক্ট, ল’ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস (আই ক্লাডস)-এর নির্বাহী পরিচালক

থেমে নেই শিশু নির্যাতন
                                  

অনলাইন ডেস্ক :
একের পর এক শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। কোনোভাবেই প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না।
সমাজকে নাড়িয়ে দেওয়া শিশু নির্যাতনের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্তদের আইনের হাতে সোপর্দ করেছে। কয়েকটি ঘটনায় শাস্তিও হয়েছে। কিন্তু তার পরও থেমে নেই শিশু নির্যাতনের ঘটনা। শুধু শারীরিক নির্যাতন নয়, যৌন নির্যাতনেরও শিকার হচ্ছে শিশুরা। লক্ষ্মীপুরে এক শিশুকে অপবাদ দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর দক্ষিণখানে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বাড়ির কেয়ারটেকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাবনার বেড়া উপজেলায় প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ওই স্কুলের নৈশপ্রহরী ধর্ষণের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজবাড়ী শহরের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের পর সাড়ে তিন মাস আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলার তদন্ত চলাকালে সালিস করে অভিযুক্তকে জরিমানা করেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তাঁর পরিষদ। এসব ঘটনার ভুক্তভোগী সবাই শিশু। প্রশ্ন হচ্ছে, একের পর এক এমন ঘটনা ঘটছে কেন?
এটা এখন মানতে হচ্ছে, সামাজিক সুরক্ষা বলে কিছু আর নেই। সমাজ দিন দিন অধঃপতনের খাদে নেমে যাচ্ছে বলেই নিরাপত্তাহীনতা প্রকট হচ্ছে। এমনকি শিশুর জন্য নিরাপদ নয় এ সমাজ। মানুষের মানবিক বন্ধনগুলোও যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। সমাজ মানসে তার প্রভাব পড়ছে। দেশের প্রচলিত আইনও যেন উপেক্ষিত হচ্ছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু আগের দিনের মতো সামাজিক শাসন না থাকায় কিছু কিছু মানুষও যেন মানবিক বোধ হারিয়ে ফেলেছে। রাজনীতিক দুর্বৃত্তায়নের প্রভাব গিয়ে পড়ছে সমাজের প্রতিটি স্তরে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সমাজ ও রাষ্ট্রকেই প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে। অন্যথায় এ জাতীয় অনাচার আরো বাড়বে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা, আইন প্রয়োগ, অপরাধীদের কঠোর শাস্তির পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা যাবে না।
থেমে নেই শিশু নির্যাতন
একের পর এক শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। কোনোভাবেই প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না।
সমাজকে নাড়িয়ে দেওয়া শিশু নির্যাতনের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্তদের আইনের হাতে সোপর্দ করেছে। কয়েকটি ঘটনায় শাস্তিও হয়েছে। কিন্তু তার পরও থেমে নেই শিশু নির্যাতনের ঘটনা। শুধু শারীরিক নির্যাতন নয়, যৌন নির্যাতনেরও শিকার হচ্ছে শিশুরা। লক্ষ্মীপুরে এক শিশুকে অপবাদ দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর দক্ষিণখানে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বাড়ির কেয়ারটেকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাবনার বেড়া উপজেলায় প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ওই স্কুলের নৈশপ্রহরী ধর্ষণের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজবাড়ী শহরের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের পর সাড়ে তিন মাস আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলার তদন্ত চলাকালে সালিস করে অভিযুক্তকে জরিমানা করেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তাঁর পরিষদ। এসব ঘটনার ভুক্তভোগী সবাই শিশু। প্রশ্ন হচ্ছে, একের পর এক এমন ঘটনা ঘটছে কেন?
এটা এখন মানতে হচ্ছে, সামাজিক সুরক্ষা বলে কিছু আর নেই। সমাজ দিন দিন অধঃপতনের খাদে নেমে যাচ্ছে বলেই নিরাপত্তাহীনতা প্রকট হচ্ছে। এমনকি শিশুর জন্য নিরাপদ নয় এ সমাজ। মানুষের মানবিক বন্ধনগুলোও যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। সমাজ মানসে তার প্রভাব পড়ছে। দেশের প্রচলিত আইনও যেন উপেক্ষিত হচ্ছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু আগের দিনের মতো সামাজিক শাসন না থাকায় কিছু কিছু মানুষও যেন মানবিক বোধ হারিয়ে ফেলেছে। রাজনীতিক দুর্বৃত্তায়নের প্রভাব গিয়ে পড়ছে সমাজের প্রতিটি স্তরে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সমাজ ও রাষ্ট্রকেই প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে। অন্যথায় এ জাতীয় অনাচার আরো বাড়বে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা, আইন প্রয়োগ, অপরাধীদের কঠোর শাস্তির পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা যাবে না।


   Page 1 of 1
     উপ-সম্পাদকীয়
ডেঙ্গু ও নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিতে সর্বোত্তম ব্যবস্থা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী‘র বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণরোগ প্রতিরোধ
.............................................................................................
আসছে নতুন বাজেট
.............................................................................................
ইতিহাসের এই দিনে
.............................................................................................
ইতিহাসের এই দিনে
.............................................................................................
থেমে নেই যৌন পীড়নের ঘটনা
.............................................................................................
ইতিহাসের এই দিনে
.............................................................................................
ইতিহাসের এই দিনে
.............................................................................................
আজ মায়ের ভাষার দিন
.............................................................................................
একুশ মানে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো
.............................................................................................
নির্বাচনে সংঘাতের আশঙ্কা
.............................................................................................
চামড়া পাচার বন্ধে সীমান্তমুখী যানবাহন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ
.............................................................................................
শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিন আজ
.............................................................................................
অগ্নিঝরা মার্চ মাস শুরু
.............................................................................................
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো
.............................................................................................
আঞ্চলিক কূটনীতি রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে
.............................................................................................
থেমে নেই শিশু নির্যাতন
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশক : জিয়াউল হক ।
নির্বাহী সম্পাদক : মো: হাবিবুর রহমান । এম, এ হাসান : সম্পাদক কর্তৃক বিএস প্রিন্টিং প্রেস ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সুত্রাপুর ঢাকা খেকে মুদ্রিত
ও ৬০/ই/১ পুরানা পল্টন (৭ম তলা) থেকে প্রকাশিত বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১,৫১/ এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (৪র্থ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০।
ফোনঃ-০২-৯৫৫০৮৭২,-মোবাইলঃ- ০১৭১৬-৯১১৫৭২

E-mail: provatikhoborbd@gmail.com,provatikhobor2014@gmail.com,
Web: www.dailyprovatikhobor.com

   All Right Reserved By www.dailyprovatikhobor.com Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop