ঢাকা,বুধবার,৪ কার্তিক ১৪২৮,২০,অক্টোবর,২০২১
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * টি‌সি‌বির বিক্রয় শুরু, চলবে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত   * রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগ প্রকাশ   * ডিএমপির ৪ থানার ওসিকে বদলি   * শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল টাইগাররা   * জলবায়ু ঝুঁকির হাত থেকে বাঁচাতে কমনওয়েলথকে অগ্রণী ভূমিকার আহ্বান   * আরও ২৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৪৪১ জন   * বাংলাদেশিদের জন্য ইসরাইল ভ্রমণ বন্ধই থাকবে: তথ্যমন্ত্রী   * করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিলেন ওবায়দুল কাদের   * ফিলিস্তিনের যুদ্ধাহতদের জন্য ওষুধ পাঠাবে বিএনপি   * ১৫ শতাংশ সারচার্জ মওকুফ: মেয়র আতিক  

   সাক্ষাৎকার -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এফ এম রেডিওকে পুরস্কারের ক্যাটাগরিতে আনা উচিত : আর জে টুটুল

রবিউল ইসলাম সোহেল:

আমাদের দেশে বর্তমানে জনপ্রিয় একটি মাধ্যম এফএম রেডিও। এই জনপ্রিয়তার পেছনে একটি কারণ ছিল। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির দাপটে বাংলাদেশের সংগীত শিল্প যখন প্রায় ধ্বংসের পথে, তখন ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হয় কয়েকটি এফএম রেডিও চ্যানেল। শুরুর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নতুন নতুন আইডিয়া এবং নতুন ধরনের পরিবেশনার মাধ্যমে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এফএম রেডিও চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে বাংলা গান আবার ফিরে পেতে থাকে হারানো গৌরব। তরুণ প্রজন্মের মুখে মুখে ঘুরতে থাকে বাংলা গান এবং বিভিন্ন আরজেদের কথা। এফএম ব্যান্ডের রেডিও স¤প্রচার অনেক আগে থেকেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হলেও, বাংলাদেশে এর প্রচলন হয়েছে প্রায় ১ যুগ। প্রথম দিকে বিবিসি রেডিও, ভয়েস অফ আমেরিকা প্রভৃতি বৈশ্বিক চ্যানেলগুলোই কেবলমাত্র বাংলাদেশে এফএম স¤প্রচার পরিচালনা করত। বাংলাদেশী মালিকানাধীন প্রথম এফএম রেডিও চ্যানেল হলো রেডিও টুডে। ২০০৬ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। এর অল্প কিছুদিন পরই আসে আরেকটি চ্যানেল রেডিও ফুর্তি। বর্তমানে বাংলাদেশে বিশটিরও বেশি বেসরকারি এফএম রেডিও চ্যানেল রয়েছে। যাত্রা শুরু করার পর পরই এফএম রেডিও চ্যানেলগুলো তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। গান নির্বাচন ও পরিবেশনায় নতুনত্ব খুব সহজেই তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করে ফেলে। চলতি পথে এফএম রেডিও চ্যানেলগুলোর মতো বিনোদনের মাধ্যম আর নেই। মূলত বিভিন্ন ধরনের গান শুনতে পারাটাই এফএম চ্যানেলগুলোর মুল আকর্ষণ। এর উপর আবার রয়েছে প্রিয় ব্যান্ড বা শিল্পীদের সরাসরি পরিবেশনা ও সাক্ষাৎকার। পাশাপাশি প্রেম, ভূত, কৌতুক, সাম্প্রতিক ঘটনার মত জনপ্রিয় বিষয় নিয়ে করা অনুষ্ঠানগুলোও শ্রোতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এফএম রেডিও চ্যানেলগুলো বাংলাদেশের তরুণদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে। অনেক তরুণই এখানে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখেন। আরজে টুটুল, নীরব, সায়েম, টুটুল, সাদিয়া, মেঘলা, রাসেলের মতো নিজেদের জায়গা সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।

তরুণদের কাছে খুবই আকর্ষণীয় পেশা আর জে। আর জে মানে রেডিও জকি। তরুণদের মধ্যে এই পেশা নিয়ে বিশেষ ধরনের আকর্ষণ কাজ করে থাকে। তবে এই পেশায় কীভাবে আসতে হবে, এই পেশায় আসতে কী কী জানতে হবে এসব বিষয়ে জানা না থাকায় এই পেশায় আসার মতো সাহস অনেকেই সঞ্চয় করতে পারেন না। তাই যারা আসলেই মন থেকে আরজে হতে চান, কীভাবে এই পেশায় আসবেন, এই পেশার সম্ভাবনা কতটুকু এসব বিষয় নিয়ে আমাদের আজকের এই মূল ফিচার। কথা বলেছেন, রেডিও টুডে ৮৯.৬ এর অন্যতম আর জে এবং প্রোগ্রাম অব হেড টুটুল।
সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন দৈনিক প্রভাতী খবরের সিনিয়র সাংবাদিক রবিউল ইসলাম সোহেল। সহায়তা করেছেন এই পত্রিকার বার্তা সম্পাদক আসিফ হাসান।
প্রভাতী খবর: বাংলাদেশের এফএম রেডিওগুলোর একটি বড় সমালোচনা হচ্ছে এর উপস্থাপকদের ভাষার ব্যবহার। বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে কথা বলা এবং তরুণ প্রজন্মের উপর এর প্রভাবের কথা বিবেচনা করে অনেকেই এটাকে বাংলা ভাষার বিশুদ্ধতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন। যদিও সরকারের নির্দেশনা এবং ক্রমাগত মনিটরিং-এর জন্য এ বিষয়গুলো এখন অনেকটাই সংশোধন হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?
টুটুল: প্রথমেই বলে রাখি আমার ভাষা কিংবা সংস্কৃতির অপমান আমরা সহ্য করি না। বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে কথা বলার প্রবণতা আমার মনে হয় এখন একটু কমে গেছে। আমরা যখনই একজন আর জে নিয়োগ করি, তখন আমরা তাদের বাংলা বলার দক্ষতা যাচাই-বাছাই করি। আমাদের দেশের প্রায় সব রেডিও চ্যানেলই এখন ভালো করছে। তবুও মানছি যে ধবধবে সাদা কাপড়ে একটুখানি দাগ লাগলেই স্পষ্ট দেখা যায়। সমাজের সকলখানে এমনকি দেশীয় সিনেমা নাটকেও যখন ভাষার বিকৃতি ঘটে অবলীলায় তখন আমাদেরকেই শুধু আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়, কেন আমরা উচ্চারণ কে উচ্চাড়ণ কিংবা বারি কে বাড়ি বললাম! নাটক কিংবা সিনেমার ডায়ালগে যখন খাইছি ধরছি মারছি বিরামহীনভাবে সহ্য করতে হয়, ঠিক তখনি বিদেশী ভাষার মিশ্রণ নিয়ে আমাদের দিকেই আঙ্গুল তোলা হয়। মজার ব্যাপার হলো এই যে, প্রতিদিন যখন লক্ষ মানুষ দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে আমাদেরকে নিয়মিত শুনতে থাকে, ঠিক তখন আমাদেরকেই প্রতিযোগিতার একদম বাইরে রেখে সবচেয়ে বেশী সমালোচনা করা হয় । তবুও আমরা মেনে নিয়েছি। আলোচনা থেকে কিছু না পেলেও সমালোচনা থেকেই কিছু নিয়ে আমরা সামনে এগোচ্ছি।
প্রভাতী খবর: আপনি কীভাবে আরজে হলেন এবং কেন এই পেশায় এলেন?
টুটুল: ছোটবেলা থেকেই রেডিও শুনতাম। মায়ের সাথে রাত জেগে বাংলাদেশ বেতারের নাটক শুনতাম। এই মাধ্যমের প্রতি টান তখন থেকেই। আবৃত্তি করতাম, এখনও করি। মিডিয়াতে কাজ করার প্রচর ইচ্ছেও ছিল। সবকিছু মিলিয়ে এই দেশে যখন এফএম রেডিও চালু হলো শুরুতে না শুনলেও এরপর মন থেকে একটা ইচ্ছা তৈরি হলো যে আমিও কাজ করব। এরপর একটা ট্রেনিং কোর্স করলাম, সিভি জমা দিলাম ও আর জে হলাম। ২০১০ থেকে শুরু করেছি, এখনও কাজটাকে প্রচÐ ভালোবেসেই করে যাচ্ছি। শ্রোতাদের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা পেয়েছি। আশা করি সামনের দিনগুলোতেও পাব। এখন উপলব্ধি করি যে, আমি ঠিক কাজটাই করছি।
প্রভাতী খবর: বাংলাদেশে একজন আরজের ক্যারিয়ার কেমন সম্ভাবনাময় বলে আপনার মনে হয়?
টুটুল: আমার জায়গা থেকে বলব এই সময়ে শতভাগ সম্ভাবনাময়। মাত্র ৮/৯ বছর আগে যখন এই দেশে এফএম রেডিও চালু হলো এবং ওই সময় যারা আরজে হিসেবে কাজ শুরু করলেন, তখন তাদের অনেকেই এই পেশাকে টাইম পাস বা নেশা হিসেবেই শুরু করেছিলেন। ওই সময়ে তাদেরকে অনেকটা অনিশ্চিত পথেই হাঁটতে হয়েছিল এবং নিজেদের অবস্থান শক্ত করার জন্য যথেষ্ট প্রতিক‚লতাকে মোকাবেলা করেই এগুতে হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এই মাধ্যমের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। বিভিন্ন উদ্যোগীমহল এখন ব্যবসায়িক লাভ বিবেচনা করে এফএম স্টেশন চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এ ক্ষেত্রে সরকারও এগিয়ে এসেছেন, দিয়েছেন নীতিমালা। তাই এই পেশায় ভালো ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখাটা অবান্তর নয়।
প্রভাতী খবর: একজন আরজে হতে হলে কী কী প্রয়োজন?
টুটুল: প্রথমত, প্রবল ইচ্ছা-মন থেকে চাইতে হবে, স্বপ্ন দেখতে হবে, ভালোবাসতে হবে। অন্য সবার চেয়ে নিজেকে সবসময় একটু বেশি আপগ্রেড রাখতে হবে। নিজ দেশের সংস্কৃতি, ভাষা, কৃষ্টি, চালচলন সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকতে হবে। মাতৃভাষা অবশ্যই শুদ্ধভাবে বলতে ও জানতে হবে। ভিনদেশি ভাষা সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিয়েই বলতে হবে। সর্বোপরি নিজে কী বলছি তা সম্পর্কে নিজেরই আগে পূর্ণ জ্ঞান থাকতে হবে। আর কাজের প্রতি সৎ থাকতে হবে।
প্রভাতী খবর: যদি কেউ আরজে হতে চায়, তাকে কীভাবে শুরু করা উচিত?
টুটুল: কথাটা তিক্ত শোনালেও সত্য যে, কোনো কিছু হতে চাইলেই হয়ে যাওয়া যায় না। একজন ব্যক্তিকে মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলতে দেখা বা শোনা আর অমনি খুব সহজেই নিজে পারব বলে মনে করে ফেলা এক কথা নয়। তাই আমি মনে করি এই পেশায় আসতে হলে কোনো রকমে নিজেকে তৈরি করে এলেই হবে না; বরং যারা এর মধ্যে আরজে হিসেবে অনেকদিন ধরে কাজ করছেন এবং সুনাম কুড়িয়েছেন তাদের কাছ থেকে ধারণা নিয়ে একটু শিখে এলে ভালো। এরপর খেয়াল রাখতে হবে স্টেশনগুলো কখন সার্কুলার দেয়। একইসাথে নিজের জীবন বৃত্তান্তটাও খুব যতœ করে বানাতে হবে। আর নিজের উপর আস্থা হারালে চলবে না।
প্রভাতী খবর: বতর্মানে এফ এম বেতার স্টেশনগুলো যথেষ্ট জনপ্রিয়। এর পিছনে কোন অনুষঙ্গ সক্রিয় বলে আপনি মনে করেন?
টুটুল: প্রতিদিন যে মানুষগুলো আমাদেরকে শোনেন, শুধু শোনেন বললে ভুল হবে, নিজেদের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, মান-অভিমানসহ জীবনের নানা রকম টানাপোড়েনসহ অনেক কথাই কিছু ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়ে দিতেও একদমই কার্পণ্য করেন না, সেই মানুষগুলোর ভালবাসার দায়বদ্ধতা নিয়েই আমরা কাজ করছি, প্রতিদিন হটসিটে বসছি, দেদারছে কথা বলে যাচ্ছি, জীবন এবং চারপাশ থেকে যা কিছু শিখছি বা দেখছি তা-ই ঐ মানুষগুলোর উদ্দেশ্যে বলে যাচ্ছি। জনপ্রিয় হওয়ার এটিও একটি বড় কারণ। 
আমাদের প্রতিবেশী দেশে প্রায় আশির দশকের মাঝামাঝি থেকেই এফএম ব্যান্ডের যাত্রা শুরু, সেখানে আমরা শুরু করেছি প্রায় এক যুগ হলো। স্বভাবতই ভ্রু কুঁচকে একটা জিজ্ঞাসা আসতেই পারে যে আমরা তাহলে কাদেরকে অনুসরণ করে শুরু করলাম, বা এই লাইনে শুরুতে যারা কাজ শুরু করলেন তাঁরা কাদেরকে দেখে বা শুনে কাজ শিখলেন? সহজ এবং সরল স্বীকারোক্তি হলো এই যে, পথ দেখাবার মত অথবা হাত ধরে কাজ শেখাবার মত তেমন কেউই ছিলেন না। শুধুমাত্র এদেশের কিছু সাহসী মানুষ পার্শ্ববর্তী দেশের অনুকরণে যাত্রা শুরু করলেন। ব্যাস, মানুষ আবার রেডিও শোনা শুরু করলো, রাত জেগে শুনতে থাকলো, অফিসে যেতে যেতে, রান্না করতে করতে, কাজের ফাঁকে, বন্ধুদের আড্ডায়, চা এর দোকানে বাজতে থাকলো রেডিও। উপস্থাপনায় ভিন্নতা এবং বেশী বেশী গান শোনার নিশ্চয়তায় অল্পদিনেই এই মাধ্যমটি জনপ্রিয় হয়ে উঠলো।
এ ছাড়া শুরু থেকেই স্টেশনগুলো তারণ্যকে উপজীব্য করে আমার ভালবাসা টাইপের কিছু জীবনমুখী অনুষ্ঠান স¤প্রচার করে শ্রোতাদের খুব কাছে পৌঁছে গেলো অল্পদিনেই। শুরুতে যদিও একটা বয়সী শ্রোতারাই এফএম রেডিও শুনতো, কিন্তু সময় যত এগোতে থাকে ততোই সব শ্রেণি-পেশা এবং বয়সের মানুষগুলোই এর সাথে সংযুক্ত হতে থাকে। বিয়ে বাড়ি কিংবা পারিবারিক অনুষ্ঠানগুলোতে অন্য দেশীয় গান বেজে ওঠার পাশাপাশি দেশীয় বাংলা গানগুলোও আবার সমান তালে বেজে উঠতে থাকে। এর একটা বড় কারণ হচ্ছে এই যে, এফএম রেডিওগুলো শুরু থেকেই ভিনদেশী গানের পাশাপাশি অনেক বেশী মাত্রায় দেশীয় গান বাজাতে থাকে। আর এর ফলে শ্রোতারা খুব সহজেই ভাল গান বেছে নিতে পারে। এছাড়া সদ্য ঘটে যাওয়া সংবাদ, ট্র্যাফিক জ্যাম, আবহাওয়া, বিশিষ্ট সেলিব্রিটিদের সাথে হটসিট বসাসহ নানামুখী শ্রোতাবান্ধব কর্মসূচী নেয়ার ফলেই আজকে এই মাধ্যমটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। লক্ষ্য করে দেখবেন বাংলাদেশ বেতারও একসময় কেউ শুনতো না। তারা এফএম তরঙ্গে এসে কিছুটা ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠান প্রচার শুরু করাতে কিন্তু শ্রোতারা বাংলাদেশ বেতারও শুনতে আগ্রহী হচ্ছে।
প্রভাতী খবর: একটা অভিযোগ আছে এফএম রেডিওগুলো আকাশ সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখছে। বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
টুটুল: আমি খুব ভাল করেই বুঝতে পারছি যে ঠিক এখনি আপনি বলতে চাচ্ছেন যে আমরা অনেক ভিনদেশী গান বাজাই। আচ্ছা আকাশ সংস্কৃতির এই ব্যস্ত সময়ে যদি আমরা একটাও বিদেশী গান না বাজাতাম, তাহলেই কি এই দেশে অন্য ভাষার গান শোনা বন্ধ হয়ে যেত? নাকি আমাদের সংগীতাঙ্গন রাতারাতি বদলে যেত? আসলে জানালা খোলা রাখতেই হবে, আর বাইরের মুক্ত বাতাস ঘরে প্রবেশ করবেই। ভাল কাজ দিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দরজা জানালা সব বন্ধ করে রাখলে হবে না, বরং সেগুলো উঠোনে ছড়িয়ে দিতে হবে, আর সেই উঠোনে অন্যকেও বসতে দিতে হবে। একটু চোখটা বন্ধ করে দশটা বছর পেছনে চলে যান তো! বাংলা গান শোনা আমরা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। অভ্যাসটা প্রায় যেতে বসেছিল। এদেশের এফএম রেডিওগুলোতে গান তথা দেশীয় গান বাজতে থাকলো দিনব্যাপী। পুরনো গানের পাশাপাশি একদম নতুন শিল্পীদের গানও বাজতে থাকলো। শ্রোতাপ্রিয়তা পেতে থাকলো অনেক নতুন ভাল গান। আর সেই কারণেই কেউ স্বীকার করুক আর নাইবা করুক একদম মাটি থেকে আকাশে উঠে আসলো এদেশের অনেক সংগীত শিল্পী। যারা এখনো ভাল কাজ করছেন। মানুষের মধ্যে দেশীয় গান শোনার অভ্যাসটাও আবার ফিরে এলো। এমনকি এই প্রজন্মের যারা এ দেশের তথা এই উপমহাদেশের বিখ্যাত গান এবং কণ্ঠশিল্পীদের প্রায় ভুলতেই বসেছিল, তাঁদের জন্যই শুরু হলো ওল্ড ইজ গোল্ড নামের শ্রোতানন্দিত অনুষ্ঠান।
প্রভাতী খবর: একটি চ্যানেলকে জনপ্রিয় করতে কি ধরনের অনুষ্ঠানের প্রতি গুরুত্ব দেয়া উচিৎ?
টুটুল: বিনোদনের এই মাধ্যমটির একটি প্রধান সমস্যা হচ্ছে সৃষ্টিশীলতার অভাব। সব চ্যানেলের অনুষ্ঠানে খুব বেশি পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায় না। অনুষ্ঠান পরিকল্পনায় আরেকটু সৃজনশীল হলে এর জনপ্রিয়তা আরও বহুগুণ বেড়ে যেত। এটাও ঠিক যে, প্রায় সব রেডিও চ্যানেলই একই ধরনের অনুষ্ঠান প্রচার করে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় এ সমস্যাটা আগে বেশি হতো। বর্তমানে অনুষ্ঠানের কিছু ভিন্নতা এসেছে। এছাড়া এখন চ্যানেল সংখ্যা বেড়ে গেছে। সঙ্গত কারণে প্রতিযোগিতাও বেড়ে গেছে। বাজারে টিকতে হলে অনুষ্ঠানে নুতনত্ব আনতে হবে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে গুরুত্ব দিয়ে সেই আঙ্গিকে অনুষ্ঠান তৈরি করতে হবে। বর্তমান বা উঠতি প্রজন্মকে বিনোদন দেয়ার পাশাপাশি স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। একইসাথে খেলা ও আন্তার্জাতিক ঘটনাবলীর সূ² বিশ্লেষণসহ টক শোরও আয়োজন করা যেতে পারে।
বাংলাদেশের সমাজজীবনে, বিশেষ করে নগর জীবনে আবির্ভূত এফএম চ্যানেলগুলোর প্রভাব অনেক। অনেক মানুষেরই দিন শুরু হয় এফএম চ্যানেলের খবর কিংবা রবীন্দ্র সংগীত শুনতে শুনতে। গাড়িচালকরা রেডিওর মাধ্যমেই জেনে যান কোন রাস্তায় জ্যাম বেশি, কোন রাস্তায় কম। অনেক তরুণকে দেখা যায় এফএম আরজেদের বাচনভঙ্গি নকল করতে। অনেকে আবার এফএম রেডিওতে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্নে বিভোর।
প্রভাতী খবর: একজন আরজে হিসেবে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনকে কিভাবে সমন্বয় করেন?
টুটুল: বিষয়টি আমি উপভোগ করি। একসময় কথা বলাকে নেশা হিসেবে নিলেও বর্তমানে এটি আমার অন্যতম এবং একমাত্র পেশা। অনেকে বলেন আমরা নাকি খালি কথা-ই বলি। কথা ছাড়া নাকি আমাদের আর কোন কিছুই করে দেখাবার নাই। ঠিক আছে মানলাম। কিন্তু একটা ছোট্ট জিজ্ঞাসা, শুধু কথা শুনিয়ে লক্ষ মানুষকে প্রতিদিন প্রায় তিন থেকে ছয় ঘণ্টা আটকে রাখার কাজটা এই সময়ে যারা খুব ভালভাবেই করে যাচ্ছেন, তাঁরা খুব সহজ কাজ করছেন কি? তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, যারা আমাকে নিয়মিত শুনেন কদিন বলতে পারবেন বাতাসে যে মানুষটি চরম উচ্ছ¡াস নিয়ে প্রতিদিন শব্দ ছড়িয়ে দিচ্ছে, সেই মানুষটা আজ কতটা ভাল আছে, কতটা সুস্থ আছে, তার মনের কিংবা পকেটের স্বাস্থ্য ঠিকঠাক আছে কিনা!! জানি খুব বেশী বলতে পারবেন না। কারণ আমার মতই এই পেশায় বা নেশায় যারা মগ্ন তারা প্রায়ই ভুলে যান নিজেদের সুখ-দুঃখের কথা, অন্যকে আনন্দ দেয়াতেই যেন তার পূর্ণতা।
প্রভাতী খবর: শ্রোতাদের উদ্দেশে কোন আর্জি?
টুটুল: শ্রোতাদের উদ্দেশে আমার বিনম্র শ্রদ্ধা। তারা আমাদের আগ্রহ নিয়ে শোনেন, মতামত দেন, সর্বোপরী তাদের যাপিত জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ বলেই মনে করেন আমাদের। এটাও আমাদের বড় একটি প্রাপ্তি। আর দুঃখের কথা যদি বলতে হয় তাহলে বলবো, যে আজ পর্যন্ত কোন সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ের কোন প্রতিষ্ঠান এফএম রেডিওকে তাদের পুরষ্কার বা স্বীকৃতি কাতারে ফেলেননি। সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় ছাড়াও কোন কোন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন বিভাগে যোগ্যতার ভিত্তিতে পুরস্কার দিয়ে থাকেন। বেসরকারি পর্যায়েও বহু প্রতিষ্ঠান এই মহৎ কাজটি করে থাকেন। স্বীকৃতি বা পুরষ্কার যে কোন কাজকেই আনন্দ দেয়, আরো দায়িত্বশীল করে তোলে। সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এফ এম রেডিওকে পুরস্কারে ক্যাটাগরিতে আনা উচিত। তাহলেই প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রটি আরো বিস্তৃত হবে।
প্রভাতী খবর: আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
টুটুল: আপনাদেরকেও আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ।

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এফ এম রেডিওকে পুরস্কারের ক্যাটাগরিতে আনা উচিত : আর জে টুটুল
                                  

রবিউল ইসলাম সোহেল:

আমাদের দেশে বর্তমানে জনপ্রিয় একটি মাধ্যম এফএম রেডিও। এই জনপ্রিয়তার পেছনে একটি কারণ ছিল। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির দাপটে বাংলাদেশের সংগীত শিল্প যখন প্রায় ধ্বংসের পথে, তখন ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হয় কয়েকটি এফএম রেডিও চ্যানেল। শুরুর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নতুন নতুন আইডিয়া এবং নতুন ধরনের পরিবেশনার মাধ্যমে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এফএম রেডিও চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে বাংলা গান আবার ফিরে পেতে থাকে হারানো গৌরব। তরুণ প্রজন্মের মুখে মুখে ঘুরতে থাকে বাংলা গান এবং বিভিন্ন আরজেদের কথা। এফএম ব্যান্ডের রেডিও স¤প্রচার অনেক আগে থেকেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হলেও, বাংলাদেশে এর প্রচলন হয়েছে প্রায় ১ যুগ। প্রথম দিকে বিবিসি রেডিও, ভয়েস অফ আমেরিকা প্রভৃতি বৈশ্বিক চ্যানেলগুলোই কেবলমাত্র বাংলাদেশে এফএম স¤প্রচার পরিচালনা করত। বাংলাদেশী মালিকানাধীন প্রথম এফএম রেডিও চ্যানেল হলো রেডিও টুডে। ২০০৬ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। এর অল্প কিছুদিন পরই আসে আরেকটি চ্যানেল রেডিও ফুর্তি। বর্তমানে বাংলাদেশে বিশটিরও বেশি বেসরকারি এফএম রেডিও চ্যানেল রয়েছে। যাত্রা শুরু করার পর পরই এফএম রেডিও চ্যানেলগুলো তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। গান নির্বাচন ও পরিবেশনায় নতুনত্ব খুব সহজেই তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করে ফেলে। চলতি পথে এফএম রেডিও চ্যানেলগুলোর মতো বিনোদনের মাধ্যম আর নেই। মূলত বিভিন্ন ধরনের গান শুনতে পারাটাই এফএম চ্যানেলগুলোর মুল আকর্ষণ। এর উপর আবার রয়েছে প্রিয় ব্যান্ড বা শিল্পীদের সরাসরি পরিবেশনা ও সাক্ষাৎকার। পাশাপাশি প্রেম, ভূত, কৌতুক, সাম্প্রতিক ঘটনার মত জনপ্রিয় বিষয় নিয়ে করা অনুষ্ঠানগুলোও শ্রোতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এফএম রেডিও চ্যানেলগুলো বাংলাদেশের তরুণদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে। অনেক তরুণই এখানে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখেন। আরজে টুটুল, নীরব, সায়েম, টুটুল, সাদিয়া, মেঘলা, রাসেলের মতো নিজেদের জায়গা সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।

তরুণদের কাছে খুবই আকর্ষণীয় পেশা আর জে। আর জে মানে রেডিও জকি। তরুণদের মধ্যে এই পেশা নিয়ে বিশেষ ধরনের আকর্ষণ কাজ করে থাকে। তবে এই পেশায় কীভাবে আসতে হবে, এই পেশায় আসতে কী কী জানতে হবে এসব বিষয়ে জানা না থাকায় এই পেশায় আসার মতো সাহস অনেকেই সঞ্চয় করতে পারেন না। তাই যারা আসলেই মন থেকে আরজে হতে চান, কীভাবে এই পেশায় আসবেন, এই পেশার সম্ভাবনা কতটুকু এসব বিষয় নিয়ে আমাদের আজকের এই মূল ফিচার। কথা বলেছেন, রেডিও টুডে ৮৯.৬ এর অন্যতম আর জে এবং প্রোগ্রাম অব হেড টুটুল।
সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন দৈনিক প্রভাতী খবরের সিনিয়র সাংবাদিক রবিউল ইসলাম সোহেল। সহায়তা করেছেন এই পত্রিকার বার্তা সম্পাদক আসিফ হাসান।
প্রভাতী খবর: বাংলাদেশের এফএম রেডিওগুলোর একটি বড় সমালোচনা হচ্ছে এর উপস্থাপকদের ভাষার ব্যবহার। বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে কথা বলা এবং তরুণ প্রজন্মের উপর এর প্রভাবের কথা বিবেচনা করে অনেকেই এটাকে বাংলা ভাষার বিশুদ্ধতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন। যদিও সরকারের নির্দেশনা এবং ক্রমাগত মনিটরিং-এর জন্য এ বিষয়গুলো এখন অনেকটাই সংশোধন হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?
টুটুল: প্রথমেই বলে রাখি আমার ভাষা কিংবা সংস্কৃতির অপমান আমরা সহ্য করি না। বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে কথা বলার প্রবণতা আমার মনে হয় এখন একটু কমে গেছে। আমরা যখনই একজন আর জে নিয়োগ করি, তখন আমরা তাদের বাংলা বলার দক্ষতা যাচাই-বাছাই করি। আমাদের দেশের প্রায় সব রেডিও চ্যানেলই এখন ভালো করছে। তবুও মানছি যে ধবধবে সাদা কাপড়ে একটুখানি দাগ লাগলেই স্পষ্ট দেখা যায়। সমাজের সকলখানে এমনকি দেশীয় সিনেমা নাটকেও যখন ভাষার বিকৃতি ঘটে অবলীলায় তখন আমাদেরকেই শুধু আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়, কেন আমরা উচ্চারণ কে উচ্চাড়ণ কিংবা বারি কে বাড়ি বললাম! নাটক কিংবা সিনেমার ডায়ালগে যখন খাইছি ধরছি মারছি বিরামহীনভাবে সহ্য করতে হয়, ঠিক তখনি বিদেশী ভাষার মিশ্রণ নিয়ে আমাদের দিকেই আঙ্গুল তোলা হয়। মজার ব্যাপার হলো এই যে, প্রতিদিন যখন লক্ষ মানুষ দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে আমাদেরকে নিয়মিত শুনতে থাকে, ঠিক তখন আমাদেরকেই প্রতিযোগিতার একদম বাইরে রেখে সবচেয়ে বেশী সমালোচনা করা হয় । তবুও আমরা মেনে নিয়েছি। আলোচনা থেকে কিছু না পেলেও সমালোচনা থেকেই কিছু নিয়ে আমরা সামনে এগোচ্ছি।
প্রভাতী খবর: আপনি কীভাবে আরজে হলেন এবং কেন এই পেশায় এলেন?
টুটুল: ছোটবেলা থেকেই রেডিও শুনতাম। মায়ের সাথে রাত জেগে বাংলাদেশ বেতারের নাটক শুনতাম। এই মাধ্যমের প্রতি টান তখন থেকেই। আবৃত্তি করতাম, এখনও করি। মিডিয়াতে কাজ করার প্রচর ইচ্ছেও ছিল। সবকিছু মিলিয়ে এই দেশে যখন এফএম রেডিও চালু হলো শুরুতে না শুনলেও এরপর মন থেকে একটা ইচ্ছা তৈরি হলো যে আমিও কাজ করব। এরপর একটা ট্রেনিং কোর্স করলাম, সিভি জমা দিলাম ও আর জে হলাম। ২০১০ থেকে শুরু করেছি, এখনও কাজটাকে প্রচÐ ভালোবেসেই করে যাচ্ছি। শ্রোতাদের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা পেয়েছি। আশা করি সামনের দিনগুলোতেও পাব। এখন উপলব্ধি করি যে, আমি ঠিক কাজটাই করছি।
প্রভাতী খবর: বাংলাদেশে একজন আরজের ক্যারিয়ার কেমন সম্ভাবনাময় বলে আপনার মনে হয়?
টুটুল: আমার জায়গা থেকে বলব এই সময়ে শতভাগ সম্ভাবনাময়। মাত্র ৮/৯ বছর আগে যখন এই দেশে এফএম রেডিও চালু হলো এবং ওই সময় যারা আরজে হিসেবে কাজ শুরু করলেন, তখন তাদের অনেকেই এই পেশাকে টাইম পাস বা নেশা হিসেবেই শুরু করেছিলেন। ওই সময়ে তাদেরকে অনেকটা অনিশ্চিত পথেই হাঁটতে হয়েছিল এবং নিজেদের অবস্থান শক্ত করার জন্য যথেষ্ট প্রতিক‚লতাকে মোকাবেলা করেই এগুতে হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এই মাধ্যমের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। বিভিন্ন উদ্যোগীমহল এখন ব্যবসায়িক লাভ বিবেচনা করে এফএম স্টেশন চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এ ক্ষেত্রে সরকারও এগিয়ে এসেছেন, দিয়েছেন নীতিমালা। তাই এই পেশায় ভালো ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখাটা অবান্তর নয়।
প্রভাতী খবর: একজন আরজে হতে হলে কী কী প্রয়োজন?
টুটুল: প্রথমত, প্রবল ইচ্ছা-মন থেকে চাইতে হবে, স্বপ্ন দেখতে হবে, ভালোবাসতে হবে। অন্য সবার চেয়ে নিজেকে সবসময় একটু বেশি আপগ্রেড রাখতে হবে। নিজ দেশের সংস্কৃতি, ভাষা, কৃষ্টি, চালচলন সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকতে হবে। মাতৃভাষা অবশ্যই শুদ্ধভাবে বলতে ও জানতে হবে। ভিনদেশি ভাষা সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিয়েই বলতে হবে। সর্বোপরি নিজে কী বলছি তা সম্পর্কে নিজেরই আগে পূর্ণ জ্ঞান থাকতে হবে। আর কাজের প্রতি সৎ থাকতে হবে।
প্রভাতী খবর: যদি কেউ আরজে হতে চায়, তাকে কীভাবে শুরু করা উচিত?
টুটুল: কথাটা তিক্ত শোনালেও সত্য যে, কোনো কিছু হতে চাইলেই হয়ে যাওয়া যায় না। একজন ব্যক্তিকে মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলতে দেখা বা শোনা আর অমনি খুব সহজেই নিজে পারব বলে মনে করে ফেলা এক কথা নয়। তাই আমি মনে করি এই পেশায় আসতে হলে কোনো রকমে নিজেকে তৈরি করে এলেই হবে না; বরং যারা এর মধ্যে আরজে হিসেবে অনেকদিন ধরে কাজ করছেন এবং সুনাম কুড়িয়েছেন তাদের কাছ থেকে ধারণা নিয়ে একটু শিখে এলে ভালো। এরপর খেয়াল রাখতে হবে স্টেশনগুলো কখন সার্কুলার দেয়। একইসাথে নিজের জীবন বৃত্তান্তটাও খুব যতœ করে বানাতে হবে। আর নিজের উপর আস্থা হারালে চলবে না।
প্রভাতী খবর: বতর্মানে এফ এম বেতার স্টেশনগুলো যথেষ্ট জনপ্রিয়। এর পিছনে কোন অনুষঙ্গ সক্রিয় বলে আপনি মনে করেন?
টুটুল: প্রতিদিন যে মানুষগুলো আমাদেরকে শোনেন, শুধু শোনেন বললে ভুল হবে, নিজেদের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, মান-অভিমানসহ জীবনের নানা রকম টানাপোড়েনসহ অনেক কথাই কিছু ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়ে দিতেও একদমই কার্পণ্য করেন না, সেই মানুষগুলোর ভালবাসার দায়বদ্ধতা নিয়েই আমরা কাজ করছি, প্রতিদিন হটসিটে বসছি, দেদারছে কথা বলে যাচ্ছি, জীবন এবং চারপাশ থেকে যা কিছু শিখছি বা দেখছি তা-ই ঐ মানুষগুলোর উদ্দেশ্যে বলে যাচ্ছি। জনপ্রিয় হওয়ার এটিও একটি বড় কারণ। 
আমাদের প্রতিবেশী দেশে প্রায় আশির দশকের মাঝামাঝি থেকেই এফএম ব্যান্ডের যাত্রা শুরু, সেখানে আমরা শুরু করেছি প্রায় এক যুগ হলো। স্বভাবতই ভ্রু কুঁচকে একটা জিজ্ঞাসা আসতেই পারে যে আমরা তাহলে কাদেরকে অনুসরণ করে শুরু করলাম, বা এই লাইনে শুরুতে যারা কাজ শুরু করলেন তাঁরা কাদেরকে দেখে বা শুনে কাজ শিখলেন? সহজ এবং সরল স্বীকারোক্তি হলো এই যে, পথ দেখাবার মত অথবা হাত ধরে কাজ শেখাবার মত তেমন কেউই ছিলেন না। শুধুমাত্র এদেশের কিছু সাহসী মানুষ পার্শ্ববর্তী দেশের অনুকরণে যাত্রা শুরু করলেন। ব্যাস, মানুষ আবার রেডিও শোনা শুরু করলো, রাত জেগে শুনতে থাকলো, অফিসে যেতে যেতে, রান্না করতে করতে, কাজের ফাঁকে, বন্ধুদের আড্ডায়, চা এর দোকানে বাজতে থাকলো রেডিও। উপস্থাপনায় ভিন্নতা এবং বেশী বেশী গান শোনার নিশ্চয়তায় অল্পদিনেই এই মাধ্যমটি জনপ্রিয় হয়ে উঠলো।
এ ছাড়া শুরু থেকেই স্টেশনগুলো তারণ্যকে উপজীব্য করে আমার ভালবাসা টাইপের কিছু জীবনমুখী অনুষ্ঠান স¤প্রচার করে শ্রোতাদের খুব কাছে পৌঁছে গেলো অল্পদিনেই। শুরুতে যদিও একটা বয়সী শ্রোতারাই এফএম রেডিও শুনতো, কিন্তু সময় যত এগোতে থাকে ততোই সব শ্রেণি-পেশা এবং বয়সের মানুষগুলোই এর সাথে সংযুক্ত হতে থাকে। বিয়ে বাড়ি কিংবা পারিবারিক অনুষ্ঠানগুলোতে অন্য দেশীয় গান বেজে ওঠার পাশাপাশি দেশীয় বাংলা গানগুলোও আবার সমান তালে বেজে উঠতে থাকে। এর একটা বড় কারণ হচ্ছে এই যে, এফএম রেডিওগুলো শুরু থেকেই ভিনদেশী গানের পাশাপাশি অনেক বেশী মাত্রায় দেশীয় গান বাজাতে থাকে। আর এর ফলে শ্রোতারা খুব সহজেই ভাল গান বেছে নিতে পারে। এছাড়া সদ্য ঘটে যাওয়া সংবাদ, ট্র্যাফিক জ্যাম, আবহাওয়া, বিশিষ্ট সেলিব্রিটিদের সাথে হটসিট বসাসহ নানামুখী শ্রোতাবান্ধব কর্মসূচী নেয়ার ফলেই আজকে এই মাধ্যমটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। লক্ষ্য করে দেখবেন বাংলাদেশ বেতারও একসময় কেউ শুনতো না। তারা এফএম তরঙ্গে এসে কিছুটা ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠান প্রচার শুরু করাতে কিন্তু শ্রোতারা বাংলাদেশ বেতারও শুনতে আগ্রহী হচ্ছে।
প্রভাতী খবর: একটা অভিযোগ আছে এফএম রেডিওগুলো আকাশ সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখছে। বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
টুটুল: আমি খুব ভাল করেই বুঝতে পারছি যে ঠিক এখনি আপনি বলতে চাচ্ছেন যে আমরা অনেক ভিনদেশী গান বাজাই। আচ্ছা আকাশ সংস্কৃতির এই ব্যস্ত সময়ে যদি আমরা একটাও বিদেশী গান না বাজাতাম, তাহলেই কি এই দেশে অন্য ভাষার গান শোনা বন্ধ হয়ে যেত? নাকি আমাদের সংগীতাঙ্গন রাতারাতি বদলে যেত? আসলে জানালা খোলা রাখতেই হবে, আর বাইরের মুক্ত বাতাস ঘরে প্রবেশ করবেই। ভাল কাজ দিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দরজা জানালা সব বন্ধ করে রাখলে হবে না, বরং সেগুলো উঠোনে ছড়িয়ে দিতে হবে, আর সেই উঠোনে অন্যকেও বসতে দিতে হবে। একটু চোখটা বন্ধ করে দশটা বছর পেছনে চলে যান তো! বাংলা গান শোনা আমরা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। অভ্যাসটা প্রায় যেতে বসেছিল। এদেশের এফএম রেডিওগুলোতে গান তথা দেশীয় গান বাজতে থাকলো দিনব্যাপী। পুরনো গানের পাশাপাশি একদম নতুন শিল্পীদের গানও বাজতে থাকলো। শ্রোতাপ্রিয়তা পেতে থাকলো অনেক নতুন ভাল গান। আর সেই কারণেই কেউ স্বীকার করুক আর নাইবা করুক একদম মাটি থেকে আকাশে উঠে আসলো এদেশের অনেক সংগীত শিল্পী। যারা এখনো ভাল কাজ করছেন। মানুষের মধ্যে দেশীয় গান শোনার অভ্যাসটাও আবার ফিরে এলো। এমনকি এই প্রজন্মের যারা এ দেশের তথা এই উপমহাদেশের বিখ্যাত গান এবং কণ্ঠশিল্পীদের প্রায় ভুলতেই বসেছিল, তাঁদের জন্যই শুরু হলো ওল্ড ইজ গোল্ড নামের শ্রোতানন্দিত অনুষ্ঠান।
প্রভাতী খবর: একটি চ্যানেলকে জনপ্রিয় করতে কি ধরনের অনুষ্ঠানের প্রতি গুরুত্ব দেয়া উচিৎ?
টুটুল: বিনোদনের এই মাধ্যমটির একটি প্রধান সমস্যা হচ্ছে সৃষ্টিশীলতার অভাব। সব চ্যানেলের অনুষ্ঠানে খুব বেশি পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায় না। অনুষ্ঠান পরিকল্পনায় আরেকটু সৃজনশীল হলে এর জনপ্রিয়তা আরও বহুগুণ বেড়ে যেত। এটাও ঠিক যে, প্রায় সব রেডিও চ্যানেলই একই ধরনের অনুষ্ঠান প্রচার করে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় এ সমস্যাটা আগে বেশি হতো। বর্তমানে অনুষ্ঠানের কিছু ভিন্নতা এসেছে। এছাড়া এখন চ্যানেল সংখ্যা বেড়ে গেছে। সঙ্গত কারণে প্রতিযোগিতাও বেড়ে গেছে। বাজারে টিকতে হলে অনুষ্ঠানে নুতনত্ব আনতে হবে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে গুরুত্ব দিয়ে সেই আঙ্গিকে অনুষ্ঠান তৈরি করতে হবে। বর্তমান বা উঠতি প্রজন্মকে বিনোদন দেয়ার পাশাপাশি স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। একইসাথে খেলা ও আন্তার্জাতিক ঘটনাবলীর সূ² বিশ্লেষণসহ টক শোরও আয়োজন করা যেতে পারে।
বাংলাদেশের সমাজজীবনে, বিশেষ করে নগর জীবনে আবির্ভূত এফএম চ্যানেলগুলোর প্রভাব অনেক। অনেক মানুষেরই দিন শুরু হয় এফএম চ্যানেলের খবর কিংবা রবীন্দ্র সংগীত শুনতে শুনতে। গাড়িচালকরা রেডিওর মাধ্যমেই জেনে যান কোন রাস্তায় জ্যাম বেশি, কোন রাস্তায় কম। অনেক তরুণকে দেখা যায় এফএম আরজেদের বাচনভঙ্গি নকল করতে। অনেকে আবার এফএম রেডিওতে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্নে বিভোর।
প্রভাতী খবর: একজন আরজে হিসেবে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনকে কিভাবে সমন্বয় করেন?
টুটুল: বিষয়টি আমি উপভোগ করি। একসময় কথা বলাকে নেশা হিসেবে নিলেও বর্তমানে এটি আমার অন্যতম এবং একমাত্র পেশা। অনেকে বলেন আমরা নাকি খালি কথা-ই বলি। কথা ছাড়া নাকি আমাদের আর কোন কিছুই করে দেখাবার নাই। ঠিক আছে মানলাম। কিন্তু একটা ছোট্ট জিজ্ঞাসা, শুধু কথা শুনিয়ে লক্ষ মানুষকে প্রতিদিন প্রায় তিন থেকে ছয় ঘণ্টা আটকে রাখার কাজটা এই সময়ে যারা খুব ভালভাবেই করে যাচ্ছেন, তাঁরা খুব সহজ কাজ করছেন কি? তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, যারা আমাকে নিয়মিত শুনেন কদিন বলতে পারবেন বাতাসে যে মানুষটি চরম উচ্ছ¡াস নিয়ে প্রতিদিন শব্দ ছড়িয়ে দিচ্ছে, সেই মানুষটা আজ কতটা ভাল আছে, কতটা সুস্থ আছে, তার মনের কিংবা পকেটের স্বাস্থ্য ঠিকঠাক আছে কিনা!! জানি খুব বেশী বলতে পারবেন না। কারণ আমার মতই এই পেশায় বা নেশায় যারা মগ্ন তারা প্রায়ই ভুলে যান নিজেদের সুখ-দুঃখের কথা, অন্যকে আনন্দ দেয়াতেই যেন তার পূর্ণতা।
প্রভাতী খবর: শ্রোতাদের উদ্দেশে কোন আর্জি?
টুটুল: শ্রোতাদের উদ্দেশে আমার বিনম্র শ্রদ্ধা। তারা আমাদের আগ্রহ নিয়ে শোনেন, মতামত দেন, সর্বোপরী তাদের যাপিত জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ বলেই মনে করেন আমাদের। এটাও আমাদের বড় একটি প্রাপ্তি। আর দুঃখের কথা যদি বলতে হয় তাহলে বলবো, যে আজ পর্যন্ত কোন সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ের কোন প্রতিষ্ঠান এফএম রেডিওকে তাদের পুরষ্কার বা স্বীকৃতি কাতারে ফেলেননি। সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় ছাড়াও কোন কোন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন বিভাগে যোগ্যতার ভিত্তিতে পুরস্কার দিয়ে থাকেন। বেসরকারি পর্যায়েও বহু প্রতিষ্ঠান এই মহৎ কাজটি করে থাকেন। স্বীকৃতি বা পুরষ্কার যে কোন কাজকেই আনন্দ দেয়, আরো দায়িত্বশীল করে তোলে। সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এফ এম রেডিওকে পুরস্কারে ক্যাটাগরিতে আনা উচিত। তাহলেই প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রটি আরো বিস্তৃত হবে।
প্রভাতী খবর: আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
টুটুল: আপনাদেরকেও আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ।

ফরিদপুর-১ যে কারণে এগিয়ে আছেন দোলন
                                  

ফরিদপুর প্রতিনিধি :

ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসন থেকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্যপ্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে আছেন কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আরিফুর রহমান দোলন। দলের স্থানীয় নেতাকর্মী, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দোলনের জনপ্রিয়তা বেশি। সরকারের উন্নয়ন কাজের প্রচারের গণসংযোগে দোলন এগিয়ে আছেন। পারিবারিকভাবেও তাদের সমাজকল্যাণের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এ কারণেই মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন দোলন।
দলের নেতাকর্মীরাই বলছেন, দোলনকে নৌকার প্রার্থী করা হলে দলের জয় সুনিশ্চিত। তাকে ঘিরে স্বপ্ন দেখতে ফরিদপুর-১ আসনের ভোটাররা।  
বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সদস্য গোলাম ছরোয়ার মৃধা বলেন, ‘তৃণমূল আওয়ামী লীগের প্রকৃত ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা দোলনের সঙ্গে আছেন। দল তাকে মনোনয়ন দেবে বলে আমরা আশা করি। তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে ইনশাআল্লাহ বিপুল ভোটে নৌকার জয় হবে।’
আলফাডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান এম এম জালাল উদ্দিন বলেন, ‘এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে দোলনের ব্যাপক অবদান রয়েছে। আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট তৈরি, সংস্কার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, কবরস্থান, ঈদগাহ, খেলার মাঠের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগেও মানুষের ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন। এখনো করছেন। জনগণ তাকে আগামীতে তাদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চায়।’
জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আকরাম হোসেন বলেন, ‘আরিফুর রহমান দোলন বয়সে তরুণ। মিষ্টভাষী। সদালাপী। মানুষের সঙ্গে মিশতে পারেন সহজে। ফরিদপুর-১ আসনে যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাচ্ছেন দোলন তাদের চেয়ে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছেন।
ফরিদপুর জেলা পরিষদ সদস্য শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, আলফাডাঙ্গার কামারগ্রামে নির্মিত হচ্ছে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি)। এই প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনের পেছনে আরিফুর রহমান দোলনের ব্যাপক চেষ্টা-তদবির রয়েছে। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তৎকালীণ প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ও বর্তমান এলজিআরডি মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কাছে আলফাডাঙ্গার কথা তুলে ধরেছিলেন। এই অঞ্চলে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছিলেন বলেই এই প্রতিষ্ঠানটি আমরা পেয়েছি।
জানতে চাইলে বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ময়না ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নাসির মো. সেলিম বলেন, ‘আরিফুর রহমান দোলন ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের সম্পদ। তিনি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একজন নেতা। তাকে ঘিরে ইতিবাচক পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সাধারণ মানুষ।’
মধুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও মেগচামী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খুরশিদুল আলম জানান, এখন পর্যন্ত যারা এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন তাদের মধ্যে আরিফুর রহমান দোলন এগিয়ে আছেন। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণমূলক কাজের মধ্য দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের অন্তরে ঠাঁই নিয়েছেন। মানুষ তাকে পছন্দ করে। ভালোবাসে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট ৩০ ডিসেম্বর। প্রার্থীরা এখন মনোনয়নের অপেক্ষায় আছেন। আওয়ামী লীগ ৯ থেকে ১১ নভেম্বর তিনদিন মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ফরমপূরণ করে কেন্দ্রে তা জমাও দিয়েছেন। এখন যাচাই-বাছাই চলছে। দু-একদিনের মধ্যেই মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে বলে কেন্দ্রে থেকে জানানো হয়েছে।

ভোটের প্রচার শুরু হবে ৩ ডিসেম্বর থেকে
                                  

অনলাইন ডেস্ক :

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৩ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করতে পারবেন ৩ ডিসেম্বর থেকে। এর আগে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে; প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ নভেম্বর। এবার তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ভোটের তারিখ পর্যন্ত ব্যবধান রয়েছে ৪৬ দিন। আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর থেকে ভোট পর্যন্ত সময় থাকছে ২৩ দিন। কিন্তু গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এর ৪৪ অনুচ্ছেদের ১ ধারার উপদফা (জি) এবং নির্বাচন আচরণবিধিমালার ১২ ধারা অনুযায়ী ভোটের দিনের তিন সপ্তাহ আগে প্রার্থীদের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ বিষয়ে ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান জানান, এবার ৩০ নভেম্বর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করবেন রিটার্নিং অফিসার। প্রতীক নিয়ে প্রার্থীরা ৩ ডিসেম্বর থেকে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রচার চালাতে পারবেন। প্রতীক পেলেও ১ ও ২ ডিসেম্বর প্রচারে নামা যাবে না জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ২৩ ডিসেম্বর ভোট। তার আগের তিন সপ্তাহ ধরলে ৩ ডিসেম্বর থেকেই প্রচারের সুযোগ থাকে। ফরহাদ আহাম্মদ খান বলেন, অতীতে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর থেকে ভোট পর্যন্ত ৪০ দিন সময় রাখারও নজির আছে। কিন্তু প্রচারের ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘনের সুযোগ নেই। সময় বেশি থাকলেও প্রচার শুরু করতে হয় ২১ দিন আগে থেকে। একই কথা বললেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহা. ছহুল হোসাইন। তিনি বলেন, প্রচাররের সুযোগ সর্বোচ্চ ২১ দিন। ফলে ৩ ডিসেম্বর থেকে প্রচারের সুযোগ দেওয়া হলে তাতে আইনি ব্যাত্যয় ঘটেছে না। ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি বলেন, এমনিতে দেখা যায় প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচার শুরু হচ্ছে। কিন্তু প্রতীক পাওয়ার পরে ২১ দিনের বেশি সময় থাকলে প্রচার শুরু হবে পরে। সে অনুযায়ী এবার প্রতীক পাওয়ার পর অন্তত দুই দিন ভোটের প্রচারে নামা যাবে না। তিনি জানান, ভোটের দিনের আগের ৪৮ ঘণ্টায় প্রার্থীদের সব ধরনের সভা সমাবেশ মিছিলেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে আচরণবিধিতে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে ভোট পর্যন্ত হাতে বেশি সময় রাখার পক্ষে যুক্ত দিয়ে সাবেক এই ইসি কর্মকর্তা বলেন, সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের জন্য অনেক প্রস্তুতি নিতে হয়। ব্যালট ছাপানোর জন্যও বেশ কিছু দিন সময় লাগে। এসব বিবেচনায় রেখে তিন সপ্তাহের বেশি ব্যবধান রাখার নজির রয়েছে।

ফেনী -৩ আসনে বিএনপির দুর্গে হানা দিতে প্রস্তুত আওয়ামীলীগ : রোকেয়া প্রাচী
                                  

সোনাগাজী ( ফেনী) প্রতিনিধি :
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী। ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনি। জানা গেছে, সভা-সমাবেশ, পোষ্টার ও ব্যানারসহ নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক রোকেয়া প্রাচী। তিনি কয়েক বছর ধরে ফেনীতে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছেন। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ছাড়াও নির্বাচনী এলাকায় উঠান বৈঠক, নিজের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে ‘স্বপ্ন সাজাই’ এর মাধ্যমে জনসচেতনা সৃষ্টিসহ সামাজিক কর্মকান্ডে অপরাপর প্রার্থীদের সাথে নিজেকে তুলে ধরেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত এ অভিনেত্রী। এছাড়া ফেনী জেলা শ্রমিক লীগ রোকেয়া প্রাচীকে ইতোমধ্যে ফেনী-৩ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে রোকেয়া প্রাচী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তৃণমূলের জনগণের কাছে এসে কাজ করছি। আশা করছি প্রধানমন্ত্রী আমাকে এ আসনে মনোনয়ন দিয়ে এলাকার সেবা করার সুযোগ করে দেবেন। মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে আগামী নির্বাচনে এ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান তিনি। ভালোবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করা যায়, ভোট টানা যায়। মানুষের হৃদয় জয় করে নৌকার পক্ষে ভোট টানুন। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। এখন সাধারণ মানুষও অনেক সচেতন। দল ও প্রার্থীদের বিষয়ে সঠিক ধারণা নিয়ে মানুষের কাছে যেতে হবে। এতে মানুষ সাড়া দেবে। ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনে আওয়ামী লীগে এবার বর্তমান সংসদ সদস্য হাজী রহিম উল্যাহ, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল বাশার, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আক্রাম হোসেন হুমায়ুন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনাম, জেলা যুবলীগের সভাপতি ও দাগনভূঞা উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন ও সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামীলীগের সা:সম্পাদক পৌর মেয়র এডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন মনোনয়ন পেতে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, ফেনী- ৩ আসনটি বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত, এখানে আওয়ামী লীগের আসন বরাবরই নড়বড়ে। এই আসনে ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মাহাবুবুল আলম, ১৯৯৬ সালের ৭ম ও ২০০১ সালের ৮ম এবং ২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির মোশারফ হোসেন জয়লাভ করেন। ২০০৮এর নির্বাচনে মোশাররফ হোসেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৩৯ ভোট পান আর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মো: আবুল বাশার ৯৩ হাজার ৬৩০ ভোট পেয়ে প্রায় সাড়ে ৪২ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। বর্তমানে এই আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজী রহিম উল্লাহ।

সাতক্ষীরা-৪ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন এরশাদ
                                  

অনলাইন ডেস্ক :

 সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর ও কালীগঞ্জের একাংশ) আসনে প্রার্থী হচ্ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। গতকাল বুধবার সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শেখ আজহার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আগামীকাল শুক্রবার এরশাদ সাতক্ষীরা সফর করতে পারেন বলেও জানান তিনি। এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের জগলুল হায়দার। তিনি মাটি ও মানুষের এমপি হিসেবে বেশ আলোচিত। তবে দলীয় গ্রুপিং তাকে ভোগাতে পারে। এই আসনে জামায়াতের সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলামও নির্বাচন করতে পারেন স্বতন্ত্র থেকে। নবম জাতীয় সংসদে এই আসনে মহাজোটের প্রার্থী হয়ে এমপি নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির গোলাম রেজা। সম্প্রতি তিনি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টে যোগ দিয়েছেন। তবে আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে মহাজোট হলে এরশাদ প্রার্থী থাকবেন কিনা সেটা নিশ্চিত নয়।

রাজশাহী সিটি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে বুলবুলের মামলা
                                  

অনলাইন ডেস্ক :

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ভোটে নির্বাচিত হয়ে এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের পরদিন ওই নানা অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন বিএনপির পরাজিত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। গত বৃহস্পতিবার রাজশাহীর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা এই মামলায় ছয়জনকে বিবাদী করা হয়েছে। মামলায় নির্বাচনের বিভিন্ন অসংগতি, ক্ষমতাসীনদের কেন্দ্র দখল, নির্ধারিত সময়ের আগেই মেয়র পদের ব্যালট শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ৩০ জুলাই রাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের পর নতুন নির্বাচিত মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন গত বুধবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে শপথ গ্রহণ করেন। তাঁর শপথ গ্রহণের একদিন পর নির্বাচনী ফলাফল বাতিল এবং নিজেকে মেয়র হিসেবে ঘোষণার দাবিতে মামলা করলেন পরাজিত প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। মামলা করার কথা স্বীকার করে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের ফল বাতিল চেয়ে মামলাটি করা হয়েছে। তাঁর পক্ষে অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনের সচিব, রাসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিজয়ী প্রার্থীসহ নয়জনকে বিবাদী করা হয়েছে। মামলার আরজিতে ঘোষিত রাসিক ফলাফল বাতিল করে বুলবুলকে মেয়র হিসেবে ঘোষণার দাবি করা হয়েছে। মামলার আইনজীবীদের একজন অ্যাডভোকেট পারভেজ তৌফিক জাহেদী জানান, অ্যাডভোকেট আবুল কাশেমের নেতৃত্বে পাঁচজন আইনজীবী মামলার শুনানিতে অংশ নেন। শুনানি শেষে বিচারক আবু সাঈদ মামলাটি আমলে নিয়েছেন এবং বিবাদীদের নামে নোটিশ জারি করেছেন। এর আগে গত ৩০ জুলাই দলীয় প্রতীকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন ১৩৮টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৭৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। নির্বাচনে তিন লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন ভোটারের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন দুই লাখ ৫০ হাজার ৮৮১ ভোটার। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন নৌকা প্রতীকে ভোট পান এক লাখ ৬৫ হাজার ৯৬। বিএনপির মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ধানের শীষ প্রতীকে ৭৭ হাজার ৭০০ ভোট পান। এ ছাড়া অন্যান্য মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের শফিকুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে তিন হাজার ২৩ ভোট, গণসংহতি আন্দোলন সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুরাদ মোর্শেদ হাতি প্রতীকে এক হাজার ৫১ ভোট এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির হাবিবুর রহমান কাঁঠাল প্রতীকে পান ৩২০ ভোট। পাঁচ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন নৌকা প্রথীকে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে রাজশাহী সিটি করপোশনের মেয়র পদে নির্বাচিত হন। নবনির্বাচিত মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বুধবার মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

সিলেটে পুনঃভোটে জয়ী বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক
                                  
অনলাইন ডেস্ক :
অবশেষে প্রতীক্ষার পালা শেষ হলো সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের (সিসিক) মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর। তিনি স্থগিত দু’টি কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটসহ সর্বমোট ৬ হাজার ২০১ ভোট বেশি পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সিসিকের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার সর্বমোট প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৯২ হাজার ৫৯৮। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৩৯৭ ভোট।
 
এর আগে শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত সিলেট সিটি নির্বাচনের স্থগিত হওয়া দু’টি কেন্দ্রসহ ১৬ কেন্দ্রের পুনরায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
 
গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অনিয়ম ও গোলযোগের কারণে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের হবিনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া সংরক্ষিত ৭নং ওয়ার্ডে ২ জন প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট সমান হয়ে যাওয়ায় পুনরায় নির্বাচন হয়।
 
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা দুই মেয়র প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ১৩৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩২ কেন্দ্রের ফলাফলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান থেকে ৪৬২৬ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। স্থগিত হওয়া গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ২২২১ জন। এর মধ্যে আজ ভোট পড়েছে ১৩১২টি। তার মধ্যে ধানের শীষে আরিফ পেয়েছেন ১০৪৯ ভোট, নৌকায় কামরান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। এ ছাড়া হবিনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষে আরিফ পেয়েছেন ১০৫৩ ভোট, নৌকায় কামরান পেয়েছেন ৩৫৪ ভোট।
 
সিসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ হয়।  তিনি জানান, ১৬টি কেন্দ্রে সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়াও বিপুুল সংখক আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল।
সিলেটে স্থগিত দুটি কেন্দ্রের মৃত ভোটারের তালিকা ইসিকে দিলেন আরিফুল
                                  

অনলাইন ডেস্ক :

সিলেটের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের স্থগিত দুটি কেন্দ্রের মৃত ভোটারদের তালিকা জমা দিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে. এম. নুরুল হুদার কাছে এসেছিলেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সিইসি কে. এম. নুরুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে মেয়র প্রার্থী নিজেই এই কথা জানিয়েছেন। আরিফুল হক বলেন, আমি সিইসির কাছে এসেছিলাম সিলেট সিটি করপোরেশনের যেসব ভোটার মারা গেছেন, তাঁদের তালিকা দিতে। কারণ, মৃত ব্যক্তি ভোট যাতে অন্য কেউ দিতে না পারেন। তাঁর ভোট যেন কাস্ট না হয়। তবে এসব করেই আমাকে হারাতে পারবে না। আমাকে জনগণ চায়। বিএনপি প্রার্থী আরো বলেন, এ ছাড়া যেসব ভোটার দেশের বাইরে আছেন, তাঁদের তালিকাও আমরা দিয়েছি। আরো বিভিন্ন অনিয়মের কথা সিইসিকে জানিয়েছি। তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানিয়েছেন। ভোট সুষ্ঠু হলে আমি এক লাখ ভোট বেশি পেতাম। সাবেক মেয়র বলেন, দুইটা কেন্দ্রে মোট ভোটার চার ৭৮৭ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১১৮ জন। আর বিদেশে অবস্থান করছেন মোট ১৮০ জন। এ ছাড়া তিনজন ভোটার এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে ধানের শীষের প্রার্থী আরো বলেন, আমি টিভিতে লাইভ ছাড়া আর কথা বলতে চাই না। কারণ লাইভ না হলে আপনারা তা কেটেকুটে চালাবেন। আর লাইভে হলে আপনারা কাটাকাটি করতে পারবেন না। এর আগে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কক্ষে প্রবেশ করেন। সিইসিকে তিনি লিখিত তালিকা দিয়ে বের হয়ে সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন। গত ৩০ জুলাই সিলেট সিটি করপোরেশনে (সিসিক) ভোট গ্রহণের সময় গোলযোগের কারণে স্থগিত করা হয় দুটি কেন্দ্রের ভোট। ওই দুটি কেন্দ্রের পুনভোট হবে ১১ আগস্ট। সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের ফল ঘোষণার কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত ১৩২টি কেন্দ্রের মধ্যে আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট। সেই হিসাবে আরিফুল হক চৌধুরী সিসিক নির্বাচনে ১৩২টি কেন্দ্রে চার হাজার ৬২৬ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। অপরদিকে, স্থগিত হওয়া দুটি কেন্দ্রের মোট ভোটার চার হাজার ৭৮৭। নির্বাচনী এই হিসেবে বিজয় নিশ্চিত করার জন্য আরো ১৬১টি ভোট প্রয়োজন আরিফুল হকের।

সিলেটে স্থগিত হওয়া দুই কেন্দ্রের ভোট ১১ অগাস্ট
                                  

অনলাইন ডেস্ক :

যে দুই কেন্দ্রের জন্য সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল প্রকাশ আটকে রয়েছে, সেই দুই কেন্দ্রে ভোট হবে ১১ অগাস্ট। নির্বাচন কমিশনের উপ সচিব ফরহাদ হোসেন গতকাল বুধবার বলেন, আমরা ইতোমধ্যে তারিখ নির্ধারণ করে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশনা পাঠিয়ে দিয়েছি। সোমবার রাজশাহী ও বরিশালের সঙ্গে একসঙ্গেই সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। কিন্তু অনিয়ম ও গোলযোগের কারণে দুটি কেন্দ্র স্থগিত হওয়ায় এবং ওই দুই কেন্দ্রের ভোটের সংখ্যা প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর ভোটের ব্যবধানের চেয়ে বেশি হওয়ায় ফলাফল আটকে যায়। রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান সোমবার রাতে ১৩৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩২টির যে ফলাফল ঘোষণা করেন, তাতে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ৪ হাজার ৬২৬ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের বদর উদ্দীন আহমদ কামরানের চেয়ে এগিয়ে আছেন। সিলেটের গত মেয়াদের মেয়র আরিফুল ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৩ ভোট। আর সাবেক মেয়র কামরান নৌকা প্রতীকে ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট পেয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, স্থগিত থাকা গাজী বোরহান উদ্দিন মাদ্রাসা (১১৬ নং কেন্দ্র) ও হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৩৪ নং কেন্দ্র) কেন্দ্রে মোট ভোট আছে ৪৭৮৭টি। অর্থাৎ দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধানের চেয়ে ১৬১টি ভোট বেশি রয়েছে স্থগিত কেন্দ্র দুটিতে। ফলে নিয়ম অনুযায়ী ওই দুই কেন্দ্রের ভোটারদের আবার ভোট দিতে হবে এবং তাতেই নির্ধারিত হবে পরবর্তী মেয়র কে হবেন। অবশ্য গত বার আরিফুলের কাছে হেরে যাওয়া কামরান এবার ব্যবধান ডিঙিয়ে জয়ী হতে পারলে তা হবে অসম্ভবকে সম্ভব করার মতো ঘটনা। সার্বিক ভোটের হার (৬২ শতাংশ) যদি স্থগিত দুটি কেন্দ্রে পুনঃভোটের সময় বজায় থাকে, তাহলে ৩ হাজারের মতো ভোট পড়তে পারে। এইসব ভোট যদি নৌকা প্রতীকে পড়ে, আরিফুল যদি একটি ভোটও না পান, তাতেও তার হারার কোনো সম্ভাবনা নেই। কামরানকে জিততে হলে ৪৮৮৭ জন ভোটারের মধ্যে কমপক্ষে ৪৭২৬ জনকে ভোট কেন্দ্রে নিতে হবে এবং তাদের সবার ভোট নৌকায় পড়তে হবে। এই ভোটের একটি বাতিল হলেও চলবে না। ৪৭২৬টি ভোটের চেয়ে একটি কম পড়লে কিংবা কোনো ভোট আরিফুলের ধানের শীষে পড়লেই কামরানের সম্ভাবনা উবে যাবে। আর ওই দুই কেন্দ্রের সব ভোটার যদি ভোট দেন, তাতে আরিফুলকে জয়ী হতে হলে মাত্র ১৬২টি ভোট পেলেই চলবে। সোমবার ফল ঘোষণা না হলেও মধ্যরাতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আরিফুল বের হওয়ার সময় তার সমর্থকরা জয়োল্লাসই করছিল। আরিফুল সে সময় সাংবাদিকদের বলেন, তারা সারাদিন চেষ্টা করেছে লোকজন যেন ভোটকেন্দ্রে না আসে। কিন্তু মানুষকে দূরে রাখা যায়নি। তারা এসেছেন এবং ভোট দিয়েছেন। এ বিজয় জনগণের বিজয়। অন্যদিকে কামরান পরদিন তার বাড়িতে সাংবাদিকদের সামনে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে গোলযোগ হওয়া ১৮টি কেন্দ্রে নতুন করে ভোট গ্রহণের দাবি জানান। অবশ্য ভোটে এগিয়ে থাকা আরিফুল গত মঙ্গলবার সপরিবারে কামরানের বাসায় গিয়ে কুশল বিনিময় করেন। বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সামনে কোলাকুলিও করেন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। তখন দুজনকে বেশ হাসিখুশিই দেখাচ্ছিল। আরিফুল বলেন, ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও কামরান আমার বড় ভাই। তার সঙ্গে দেখা করতে বাসায় গিয়েছিলাম। কামরান দীর্ঘদিন নগরপিতা ছিলেন। সব ভেদাভেদ ভুলে একটি পরিকল্পিত সিলেট গড়তে একসাথে কাজ করতে চাই। বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান বলেন, সিলেটে রাজনৈতিক একটা সম্প্রীতি রয়েছে। আরিফুল আমার বাসায় এসেছিলেন। তার সঙ্গে কথা হয়েছে, কুশল বিনিময় হয়েছে।

সিলেটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে জাতীয় পার্টির সমর্থন
                                  

অনলাইন ডেস্ক :

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছে জাতীয় পার্টি। সিলেটে গত নির্বাচনে জাতীয় পার্টি দিলেও এবার দেয়নি। তবে জাতীয় পার্টির কোনো নেতা-কর্মীকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে দেখা যায়নি। ৩০ জুলাই ভোটের আগে প্রচারের শেষ দিন গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির সভাপতিম-লীর সদস্য এবং সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক এ টি ইউ তাজ রহমান নৌকার প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নির্দেশ আছে। এ ছাড়া গতকাল (গত শুক্রবার) আমরা দলীয় বৈঠকেও এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। চেয়ারম্যানের নির্দেশ এবং সবার মতামতের ভিত্তিতেই আমরা আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানকে সমর্থন জানাচ্ছি। জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা বিকাল থেকেই কামরানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে নামবে বলে জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন, জাতীয় পার্টির সিলেট মহানগর আহ্বায়ক ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া, জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক ইশরাকুল ইসলাম শামীম, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে আবদুল মোমেন উপস্থিত ছিলেন। সিলেট-২ আসনের সাংসদ এবং মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া বলেন, জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের ঐক্য অতীতেও ছিল, এখনও আছে। আজ (গতকাল শনিবার) শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলাম। আজ থেকে আমরা আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানের পক্ষে কাজ করে তার বিজয় সুনিশ্চিত করব। মেয়র কামরানের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেওয়ায় জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।

সুষ্ঠু নির্বাচন হলে কমপক্ষে এক লক্ষ ভোটে বিজয়ী হব: আরিফুল
                                  

অনলাইন ডেস্ক :

সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভয়’ দেখানোর অভিযোগ এনে সিলেটে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, তারপরও নির্বাচনের মাঠ থেকে সরবেন না তিনি। বিদায়ী মেয়র আরিফুল গতকাল শনিবার সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের প্রচারাভিযানের শেষ দিনে গণসংযোগের সময় সাংবাদিকদের বলেন, আল্লার ওপর ভরসা রেখে বলছি, যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় কমপক্ষে একলক্ষ ভোটে আমি বিজয়ী হব। আমার মৃত্যু পর্যন্ত আমি এবং নেতাকর্মীরা নির্বাচনের মাঠ থেকে এক মিনিটের জন্য, এক সেকেন্ডের জন্য নড়ব না। রেজাল্ট নিয়ে আমরা বাড়ি যাব। সকালে মিরাবাজার, আকপাড়া, ঝেরঝেরি পাড়া এলাকায় গণসংযোগ করেন ধানের শীষের প্রার্থী আরিফুল। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভোট চান তিনি। দলের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে ছিলেন। আরিফুল সাংবাদিকদের বলেন, জনগণের প্রতি আস্থা নেই বলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কারচুপির ব্যবস্থা করেছেন। তিনি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। জনগণের প্রতি তার আস্থা নাই। তিনি ক্ষমতার ব্যবহার করছেন। সিলেটে গতবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে হারিয়ে মেয়র হয়েছিলেন আরিফুল। এবারও তারা দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। বিএনপি নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে আবারও অভিযোগ করেন আরিফুল। আমার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে কেন পুলিশ দিয়ে প্যানিক তৈরি করা হল? কেন আমার সমস্ত নেতাকর্মীদের বাড়িতে রেইড করা হল? মামলার পর মামলা দেওয়া হচ্ছে। রাতে অন্ধকারে ককটেল মারা হচ্ছে। কৌশলে পুলিশের উপর পড়ে, আর কারও উপর পড়ে না। ঢাকা থেকে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা সিলেটে এসে ভোটে প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর। ঢাকা থেকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে লোক এখানে আসছেন। তার কারণ এখানে প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করা। বড় বড় কর্মকর্তারা এইখানে ভিজিট করতেছেন। তাদের কী এত মাথাব্যথা? জনগণ যাকে পছন্দ তাকে ভোট দিবে। গতকাল শনিবার সকালের দিকে প্রচারে বের হননি নৌকার প্রার্থী কামরান। হিলটাউন হোটেলে আয়োজিত জাপার সংবাদ সম্মেলনে তার যাওয়ার কথা থাকলেও সেখানে যাননি তিনি। কামরান শিবির থেকে জানানো হয়েছে, বিকালে শহরের দক্ষিণ সুরমা, কাজীবাজার এবং কিনব্রিজ এলাকায় পথসভা করবেন তাদের প্রার্থী।

বরিশালে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান সরওয়ারের
                                  

অনলাইন ডেস্ক :

বরিশালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়েও বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার-হয়রানি করা হচ্ছে অভিযোগ করে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করার আহ্বান জানিয়েছেন ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী মজিবুর রহমান সরওয়ার। আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিতব্য এই ভোটের প্রচারের শেষ দিন গতকাল শনিবার দুপুরে বরিশাল মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি। সরওয়ার বলেন, এভাবে নির্বাচন করা যায় না। এখনও সময় আছে, গ্রেফতার-হয়রানি বন্ধ করুন। বরিশালে এখনও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। বিএনপি নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে পুলিশ গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে বলে সরওয়ার অভিযোগ করে এলেও ক্ষমতাসীনরা তা প্রত্যাখ্যান করছেন। বিএনপির অভিযোগ ইসিও আমলে নিচ্ছে না বলে অভিযোগ। গ্রেফতার-হয়রানি চলতে থাকলে রোববার আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বসে ‘কঠোর সিদ্ধান্ত’ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার। সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচন বর্জন করা কি না- সাংবাদিকের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত কঠোরও হতে পারে। বরিশালের এক সময়ের মেয়র ও সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার বলেন, বরিশালে আগে ঈদের খুশির মতো নির্বাচন হত, এখন চোখের জলে নির্বাচন হচ্ছে। এমন নির্বাচন বরিশালবাসী চায়নি। ইসির উদ্দেশে তিনি বলেন, এখনও সময় আছে, নির্বাচন কমিশন চাইলে বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপর চলা জুলুম-নির্যাতন বন্ধ করতে পারে। হাই কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সরওয়ার। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বলেন, নির্বাচন কমিশনের আইন মানছে না আওয়ামী লীগ। মন্ত্রী পদমর্যাদার লোক বরিশালে অবস্থান করছেন। মোটরসাইকেল মহড়া দেওয়া হচ্ছে। দলীয় প্রতীক নিয়ে মিছিল, শো-ডাউন করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব এবায়দুল হক, বিলকিস জাহান শিরিনসহ নগর বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ৩০ জুলাই নির্বাচনে বরিশাল সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ও বিএনপি মনোনিত প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান সরোয়ারসহ ছয় জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

রাজশাহী সিটি নির্বাচন: সেনা মোতায়েনের দাবি বুলবুলের
                                  

অনলাইন ডেস্ক :

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ভোটের তিন দিন আগ থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর মালোপাড়া এলাকার দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাজশাহী নগরীর পরিবেশ সঠিক পর্যায়ে রাখার জন্য, ভোট পরিচালনা করার জন্য এবং জনগণকে তার অধিকার প্রয়োগ করার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। সেই সঙ্গে ভোটের পরদিনও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে সেনাবাহিনী রাখার দাবি জানিয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী। জনগণের অধিকার প্রয়োগ, নিশ্চিন্ত মনে বাড়ি ফেরা এবং আমার পোলিং এজেন্টগণ কীভাবে বাড়িতে ফিরতে পারে, রাজশাহীর পরিস্থিতি আরো যেন উদ্বেগজনক না হয়, একটি স্বাভাবিক পরিবেশের জন্য আমরা সেনাবাহিনী মোতায়েন জরুরি বলে মনে করছি। বরিশাল ও সিলেটের সঙ্গে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে ৩০ জুলাই। এ নির্বাচন ঘিরে ভোটের প্রচারে পুরো নগরী এখন সরগরম। কিন্তু ভোটের প্রচারে বিএনপি নেতাকর্মীদের পুলিশি হয়রানি করা হচ্ছে অভিযোগ করে বুলবুল বলেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে হবে। কালো তিন-চারটি মাইক্রোবাসে এবং ৫০টি মোটর সাইকেলে করে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং গডফাদাররা রাজশাহী শহরে মাস্তানির মহড়া দিয়ে বেড়াচ্ছে। রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি বুলবুল বলেন, পোলিং এজেন্টসহ বিএনপির নেতাকর্মী ও ধানের শীষের সমর্থনকারীদের গণগ্রেফতার বন্ধ করতে হবে। গ্রেফতার নেতাকর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রে জনগণের জান ও মালের নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে। পক্ষপাতদুষ্ট পুলিশ প্রশাসনের আক্রমণ থেকে নেতাকর্মী ও পোলিং এজেন্টদের রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের ২৯টি অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে জমা দিলেও কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন বুলবুল। তারা পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগের কর্মকা-কে সমর্থন করেছে। যেমন- নির্বাচনী হলফনামায় উল্লিখিত ব্যয়ের চাইতে প্রায় ১০/১২ কোটি টাকা বেশি ব্যয়ে রাজশাহীতে নৌকা প্রতীকে লক্ষাধিক পোস্টার সন্ত্রাস, ব্যানার ফেস্টুন সন্ত্রাসৃ এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকাগুলো প্রকাশ করেছে। আমরা অভিযোগ জানানোর পরেও নির্বাচন কমিশন কিছু জানে না বলে মিথ্যাচার করছে। বুলবুল বলেন, গত ২২ জুলাই নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত আকারের চেয়ে বড় সব ব্যানার ও ফেস্টুন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিলে তিনি এবং বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা তা অপসারণ করে নেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রার্থী তা অপসারণ করে নাই। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কেউ কিছুই করে নাই। ওয়ারেন্ট ছাড়া কাউকে গ্রেফতার না করার নির্দেশনাও ভঙ্গ করা হচ্ছে অভিযোগ করে বুলবুল বলেন, নির্বাচন কমিশনের সেই আদেশ লঙ্ঘন করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও তার নেতাকর্মীদের যোগসাজসে পুলিশ প্রশাসন গণগ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে। এ পর্যন্ত বিএনপির প্রায় ১৫০ জন নেতাকর্মী এবং পোলিং এজেন্টকে ‘অন্যায় ও অমানবিকভাবে’ গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন বিএনপির প্রার্থী। অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপি চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা শাহজাহান মিয়াসহ দলের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

রাজশাহী সিটি নির্বাচন: বুলবুলের অভিযোগ অস্বীকার লিটনের
                                  

অনলাইন ডেস্ক :

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পুলিশের ভূমিকা পালন করছে, বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি বলেন, নৌকায় ভোট দিলে এক লাখ ছেলে-মেয়ের কর্মসংস্থান হবে। ঘরে ঘরে গ্যাস পৌছে দেওয়া হবে। নতুন নতুন স্কুল-কলেজ হবে। ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হলে এতোদিন অনেক কাজ হয়ে যেতো বলেও উল্লেখ করেন লিটন। গতকাল বুধবার নগরীর ভেড়িপাড়া মোড়ে পথসভা শেষে ওই এলাকায় গণসংযোগকালে খায়রুজ্জামান লিটন এসব কথা বলেন। ডিজিটাল নগরী গড়তে স্বাধীনতা ও উন্নয়নের প্রতীক নৌকা মার্কায় ভোট চান খায়রুজ্জামান লিটন। এর আগে গতকাল বুধবার নগরীর ১৩ ও ২০ নং ওয়ার্ডে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাতকারের সময় অভিযোগ করেন বুলবুল। তিনি বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশন যতই ঘনিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পুলিশের ভূমিকা পালন করছে। পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র উচিঁয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মারধর করছে, বিএনপি অফিস ভেঙ্গে দিচ্ছে এবং উল্টো পুলিশকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিচ্ছে। পুলিশও তাদের কথামতো কাজ করেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে নির্বাচন কোনভাবেই সুষ্ঠু ও অবাধ হবেনা। নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেছেন বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তিনি বলেন, রাজশাহীতে সরকার দলীয় প্রার্থীর নির্দেশে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও তাদের অঙ্গ এবং সহযোগি সংগঠনের সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা বিএনপি’র গণসংযোগ ও পাড়া মহল্লায় নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করলেও তারা নিরব দর্শকের ন্যয় ভূমিকা পালন করছে। বুলবুল বলেন, বিএনপি একটি সু-সংগঠিত, সু-শৃঙ্খল ও উন্নয়নমুখি দল। বিএনপি’র বর্তমান অবস্থা দেখে সরকার দলীয় প্রার্থী ভীত হয়ে এই কা-গুলো করছে। পাড়া মহল্লায় ধানের শীষের গণজোয়ার বইছে। ভোটারগণ আগামি ৩০ তারিখ শতবাধা উপেক্ষা করে এর প্রতিফলন ঘটানোর অপেক্ষায় রয়েছে বলেও বুলবুল জানান।

রাজশাহীত আ.লীগ ও ছাত্রলীগ পুলিশের ভূমিকা পালন করছে: বুলবুল
                                  

অনলাইন ডেস্ক :

রাজশাহী: আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ পুলিশের ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ করে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেছেন, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে তারা ততই আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র উঁচিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মারধর করছে এবং পুলিশকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বুলবুল। গতকাল বুধবার দুপুরে মহানগরীর ১৩ ও ২০নং ওয়ার্ডে গণসংযোগের সময় সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন তিনি। মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, গত মঙ্গলবার মহানগরীর হেতম খাঁ এলাকায় বিনা কারণে ছাত্রদলের নেতাদের মারধর করে বিএনপি অফিস ভেঙে দিয়েছে ছাত্রলীগের নামধারী সন্ত্রাসীরা। সেখানেও পুলিশ তাদের কথামতো কাজ করেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে নির্বাচন কোনভাবেই সুষ্ঠু হবে না। বুলবুল অভিযোগ করে বলেন, রাজশাহীতে সরকার দলীয় প্রার্থীর নির্দেশে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও তাদের অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা বিএনপির গণসংযোগ ও পাড়া মহল্লায় নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। শারীরিক ও মানসিককভাবে নির্যাতন এবং নারী কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে। এ নিয়ে রাজশাহী নির্বাচন কমিশনে প্রতিনিয়ত অভিযোগ করলেও তারা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। বিএনপি একটি সু-সংগঠিত, সু-শৃংখল ও উন্নয়নমুখী দল। বিএনপির বর্তমান অবস্থা দেখে সরকার দলীয় প্রার্থী এসব কা- করছেন। গণসংযোগকালে বুলবুলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন প্রমুখ।

সিলেটে আ.লীগের প্রার্থী কামরানের ৩৩ দফা ইশতেহার ঘোষণা
                                  

অনলাইন ডেস্ক :

সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও হকারমুক্ত ফুটপাতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৩৩ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছেন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় নগরীর নির্ভানা ইন হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে সিলেট’ স্লোগানে প্রকাশিত ইশতেহার পাঠ করেন মেয়র প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। সিলেট নগরীতে উচ্চ শিক্ষার জন্য সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও আধুনিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করা ছাড়াও নতুন কর আরোপ ছাড়াই নগরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন কামরান। তাছাড়া কামরানের প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে নগরীর ফুটপাত হকারমুক্ত ও উচ্ছেদকৃত হকারদের পুনর্বাসনের জন্য চারটি হাকার্স মার্কেট প্রতিষ্ঠা, দখল হওয়া ছড়া-খাল উদ্ধার ও খনন করে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং প্রতিটি ওয়ার্ডকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা। সেইসঙ্গে সিলেটকে প্রথম ডিজিটাল নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে কামরান তার ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেন। নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিশ্বমানের হাসপাতল ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা, প্রতিমাসে ওয়ার্ডভিত্তিক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন, নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও যানজটমুক্ত সিলেট নগরীর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উঠে এসেছে কামরানের ইশতেহারে। নতুন গ্যাস সংযোগ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, নারীদের জন্য আলাদা পরিবহন, টেমসের আদলে সুরমা নদীর দুইপাড় আধুনিকায়ন, শিশু সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ ও নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধসহ উন্নয়নের ৩৩ প্রতিশ্রুতি রয়েছে কামরানের নির্বাচনী ইশতেহারে। ইশহেতার ঘোষণার সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের দুইবারের নির্বাচিত মেয়র কামরান বলেন, এটিই হয়ত আমার শেষ নির্বাচন হতে পারে। সিলেটবাসী আমাকে বার বার ভোট দিয়েছেন। তাদের ভালোবাসার প্রতিদান দিয়ে শেষ করার মতো নয়। তবু আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। এবারও সিলেটবাসী আমাকে নির্বাচিত করলে আমি তাদের ভালোবাসার সর্বোচ্চ প্রতিদানের চেষ্টা করব। নাগরিক জীবন যাতে আরও সুন্দর ও স্বচ্ছন্দ হয়, আমি তাই করব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও আহমদ হোসেন, দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা আসাদ উদ্দিনসহ সিলেট জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


   Page 1 of 2
     সাক্ষাৎকার
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এফ এম রেডিওকে পুরস্কারের ক্যাটাগরিতে আনা উচিত : আর জে টুটুল
.............................................................................................
ফরিদপুর-১ যে কারণে এগিয়ে আছেন দোলন
.............................................................................................
ভোটের প্রচার শুরু হবে ৩ ডিসেম্বর থেকে
.............................................................................................
ফেনী -৩ আসনে বিএনপির দুর্গে হানা দিতে প্রস্তুত আওয়ামীলীগ : রোকেয়া প্রাচী
.............................................................................................
সাতক্ষীরা-৪ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন এরশাদ
.............................................................................................
রাজশাহী সিটি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে বুলবুলের মামলা
.............................................................................................
সিলেটে পুনঃভোটে জয়ী বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক
.............................................................................................
সিলেটে স্থগিত দুটি কেন্দ্রের মৃত ভোটারের তালিকা ইসিকে দিলেন আরিফুল
.............................................................................................
সিলেটে স্থগিত হওয়া দুই কেন্দ্রের ভোট ১১ অগাস্ট
.............................................................................................
সিলেটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে জাতীয় পার্টির সমর্থন
.............................................................................................
সুষ্ঠু নির্বাচন হলে কমপক্ষে এক লক্ষ ভোটে বিজয়ী হব: আরিফুল
.............................................................................................
বরিশালে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান সরওয়ারের
.............................................................................................
রাজশাহী সিটি নির্বাচন: সেনা মোতায়েনের দাবি বুলবুলের
.............................................................................................
রাজশাহী সিটি নির্বাচন: বুলবুলের অভিযোগ অস্বীকার লিটনের
.............................................................................................
রাজশাহীত আ.লীগ ও ছাত্রলীগ পুলিশের ভূমিকা পালন করছে: বুলবুল
.............................................................................................
সিলেটে আ.লীগের প্রার্থী কামরানের ৩৩ দফা ইশতেহার ঘোষণা
.............................................................................................
ওজন কমতেও পারে পাস্তা খেলে
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশক : জিয়াউল হক ।
নির্বাহী সম্পাদক : মো: হাবিবুর রহমান । এম, এ হাসান : সম্পাদক কর্তৃক বিএস প্রিন্টিং প্রেস ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সুত্রাপুর ঢাকা খেকে মুদ্রিত
ও ৬০/ই/১ পুরানা পল্টন (৭ম তলা) থেকে প্রকাশিত বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১,৫১/ এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (৪র্থ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০।
ফোনঃ-০২-৯৫৫০৮৭২,-মোবাইলঃ- ০১৭১৬-৯১১৫৭২

E-mail: provatikhoborbd@gmail.com,provatikhobor2014@gmail.com,
Web: www.dailyprovatikhobor.com

   All Right Reserved By www.dailyprovatikhobor.com Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop