খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, টেকসই কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় জলবায়ু-সহনশীল কলা চাষ ও সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসের হলরুমে জাবারাং কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে এবং Tebtebba Foundation-এর সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন "3197-ST-NRM (Revival of Traditional Crops and Sustainable Technologies for a Resilient Food System and Sustainable Natural Resources Management)" প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার দয়ানাথ রোয়াজা। প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সেলিম রানা এবং উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. ইউনুছ নুর।
প্রকল্পের ৩০ জন নারী ও পুরুষ সুবিধাভোগী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। এতে জলবায়ু-সহনশীল কলা চাষের আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাত নির্বাচন, রোগ ও পোকামাকড় দমন, মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ, জৈব সার ব্যবহার, পানি ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কৌশল বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষিকে অভিযোজনক্ষম ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। জলবায়ু-সহনশীল জাত এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন বাড়বে, কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
সভাপতির বক্তব্যে দয়ানাথ রোয়াজা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কৃষকদের বাস্তবমুখী জ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রশিক্ষকরা বলেন, স্থানীয় পরিবেশ ও জলবায়ুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকায় কলা চাষ ও সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণ করলে উৎপাদন বৃদ্ধি, ব্যয় হ্রাস এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা মাঠপর্যায়ে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগের অঙ্গীকার করেন। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে ধারাবাহিকভাবে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হবে।