বিশেষ সংবাদ

শ্রীমঙ্গলে বিনামূল্যে চক্ষু শিবির, ১৪৫ জন পেলেন চশমা

শ্রীমঙ্গলে বিনামূল্যে চক্ষু শিবির, ১৪৫ জন পেলেন চশমা

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান বাজারে অবস্থিত সাউথ বালিশিরা কেজি স্কুলে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, ছানি অপারেশনের জন্য রোগী নির্বাচন এবং চশমা বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) স্কুলের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিনের উদ্যোগে এবং মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল (মাতারকাপন)-এর সহযোগিতায় সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, আশপাশের গ্রামসহ দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য রোগী চক্ষু সেবা নিতে আসেন। বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চশমা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন সেবাগ্রহীতারা।

রোগীদের কয়েকজন জানান, অনেক দরিদ্র মানুষের পক্ষে ছানি অপারেশনের ব্যয় বহন করা সম্ভব হয় না। এ ধরনের বিনামূল্যের চিকিৎসাসেবা তাদের জন্য বড় সহায়তা। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার দাবি জানান এবং আয়োজক ও সেবাদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় পল্লী চিকিৎসক স্বপন কুমার প্রধান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর আবুল কালাম আজাদ, পল্লী চিকিৎসক আলমগীর হোসেন এবং মাওলানা ছালাহ উদ্দিন আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাউথ বালিশিরা কেজি স্কুলের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোট ২২০ জন রোগী নিবন্ধন করেন। তাদের মধ্যে ১৪৫ জনকে বিনামূল্যে চশমা দেওয়া হয়েছে এবং ২৫ জনের চোখে ছানি শনাক্ত হয়েছে। ছানি আক্রান্ত রোগীদের অপারেশনের জন্য মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপারেশন শেষে তাদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করায় মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং কুঞ্জবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডা. একরামুল কবির বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে এবং স্বেচ্ছাসেবকেরা আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতি বছর সাউথ বালিশিরা কেজি স্কুলে এ ধরনের চক্ষু শিবির আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।