বিশ্ব

নাইজেরিয়া ও সুদান: চলমান সংঘাত ও হামলা—আফ্রিকার মানবিক সংকটের গভীর চিত্র

নাইজেরিয়া ও সুদান: চলমান সংঘাত ও হামলা—আফ্রিকার মানবিক সংকটের গভীর চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

নাইজেরিয়া এবং সুদানে সংঘাত ও হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা আফ্রিকা মহাদেশের মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে। নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বন্দুকধারীদের হামলায় নিয়মিত মানুষ নিহত হচ্ছে। সুদানে সেনাবাহিনী এবং র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (RSF) মধ্যে লড়াই চলছে, যাতে হাজার হাজার সিভিলিয়ান প্রাণ হারাচ্ছে। এই দুই দেশের সংঘাত দেখিয়ে দেয় যে, আফ্রিকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা এখনও সুদূরপরাহত।

নাইজেরিয়ায় বোকো হারাম, আইএসডব্লিউএপি এবং ব্যান্ডিট গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বেড়েছে। কাদুনা, জামফারা এবং অন্যান্য রাজ্যে গ্রামে হামলা, অপহরণ এবং হত্যাকাণ্ড নিয়মিত ঘটনা। সরকার বড় সামরিক অভিযান চালালেও, সন্ত্রাসীরা গ্রামীণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আক্রমণ করছে। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, খাদ্য উৎপাদন কমছে এবং লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

সুদানে সেনাবাহিনী (SAF) এবং আরএসএফ-এর মধ্যে গৃহযুদ্ধ চলছে। খার্তুম, দারফুর এবং অন্যান্য অঞ্চলে তীব্র লড়াইয়ে সিভিলিয়ান এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ড্রোন হামলা, আর্টিলারি বোমাবর্ষণ এবং লুটপাটের ঘটনা বেড়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং খাদ্যাভাব তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই সংঘাত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে।

এই সংঘাতের মূল কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, সম্পদের লড়াই এবং জাতিগত বিভেদ। নাইজেরিয়ায় দারিদ্র্য এবং বেকারত্ব যুবকদের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে টেনে আনে। সুদানে ক্ষমতার লড়াইয়ে সাধারণ মানুষ বলির পাঁঠা হচ্ছে। উভয় দেশেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া মিশ্রিত। জাতিসংঘ শান্তির আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু কার্যকর হস্তক্ষেপ কম। আফ্রিকান ইউনিয়ন মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। তবে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ না হলে সংঘাত থামবে না।

নাইজেরিয়া ও সুদানের এই সংঘাত আফ্রিকার বৃহত্তর অস্থিরতার প্রতীক। হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং বাস্তুচ্যুতি দেখিয়ে দেয় যে, রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া এই সংকট থেকে বেরোনো কঠিন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় হতে হবে।