বিশ্ব

সোমালিয়ায় জলদস্যুতার পুনরুত্থান: ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবং সমুদ্রপথের নতুন হুমকি

সোমালিয়ায় জলদস্যুতার পুনরুত্থান: ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবং সমুদ্রপথের নতুন হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুতা আবার ফিরে এসেছে। ইরান-সম্পর্কিত যুদ্ধের প্রভাবে আফ্রিকার হর্ন অফ এফ্রিকা অঞ্চলে নৌ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় জলদস্যুরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ হাইজ্যাকের ঘটনা ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক শিপিং রুটকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এই পুনরুত্থান শুধু সোমালিয়ার অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, বরং আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

২০১০-এর দশকে সোমালিয়ার জলদস্যুতা আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর অভিযানে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে লোহিত সাগর এবং আদেন উপসাগরে নৌ-টহল কমে গেছে। অনেক যুদ্ধজাহাজ এখন ইরান-সম্পর্কিত অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে সোমালিয়ার উপকূলে নজরদারি শিথিল হয়ে পড়েছে। জলদস্যুরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ছোট নৌকা এবং আধুনিক অস্ত্র নিয়ে জাহাজ হাইজ্যাক শুরু করেছে।

জলদস্যুতার পেছনে স্থানীয় অর্থনৈতিক দুর্দশা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বড় ভূমিকা রাখছে। সোমালিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল, বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠী সক্রিয় এবং যুবকদের মধ্যে বেকারত্ব প্রকট। জলদস্যুতা অনেকের কাছে দ্রুত অর্থ উপার্জনের উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে বাণিজ্যিক জাহাজের গতিবিধি বেড়েছে, যা জলদস্যুদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করেছে।

এই পুনরুত্থানের প্রভাব বৈশ্বিক। লোহিত সাগর দিয়ে বিশ্বের এক বড় অংশের তেল ও পণ্য পরিবহন হয়। জলদস্যুতা বাড়লে বীমার খরচ বাড়বে, জাহাজ কোম্পানিগুলো নতুন রুট খুঁজবে এবং বাণিজ্যে বিলম্ব ঘটবে। ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকার অর্থনীতি প্রভাবিত হবে। সোমালিয়ার স্থানীয় জনগণের জন্যও এটি নতুন দুর্ভোগ—জলদস্যুদের কারণে মাছ ধরা এবং উপকূলীয় বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া দ্রুত এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্র নৌ-টহল বাড়ানোর কথা বলেছে। কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে সম্পদ সীমিত। সোমালিয়া সরকারকে আরও শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় যুবকদের জন্য বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা জরুরি।

সোমালিয়ায় জলদস্যুতার ফিরে আসা ইরান যুদ্ধের একটি অপ্রত্যাশিত প্রভাব। এটি দেখিয়ে দেয় যে, এক অঞ্চলের যুদ্ধ অন্য অঞ্চলের নিরাপত্তাকে কীভাবে প্রভাবিত করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, অন্যথায় সমুদ্রপথ আবার অরক্ষিত হয়ে পড়বে।