বিশেষ সংবাদ

বঙ্গভবনের পরবর্তী অধিবাসী কে? আলোচনায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ একাধিক নাম

বঙ্গভবনের পরবর্তী অধিবাসী কে? আলোচনায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ একাধিক নাম

বিশেষ প্রতিবেদক:

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—বঙ্গভবনের পরবর্তী অধিবাসী কে হচ্ছেন? সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হবে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

এমন প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিভিন্ন মহলে একাধিক নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গন, কূটনৈতিক মহল এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নামগুলোর একটি নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. ইউনূসের নাম আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ তার আন্তর্জাতিক পরিচিতি, কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত সাংবিধানিক ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়ায় দলীয় রাজনীতির বাইরে গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তিত্বকে বিবেচনায় আনার আলোচনা অস্বাভাবিক নয়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কৌশল, সংসদীয় বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর।

অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অভ্যন্তর থেকেও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান এবং রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদকেও স্থায়ীভাবে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, দলীয় আনুগত্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার সমন্বয় ঘটিয়ে এমন একজন ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে, যিনি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাষ্ট্রের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সক্ষম হবেন।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এখন পর্যন্ত যেসব নাম আলোচনায় রয়েছে, সেগুলো মূলত রাজনৈতিক মহলের জল্পনা ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা। রাষ্ট্রপতি পদে কে মনোনয়ন পাবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে শেষ মুহূর্তে নতুন কোনো নামও সামনে আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও জল্পনা দিন দিন বাড়ছে। সাংবিধানিক সময়সীমা যত এগিয়ে আসছে, ততই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হচ্ছে। এখন রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই।