বিশেষ প্রতিবেদক:
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসে অবস্থিত একটি ফ্ল্যাটে থাকা মালামালের তালিকা (ইনভেন্টরি) প্রস্তুতের কার্যক্রম শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার সকাল থেকে দুদকের একটি বিশেষ দল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দুদক সূত্র জানায়, সংস্থাটির উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত দলটি ফ্ল্যাটে থাকা বিভিন্ন সম্পদ ও ব্যবহার্য সামগ্রীর তালিকা প্রস্তুত করছে।
দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইনভেন্টরি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তালিকা প্রস্তুতের পর আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে গত ২০ জুলাই নারায়ণগঞ্জের জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে জিয়াউল আহসানের একটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটেও একই ধরনের অভিযান পরিচালনা করে দুদক। সে সময় সংস্থাটির দাবি অনুযায়ী, ফ্ল্যাট থেকে বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী, অলংকার, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক পণ্য, শোপিস এবং অন্যান্য ব্যবহার্য সম্পদ উদ্ধার ও তালিকাভুক্ত করা হয়।
মামলা-সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, জিয়াউল আহসানের স্থাবর সম্পত্তির সংরক্ষণ ও তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি আদালত তাঁর এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে ক্রোক করা সম্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও গণপূর্ত বিভাগকে রিসিভার (তত্ত্বাবধায়ক) হিসেবে নিয়োগ দেন।
এরও আগে, গত বছরের ২৪ এপ্রিল ঢাকার মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জিয়াউল আহসানের প্রায় ১৮ কোটি টাকার জমি, বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রোক এবং তাঁর নামে থাকা ৯টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন।
দুদক ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
জিয়াউল আহসান সর্বশেষ ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।