বাকৃবি প্রতিনিধি
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) স্নাতক ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে নবীনবরণ কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
নবীনবরণ কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি এবং ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে ও সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রভোস্ট পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম এবং রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। এ সময় ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিভিন্ন শাখার পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। প্রক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মশৃঙ্খলা বিষয়ে তাঁদের দিকনির্দেশনা দেন। এ সময় প্রভোস্ট পরিষদের আহ্বায়ক বিভিন্ন হলের প্রভোস্টদের এবং ডিন পরিষদের আহ্বায়ক বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগের সঙ্গে নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
পরিচয়পর্ব শেষে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা পুরো বিশ্বে দাপটের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে কাজ করে যাচ্ছেন। তোমাদেরও দক্ষ ও জ্ঞানসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট হিসেবে বাকৃবি থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু মুদ্রিত শিট বা বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে পাঠ্যপুস্তকনির্ভর হতে হবে। দেশের কৃষি ও কৃষকদের ভরসাস্থল হতে হবে এবং তাঁদের পাশে থাকতে হবে।”
প্রধান অতিথি ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষির উন্নতি ও দেশের উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিবৃত্তিক ও গবেষণালব্ধ সহযোগিতা যে প্রতিষ্ঠান করেছে, সেটি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। তোমরা সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তোমরা এ দেশের কৃষির ঐতিহ্য ধারণ ও বহন করবে এবং এ ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সম্পর্ক অসাধারণ হতে হবে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের মধ্যে সুসম্পর্ক না থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।”
ইউজিসির বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট, ওয়াই-ফাই ব্যবস্থা ও স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্মার্ট ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রথম দিন থেকে শিক্ষা সমাপ্তির পর এবং পরবর্তী সময়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবেও শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সংযুক্ত থাকবেন।