নিজস্ব প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক লেভেল-১, সেমিস্টার-১ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রভোস্ট পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম এবং রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম সেরা ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তিনি বলেন, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের উন্নয়ন কৃষির উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ ক্ষেত্রে বাকৃবির শিক্ষক-গবেষক এবং দেশের বিভিন্ন কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কৃষিবিদদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ অর্জনকারী নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, মেধা, শ্রম ও একনিষ্ঠ অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল কৃষিবিদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দেশের পাশাপাশি বৈশ্বিক খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতেও তাঁদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
ড. মামুন আহমেদ আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ধীরে ধীরে ডিজিটালাইজড ও স্মার্ট ক্যাম্পাসে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করছে। ভবিষ্যতের স্মার্ট কৃষিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বাকৃবির শিক্ষার্থী ও কৃষিবিদরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া মহান ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষাজীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে দক্ষ কৃষিবিদ ও মানবিক মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলে দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা এবং ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কমিটির সদস্যসচিব ও সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্জন তুলে ধরে ‘বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৫ বছরের পথপরিক্রমা’ শীর্ষক একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ ছাড়া নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষে দেশের দুজন এবং নেপাল ও মালয়েশিয়ার দুজন বিদেশি শিক্ষার্থী তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও ইনস্টিটিউটের নবীন ও সিনিয়র শিক্ষার্থী, ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।