মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ ক্রোকচর বাজারে সরকারি টলঘর ও বাজার মাঠ ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করে ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরকারি সম্পত্তি জনগণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে প্রতিবাদ সভা করেছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে দক্ষিণ ক্রোকচর বাজারে সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বক্তারা সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও ঘটনার তদন্তের দাবি জানান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনগণের সুবিধার্থে নির্মিত সরকারি টলঘর দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম হাওলাদার, দেলোয়ার খান ও জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার ভাড়া দিয়েছেন। এর মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে সাধারণ মানুষ সরকারি স্থাপনাটির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও দাবি করেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির একটি ভাড়ার চুক্তিপত্রের ফটোকপি তাদের হাতে এসেছে। ওই চুক্তিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, ৪৩৫ মিটার সেতু নির্মাণকাজের মালামাল সংরক্ষণের জন্য দক্ষিণ ক্রোকচর বাজার মাঠ, মসজিদ মাঠ ও টলঘর বাজারের ইজারাদার এবং আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম হাওলাদার ও জাহাঙ্গীর হোসেন সরদারের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে জায়গা ভাড়া নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হা-মিম ইন্টারন্যাশনাল।
এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি টলঘর জনগণের ব্যবহারের জন্য নির্মাণ করা হলেও তা কীভাবে ব্যক্তিগতভাবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা। বর্তমানে টলঘরটি কার নিয়ন্ত্রণে এবং কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তা তদন্তের দাবি জানান সচেতন মহল।
প্রতিবাদ সভায় মোতালেব হাওলাদার, আব্দুল করিম হাওলাদার, মোস্তফা হাওলাদার, আবু সাইদ মোল্লা, মো. দেলোয়ার হাওলাদার ও রকমান বেপারী অভিযোগ করেন, অতীতেও সরকারি টলঘর জনগণের জন্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হলে শহিদুল ইসলাম হাওলাদার, জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার ও তাঁদের সহযোগীরা ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়েছেন।
ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কাইয়ুম সরদার বলেন, “সরকারি সম্পত্তি জনগণের সম্পদ। অথচ বছরের পর বছর সাধারণ মানুষ এই টলঘর ব্যবহার করতে পারছেন না। প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে সরকারি সম্পত্তি জনগণের জন্য ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাই।”
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ আখতার হোসেন বলেন, “বাজারের সরকারি টলঘরসহ মসজিদের জমি দখল করে ভাড়া দেওয়ার প্রতিবাদ করায় আমাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। প্রশাসনের কাছে দাবি, দ্রুত টলঘরটি জবরদখলের হাত থেকে উদ্ধার করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।”
অভিযোগের বিষয়ে শহিদুল ইসলাম হাওলাদার ও জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। টলঘর ব্যবহারের বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের সম্মতি ও তৎকালীন চুক্তির ভিত্তিতেই হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে প্রশাসন তদন্ত করলে তাঁরা সহযোগিতা করবেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হা-মিম ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেতু নির্মাণকাজের জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে তৎকালীন বৈধ চুক্তির ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের জন্য জায়গা ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর টলঘরের মালিকানা, দখল বা পরবর্তী ব্যবহারের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে মিজান বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবাদ সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে মোতালেব হাওলাদার, আব্দুল করিম হাওলাদার, মোস্তফা হাওলাদার, আবু সাইদ মোল্লা, মো. দেলোয়ার হাওলাদার, রকমান বেপারী, সুলতান কাজী, আক্তার হোসেন সরদার, মো. লুৎফর সরদার, আবু ছালাম সরদারসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।