বিশেষ সংবাদ

এক শিক্ষকেই চলছে দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

এক শিক্ষকেই চলছে দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকসংকটের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা তিন দিন ধরে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে। প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীর এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে মাত্র একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দেশের বহুল আলোচিত সীমান্তবর্তী এলাকা দহগ্রাম ইউনিয়ন। দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতার এ অংশ একসময় ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছিটমহল হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রান্তিক এ অঞ্চলের দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকসংকটে রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে পাঠদানের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। বর্তমানে মাত্র একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে বিদ্যালয়ে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক রয়েছেন।

বিদ্যালয়টি দেশের প্রান্তিক অঞ্চলে হওয়ায় এখানে শিক্ষকরা আসতে আগ্রহী নন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। গত জুনে বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর বর্তমানে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থাকলেও এ বিভাগের কোনো শিক্ষক নেই। ফলে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ অচলাবস্থা চললেও সংসদ সদস্য, শিক্ষা সচিব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের আশ্বাসের পরও সমস্যার সমাধান হয়নি। শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষকসংকটের সমাধানের আশ্বাস দিলেও এখনো কোনো শিক্ষক নিয়োগ বা পদায়ন করা হয়নি।

বিদ্যালয়ের একজন স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হওয়ার পর নতুন কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। প্রায় ২০ হাজার মানুষের এ এলাকায় এটিই একমাত্র বিদ্যালয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে মাত্র একজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। শিক্ষা সচিব এক সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষকসংকটের সমাধান করবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো কোনো শিক্ষক পদায়ন করা হয়নি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একাধিকবার চিঠি দিলেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে সালিমা নিশা বলেন, “আমাদের একজন মাত্র শিক্ষক। আমি দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে পড়ি। এ বছর দুজন শিক্ষক ছিলেন, একজন অবসরে গেছেন। এখন মাত্র একজন শিক্ষক আছেন। আমাদের ক্লাস হয় না। আমাদের ভবিষ্যৎ কী হবে?”

প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীর এ বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। তারা দ্রুত শিক্ষক নিয়োগসহ সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।