নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশজুড়ে গ্যাস সংকট চলমান থাকায় সাধারণ মানুষ ও শিল্প-কারখানা উভয়ক্ষেত্রেই চাপ বাড়ছে। একদিকে এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার পর পাইপলাইন গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ব্যাপক লোডশেডিং ও উৎপাদন বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বাড়ানো হয়েছে। গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকায় এই সংকট বিশেষভাবে তীব্র।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার ঘটনার পর ওই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক শত শত মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে। দেশের মোট গ্যাস চাহিদার বড় অংশ এলএনজির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই সংকট দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। সন্ধ্যা ও রাতের বেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পরিমাণ এক হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শিল্প-কারখানায় এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জের অনেক কারখানায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে, আবার কোথাও কোথাও প্রায় বন্ধের পর্যায়ে পৌঁছেছে। রপ্তানিমুখী পোশাক খাতও এই সংকটের মুখে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী হলে অর্ডার বাতিল ও কর্মসংস্থান সংকট তৈরি হতে পারে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছে। রোববার ঘোষণা অনুযায়ী ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এর দাম ছিল এক হাজার ৫২৮ টাকা। নতুন দাম সন্ধ্যা ছয়টা থেকে কার্যকর হয়েছে। অন্যান্য আকারের সিলিন্ডারের দামও একই হারে সমন্বয় করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।
পাইপলাইন গ্যাসের সংকটের কারণে অনেক পরিবার ইতোমধ্যে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। সেই পরিস্থিতিতে দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। রান্নার খরচ বাড়ার পাশাপাশি শিল্পেও এলপিজির ব্যবহার বাড়ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালের মেরামত কাজ চলছে এবং আংশিক সরবরাহ শিগগিরই শুরু হতে পারে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।
এই দ্বৈত সংকটে গৃহস্থালি ও শিল্প উভয়ক্ষেত্রেই ভোগান্তি বাড়ছে। সরকার বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার বাড়ানো এবং সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নাগরিকদের সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।