নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী ৫ আগস্ট সারা দেশে সরকারি সাধারণ ছুটি থাকবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দিবসটিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালিত হবে এবং এদিন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বয়ংশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে। ব্যাংক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এই ছুটির আওতায় থাকবে। তবে জরুরি সেবা, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এ উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করেছে। সরকারি কর্মচারীরা চাইলে নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে টানা কয়েক দিনের অবকাশ উপভোগ করতে পারবেন।
এই দিবসটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে স্মরণ করে পালন করা হয়। সে সময়ের ঘটনাবলী দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। দিবসটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংগঠন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আলোচনা সভা, স্মরণসভা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।
একই সময়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য নাশকতা বা উসকানিমূলক তৎপরতার আশঙ্কায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশব্যাপী সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে পুলিশের যানবাহন, জিপ, পিকআপ ও বাসকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। সব ইউনিটকে যানবাহন চলাচলকালীন ও পার্কিং অবস্থায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কোনো সরকারি যানবাহন অরক্ষিত রাখা যাবে না বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে কিছু মহলের তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় টহল বাড়ানো হয়েছে। চেকপোস্ট স্থাপন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহন তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে কয়েকটি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনাও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, দিবসটিকে ঘিরে উত্তেজনা এড়াতে সমন্বিত নজরদারি জরুরি। সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার এবং কোনো অস্বাভাবিক তৎপরতা দেখলে কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকার আশা করছে, ছুটির দিনটি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হবে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না। নিরাপত্তা বাহিনীগুলো পরিস্থিতি নজরদারিতে রেখেছে এবং প্রয়োজনে আরও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।