কানাডা প্রতিনিধি:
কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমান সংস্থা ওয়েস্টজেটের প্রায় সাড়ে চার হাজার ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ধর্মঘট শুরু করেছেন। এর ফলে গ্রীষ্মের ব্যস্ততম সময়ে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং প্রায় আড়াই লাখ যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা বিঘ্নিত হয়েছে। ধর্মঘটটি রোববার ভোরে শুরু হয় এবং এটি মূলত বেতন ও কর্মঘণ্টার বিষয়কে কেন্দ্র করে চলছে।
কানাডিয়ান ইউনিয়ন অব পাবলিক এমপ্লয়িজের (সিইউপিই) লোকাল ৮১২৫ এই ধর্মঘটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। ইউনিয়ন সদস্যরা দাবি করছেন যে তাঁরা বিমান উড্ডয়নের আগে ও অবতরণের পর যে কাজ করেন সেগুলোর জন্য পূর্ণ মজুরি পান না। অনেক সময় মাসে ৩৫ ঘণ্টা পর্যন্ত এই অতিরিক্ত কাজের জন্য কোনো পারিশ্রমিক মেলে না বলে তাঁদের অভিযোগ। ইউনিয়ন বলেছে, বিমান সংস্থার সর্বশেষ প্রস্তাব যথেষ্ট নয় এবং তা কর্মীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেয় না।
অন্যদিকে ওয়েস্টজেট জানিয়েছে, তারা একটি উন্নত প্রস্তাব দিয়েছিল যাতে প্রথম বছরে দ্বিগুণ অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি এবং সব প্রাক-উড্ডয়ন ও পরবর্তী কাজের জন্য পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা ছিল। সংস্থাটি বলেছে, এই প্রস্তাব কানাডায় কেবিন ক্রুর জন্য নতুন মানদণ্ড তৈরি করত। তবে ইউনিয়ন তা গ্রহণ করেনি। ধর্মঘট শুরুর আগে থেকেই ওয়েস্টজেট অনেক বোয়িং ৭৩৭ বিমান মাটিতে নামিয়ে রেখেছিল যাতে যাত্রী ও ক্রু আটকে না পড়েন।
ধর্মঘটের প্রভাবে ওয়েস্টজেটের প্রধান নেটওয়ার্কে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেক যাত্রী গ্রীষ্মের লং উইকএন্ডে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন। ক্যালগারিসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে যাত্রীরা বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছেন। ওয়েস্টজেট যাত্রীদের জানিয়েছে যে তাঁরা বিনামূল্যে ফ্লাইট পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারবেন এবং রিফান্ড বা অন্য ফ্লাইটে পুনর্বুকিংয়ের সুযোগ থাকবে।
ওয়েস্টজেট এনকোরের কিছু ফ্লাইট এবং পার্টনার এয়ারলাইনের কোডশেয়ার ফ্লাইট এখনও চলছে। তবে মূল বোয়িং ৭৩৭ ও ৭৮৭ ফ্লাইটগুলো স্থগিত রয়েছে। ধর্মঘট চলাকালীন আলোচনা অব্যাহত আছে বলে উভয় পক্ষ জানিয়েছে। কানাডার ফেডারেল সরকার এখনও সরাসরি হস্তক্ষেপ করেনি।
এই ধর্মঘট উত্তর আমেরিকায় কেবিন ক্রুদের মজুরি কাঠামো নিয়ে চলমান বিতর্কের অংশ। যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়লেও কর্মীরা বলছেন, তাঁদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা জরুরি। ধর্মঘট কতদিন চলবে এবং কখন ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে তা এখনও অনিশ্চিত। যাত্রীদের ফ্লাইট স্ট্যাটাস নিয়মিত পরীক্ষা করে চলার পরামর্শ দিয়েছে বিমান সংস্থা।