আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকায় রোববার এক আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। হামলাটি ঘটেছে কাবাল শহরের পুলিশ স্টেশনের কাছে, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা শান্তি মিছিল করছিলেন। মিছিলকারীরা সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গি হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছিলেন।
ঘটনাস্থল কাবাল পুলিশ স্টেশনের প্রবেশপথের কাছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক আত্মঘাতী বোমাবাজ পুলিশ স্টেশনের গেটে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করা হয়। তখনই তিনি বিস্ফোরক ডিভাইস বিস্ফোরণ ঘটান। এতে পুলিশ স্টেশনের মূল গেট ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আশপাশে থাকা মানুষের ওপর আঘাত হানে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা ওমর খান জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন নিরাপত্তা কর্মী রয়েছেন। বাকিরা বেসামরিক নাগরিক। আহতের সংখ্যা দুই ডজনেরও বেশি বলে জানানো হয়েছে।
মিছিলটি সোয়াত আমান জিরগা নামে স্থানীয় এক উপজাতীয় কাউন্সিল আয়োজন করেছিল। অংশগ্রহণকারীরা সন্ত্রাসবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে সোয়াতে বেড়ে যাওয়া জঙ্গি হামলার বিরুদ্ধে সরকারের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছিলেন। সোয়াত উপত্যকা একসময় তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল। ২০০৯ সালে সামরিক অভিযানের পর সেখান থেকে জঙ্গিদের উচ্ছেদ করা হয়। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আবারও সহিংসতা বাড়ছে বলে স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন।
হামলার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে পাঠান। কয়েকজনকে সাইদু শরিফ ও কাবাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিছু আহতের অবস্থা সংকটজনক বলে জানানো হয়েছে। পুলিশ এলাকাটি ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে এবং হামলাকারীর সহযোগীদের খুঁজে বের করার অভিযান চালাচ্ছে।
কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো গোষ্ঠী তাৎক্ষণিকভাবে দায় স্বীকার করেনি বলেও কিছু সূত্র জানিয়েছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ হামলার নিন্দা করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁরা আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সোয়াতের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তির আশা করছেন। এই হামলা তাঁদের সেই আশাকে আবারও আঘাত করেছে। স্থানীয় নেতারা বলেছেন, সরকারকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে এ ধরনের হামলা বন্ধ হয় এবং মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারে। নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় টহল জোরদার করেছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।