জাতীয়

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট তীব্র: লোডশেডিংয়ের সঙ্গে চলছে দৈনন্দিন ভোগান্তি

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট তীব্র: লোডশেডিংয়ের সঙ্গে চলছে দৈনন্দিন ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশজুড়ে গ্যাস সংকট অব্যাহত থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং লোডশেডিং চলছে। গৃহস্থালি, শিল্প-কারখানা ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোলার প্যানেল স্থাপনসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। একইসঙ্গে মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা এগিয়ে চলছে।

এলএনজি টার্মিনাল বন্ধে সংকটের শুরু

কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। এতে দৈনিক গ্যাস ঘাটতি বাড়ছে। চট্টগ্রামে সরবরাহ প্রায় ৪৫ শতাংশ কমেছে, যার ফলে ছয় লাখের বেশি গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় সারাদেশে লোডশেডিং বেড়েছে। কোনো কোনো সময় ঘাটতি এক হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর তিন নির্দেশনা

সোমবার সচিবালয়ে সোলার বিদ্যুৎ বিষয়ক এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিনটি নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রথমত, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে ধাপে ধাপে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশন ভবনে এ উদ্যোগ শুরু হবে। দ্বিতীয়ত, স্থানীয়ভাবে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে সহায়তা দেওয়া হবে এবং কাঁচামাল আমদানিতে সুবিধা দেওয়া হবে। তৃতীয়ত, সাধারণ মানুষের জন্য সোলার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করতে বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক মডেল তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি ভবনে সোলার স্থাপন করলে সাধারণ মানুষও এ প্রযুক্তির দিকে আকৃষ্ট হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ ঘটবে।

মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মিয়ানমার থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণের পুরনো প্রস্তাব আবার আলোচনায় এসেছে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এ প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন এবং এলএনজি সরবরাহের সম্ভাবনাও আলোচনা করার কথা বলেছেন। দুই দেশের জ্বালানি মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

জনজীবন ও শিল্পে প্রভাব

গ্যাস সংকটের কারণে অনেক এলাকায় রান্নার চুলা জ্বলছে না। সিএনজি স্টেশনে লম্বা লাইন। শিল্প-কারখানায় উৎপাদন কমে যাওয়ায় রপ্তানি আদেশ পূরণেও চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, এলএনজি আমদানি অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর দেওয়া জরুরি।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে এসব উদ্যোগ সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে। তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখনো অব্যাহত রয়েছে।