বরিশাল প্রতিনিধি:
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বহু বছরের প্রত্যাশিত বরিশাল-ভোলা (লোহালিয়া) সেতু ও শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু—এই দুটি মেগা অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপানের নিপ্পন এক্সপ্রেস হোল্ডিংসের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম। প্রায় ৩০ হাজার ৪২০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পিপিপি কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রকল্প দুটির অর্থায়ন, সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বরিশাল-ভোলা (লোহালিয়া) সেতু নির্মিত হলে দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে দীর্ঘদিনের ফেরিনির্ভরতার অবসান ঘটবে, যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে।
সেতুটি নির্মিত হলে কৃষিপণ্য, মৎস্যসম্পদ, শিল্পপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ আরও দ্রুত, সহজ এবং সাশ্রয়ী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অন্যদিকে শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু বাস্তবায়িত হলে পদ্মা ও মেঘনা নদীবেষ্টিত বিস্তীর্ণ অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে সড়ক নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, বিনিয়োগ এবং শিল্পায়নের গতি বহুগুণ বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা সেতুর সুফলকে আরও বিস্তৃত করতে এ দুটি সেতু গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন শিল্পকারখানা, অর্থনৈতিক অঞ্চল, লজিস্টিকস হাব ও পর্যটনকেন্দ্র গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এ দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্প দুটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। জাপানের নিপ্পন এক্সপ্রেস হোল্ডিংসের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম প্রকল্প দুটিতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে ভোলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা, ফেরিনির্ভরতা হ্রাস, যাতায়াতের সময় ও ব্যয় কমানো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প ও পর্যটনের প্রসার এবং দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।