নিজস্ব প্রতিবেদক:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর থেকে ‘ভারতীয় আগ্রাসন’ সংক্রান্ত একটি প্রদর্শনী সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তবে প্রদর্শনীটি কখন, কী কারণে এবং কার সিদ্ধান্তে সরানো হয়েছে—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিল সংরক্ষণ, গবেষণা এবং জনসাধারণের সামনে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে রাজধানীর গণভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ পরিদর্শন করেন। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি এবং তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের চিত্র ও তথ্য সংরক্ষণের কথা জানানো হয়েছিল।
জাদুঘরটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা রয়েছে। গত ১ জুলাই রায়েরবাজারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের গণকবর জিয়ারত শেষে নাহিদ ইসলাম ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে দেওয়ার দাবি জানান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাদুঘর চালু না হলে জনগণ নিজেরাই সেখানে প্রবেশের ব্যবস্থা করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এরই মধ্যে জাদুঘরের প্রদর্শনী থেকে ‘ভারতীয় আগ্রাসন’ সংক্রান্ত অংশ সরিয়ে ফেলার অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। তবে কোনো প্রদর্শনী অপসারণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হলে জাদুঘরের বর্তমান প্রদর্শনীর তালিকা, পূর্ববর্তী প্রদর্শনীর নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। নির্ভরযোগ্য স্বাধীন সূত্রে অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পক্ষের বক্তব্য যথাযথভাবে নথিবদ্ধ করা এবং ঐতিহাসিক তথ্যের উৎস প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কোনো দেশ, জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে পারে—এমন ভাষা পরিহার করে রাষ্ট্রীয় নীতি, সীমান্ত পরিস্থিতি, রাজনৈতিক ঘটনা ও ঐতিহাসিক তথ্যকে প্রমাণভিত্তিকভাবে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
জাদুঘরের কোনো প্রদর্শনী পরিবর্তন বা অপসারণ হয়ে থাকলে তার কারণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট নথি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি কমবে। একই সঙ্গে নাহিদ ইসলামের অভিযোগের বিষয়ে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং জনসাধারণের ইতিহাস জানার অধিকার—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।