ইলন মাস্কের সম্পদ কেবল আইনি বিজয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং তার দূরদর্শী ব্যবসায়িক চিন্তাই তাকে আজ ৭৪৯ বিলিয়ন ডলারের মালিক বানিয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই মাস্ক ৬০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক পার করেছিলেন মূলত তার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা 'স্পেসএক্স'-এর কারণে। স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে আসার সম্ভাবনা তৈরি হতেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দেয়, যা মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদের গ্রাফকে উর্ধ্বমুখী করে তোলে।
টেসলার বিনিয়োগকারীরাও মাস্কের প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। গত নভেম্বরে শেয়ারহোল্ডাররা মাস্কের জন্য এক ট্রিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল বেতন পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন, যা কর্পোরেট ইতিহাসের বৃহত্তম প্যাকেজ। বিনিয়োগকারীদের এই সমর্থনের মূল কারণ হলো টেসলাকে কেবল একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং রোবোটিক্সের একটি পাওয়ার হাউস হিসেবে গড়ে তোলার মাস্কের পরিকল্পনা। মাস্কের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, ভবিষ্যতে টেসলার রোবট এবং এআই প্রযুক্তি বিশ্ববাজারের নিয়ন্ত্রণ নেবে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এটি স্পষ্ট যে, মাস্কের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য এখন যেকোনো আইনি বা প্রশাসনিক বাধার উর্ধ্বে। আদালত স্বীকার করেছে যে, ২০২৪ সালে তার বেতন প্যাকেজ বাতিলের সিদ্ধান্তটি ছিল অপেশাদার এবং এর মাধ্যমে তার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। এই রায় বিশ্বজুড়ে বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের সিইওদের বেতন কাঠামোর ক্ষেত্রে একটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে।
বর্তমানে মাস্কের সম্পদ এতটাই বেড়েছে যে, তা অনেক দেশের জিডিপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। ল্যারি পেজ বা জেফ বেজোসের মতো ধনকুবেররা এখন মাস্কের ধারেকাছেও নেই। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, যেভাবে টেসলা এবং স্পেসএক্স সামনের দিকে এগোচ্ছে, তাতে ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম 'ট্রিলিয়নিয়ার' বা এক হাজার বিলিয়ন ডলারের মালিক হওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। এটি কেবল একজন ব্যক্তির সম্পদ বৃদ্ধি নয়, বরং প্রযুক্তির শক্তিতে বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের এক নতুন অধ্যায়।