বিশ্ব

চীনের জমানো টাকা ও শিশুর ছবি কাটার বিড়ম্বনা: ব্যাংক যখন ত্রাণকর্তা

চীনের জমানো টাকা ও শিশুর ছবি কাটার বিড়ম্বনা: ব্যাংক যখন ত্রাণকর্তা

পারিবারিক অসতর্কতা এবং শিশুর কৌতূহল যে কত বড় বিপত্তি ডেকে আনতে পারে, তার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল চীনের এই সাম্প্রতিক ঘটনা। ঘরোয়া পরিবেশে শিশুরা সবসময়ই বড়দের অনুকরণ করতে চায় অথবা রঙিন কোনো বস্তুর প্রতি আকৃষ্ট হয়। চীনের এই শিশুটির ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছিল। সে তার বাবার ড্রয়ারে থাকা ৫০ হাজার ইউয়ানের একটি বান্ডিল খুঁজে পায়। নোটের গায়ে থাকা মাও সে তুং-এর মুখচ্ছবি তাকে এতটাই আকর্ষণ করেছিল যে, সে একটি কাঁচি দিয়ে প্রতিটি নোট থেকে সেই ছবিগুলো আলাদা করার চেষ্টা চালায়। এতে মুহূর্তের মধ্যেই কয়েক বছরের সঞ্চয় মূল্যহীন কাগজের টুকরোয় পরিণত হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই শিশুটির বাবার ধৈর্য এবং ব্যাংকের সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন। সাধারণত ছেঁড়া টাকা ব্যাংক গ্রহণ করতে চাইলেও, এত ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত টাকা জোড়া লাগানো প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। তবে চীনা ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের মানবিকতা এবং পেশাদারিত্ব ছিল প্রশংসনীয়। তারা কোনো যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই হাতে করে প্রতিটি অংশ মিলিয়েছেন। তাদের এই প্রচেষ্টার ফলে একটি মধ্যবিত্ত পরিবার নিশ্চিত দেউলিয়া হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।

এই সংবাদটি শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি শিশুদের মনস্তত্ত্ব এবং পারিবারিক নিরাপত্তার দিকে আঙুল দিয়ে দেখায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ দেওয়া উচিত ঠিকই, কিন্তু তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র বা মূল্যবান সামগ্রী দেওয়া কখনই সমীচীন নয়। অর্থনৈতিকভাবে এটি একটি শিক্ষা যে, নগদ অর্থ ঘরে রাখার চেয়ে ব্যাংকে রাখা নিরাপদ। একইসাথে চীনের ব্যাংক ব্যবস্থার গ্রাহক সেবার মানও এই ঘটনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি একটি বড় শিক্ষা যে, তুচ্ছ একটি কৌতূহলও বয়ে আনতে পারে অপূরণীয় ক্ষতি।