ডা. ফারজানা শারমিন
অসতর্কতা বা অনিরাপদ যৌন সংসর্গের পর অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ এড়াতে অনেকেই ইমার্জেন্সি কন্ট্রাসেপটিভ পিল (ECP) ব্যবহার করে থাকেন। সহজলভ্য হওয়ায় অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই এটি সেবন করা হয়, যা সচেতনতার অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই এ বিষয়ে সঠিক ধারণা থাকা জরুরি।
কার্যকারিতা ও সময়সীমা: ইমার্জেন্সি পিল, যেমন “ইলা (Ella)”, অরক্ষিত মিলনের পর সর্বোচ্চ ১২০ ঘণ্টা (৫ দিন) পর্যন্ত কার্যকর হতে পারে। তবে যত দ্রুত সেবন করা হয়, তত বেশি কার্যকর হয়। সাধারণভাবে এটি ৮৫% পর্যন্ত গর্ভধারণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হলেও শতভাগ নিশ্চয়তা দেয় না।
কীভাবে কাজ করে:এই পিল মূলত ডিম্বস্ফোটন (ovulation) বিলম্বিত বা বন্ধ করে দেয়। ফলে শুক্রাণু ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হতে পারে না এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যায়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই পিল গর্ভপাত ঘটায় না, বরং গর্ভধারণ প্রতিরোধ করে।
নতুন গবেষণার তথ্য: সাম্প্রতিক (২০২৫) কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চমাত্রার (৬০ মি.গ্রা.) উলিপ্রিস্টাল অ্যাসিটেট কিছু ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা সমাপ্তির (abortion) ওষুধের মতো কাজ করতে পারে। তবে এটি এখনো সাধারণ ব্যবহারের জন্য স্বীকৃত নয় এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া এভাবে ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: ইমার্জেন্সি পিল সেবনের পর কিছু সাময়িক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যেমন—বমি বমি ভাব বা বমি, মাথা ঘোরা বা মাথাব্যথা।
দুর্বলতা:মাসিকের সময় পরিবর্তন (আগে/পরে হওয়া, বেশি বা কম রক্তপাত)
যদি পিল খাওয়ার ৩ ঘণ্টার মধ্যে বমি হয়ে যায়, তবে পুনরায় ডোজ নিতে হতে পারে।
সতর্কতা ও সীমাবদ্ধতা: এটি নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নয়; শুধুমাত্র জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারযোগ্য।
ঘন ঘন সেবনে কার্যকারিতা কমে যেতে পারে এবং হরমোনজনিত সমস্যা বাড়তে পারে।
গর্ভবতী অবস্থায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করা উচিত নয়। ১২০ ঘণ্টা পার হয়ে গেলে এটি আর কার্যকর নাও হতে পারে।
কারা ব্যবহার করবেন: ইমার্জেন্সি পিল ব্যবহার করা যেতে পারে বিশেষ পরিস্থিতিতে, যেমন, কনডম ছিঁড়ে গেলে, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেতে ভুলে গেলে,
সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় যৌন মিলন হলে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে গর্ভনিরোধের জন্য কনডম, নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, আইইউডি বা ইনজেকশন পদ্ধতি ব্যবহার করাই বেশি নিরাপদ। বারবার ইমার্জেন্সি পিলের ওপর নির্ভর করা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
উপসংহার: ইমার্জেন্সি পিল একটি কার্যকর ও নিরাপদ জরুরি সমাধান হলেও এটি কখনোই নিয়মিত ব্যবহারের বিকল্প নয়। সঠিক সময়ে ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি উপকারী, কিন্তু অসচেতন ও অতিরিক্ত ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সচেতন হওয়া এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
# ডা. ফারজানা শারমিন, সহকারী অধ্যাপক, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগ, ঢামেক।