বিনোদন

আইন অমান্য করে নির্বাচন কি অধিকার রক্ষা করতে পারে? প্রশ্ন জাজ মাল্টিমিডিয়ার সিইও আলিম উল্লাহর

আইন অমান্য করে নির্বাচন কি অধিকার রক্ষা করতে পারে? প্রশ্ন জাজ মাল্টিমিডিয়ার সিইও আলিম উল্লাহর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির নির্বাচন স্থগিত হওয়াকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্রাঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনের স্থগিতাদেশকে কেউ কেউ অধিকার হরণের বিষয় হিসেবে দেখলেও বিশিষ্ট প্রযোজক ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ আলিম উল্লাহ খোকন বিষয়টিকে আবেগের পরিবর্তে গঠনতান্ত্রিক ও আইনসম্মত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আইন অমান্য করে হওয়া একটি নির্বাচন কি সত্যিই কারও অধিকার রক্ষা করতে পারে?

চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির গঠনতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আলিম উল্লাহ বলেন, গঠনতন্ত্রের নিয়ম সবার জন্য সমান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আগে পরপর তিন মেয়াদ নির্বাচিত হলে এক মেয়াদ বিরতি দেওয়ার বিধান ছিল। বর্তমানে সেই বিধান আরও কঠোর হয়েছে। এখন পরপর দুই মেয়াদ নির্বাচিত হলেও পরবর্তী এক মেয়াদ বিরতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই নিয়ম কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে করা হয়নি; সমিতির স্বার্থেই করা হয়েছে।

নির্বাচন আয়োজনের ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন তিনি। আলিম উল্লাহ জানান, প্রতিটি নির্বাচন আয়োজন করতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়। এবারের নির্বাচনের জন্য সমিতির তহবিল থেকে ইতোমধ্যে ৩১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তার প্রশ্ন, আইন উপেক্ষা করে নির্বাচন আয়োজনের পর কয়েক দিনের মধ্যে আদালতের আদেশে সেই নির্বাচন স্থগিত বা বাতিল হলে ওই অর্থের দায়ভার কে নেবে?

তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক ক্ষতি কোনো ব্যক্তির নয়, পুরো সমিতির এবং সব প্রযোজকের। কারণ নির্বাচনের জন্য ব্যয় হওয়া অর্থ সমিতির তহবিল থেকেই আসে। ফলে গঠনতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে বিপুল অর্থ ব্যয় করে নির্বাচন আয়োজন করা কতটা সমিতির স্বার্থসংশ্লিষ্ট, সেই প্রশ্নও সামনে আসে।

সমিতির কার্যকর ভূমিকা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন জাজ মাল্টিমিডিয়ার এই সিইও। তিনি বলেন, বছরের পর বছর সমিতির জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রম করা সম্ভব না হলেও একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে লাখ লাখ টাকা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি নেওয়া সমিতির স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটি ভাবা প্রয়োজন।

আলিম উল্লাহর বক্তব্যে উঠে এসেছে একটি বৈধ, স্থায়ী ও বিতর্কমুক্ত নির্বাচিত কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তাও। তার মতে, ব্যক্তি নয়, গঠনতন্ত্র মেনে যারা যোগ্য, তাদের নিয়েই নির্বাচন হওয়া উচিত। আজ একজন প্রার্থী থাকবেন, কাল অন্য কেউ প্রার্থী হবেন—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নেতৃত্ব পরিবর্তনের পক্ষেও অবস্থান জানিয়েছেন তিনি। তার বক্তব্য, কোনো ব্যক্তি যদি ইতোমধ্যে একাধিক মেয়াদ দায়িত্ব পালন করে থাকেন, তাহলে একবার নতুন কাউকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আপত্তির কারণ থাকা উচিত নয়। নেতৃত্বে পরিবর্তন এলে প্রতিষ্ঠানই শক্তিশালী হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সবশেষে চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির নির্বাচন নিয়ে আবেগের পরিবর্তে আইন ও গঠনতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মোহাম্মদ আলিম উল্লাহ খোকন। তার বক্তব্যের মূল সুর হলো, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের চেয়ে সমিতির ভবিষ্যৎকে গুরুত্ব দিয়ে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একটি বৈধ, গ্রহণযোগ্য ও বিতর্কমুক্ত নির্বাচন আয়োজন করা। তার মতে, এমন নির্বাচনই হতে পারে সমিতির সবার অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার ভিত্তি।