নিজস্ব প্রতিবেদক :
যশোরের সদর, মনিরামপুর ও শার্শা উপজেলায় নির্মাণাধীন আটটি সেতুর নকশায় ত্রুটির বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। একই সঙ্গে নকশা সংশোধন করে সেতুগুলো নির্মাণে অতিরিক্ত কত টাকা ব্যয় হবে, তার হিসাবও চেয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনের মিলনায়তনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রকৌশলীদের কাছে এ ব্যাখ্যা চান তিনি।
সম্প্রতি একটি জাতীয় পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যশোরের তিন উপজেলায় চারটি নদ-নদীর ওপর নির্মাণাধীন আটটি সেতুর উচ্চতা নির্ধারিত মাপের চেয়ে কম। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) গেজেট অনুযায়ী, নদীর পানির সর্বোচ্চ স্তর থেকে সেতুর গার্ডারের ব্যবধান কমপক্ষে ১৫ ফুট হওয়ার কথা। কিন্তু নির্মাণাধীন এসব সেতুর ক্ষেত্রে কোথাও এই ব্যবধান ৬ ফুট, কোথাও ৮ ফুট।
২০১৮-১৯ সালে সেতুগুলোর নির্মাণকাজ শুরু করে এলজিইডি। আটটি সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪১ কোটি ৭১ লাখ টাকা। নকশা ত্রুটির বিষয়টি সামনে আসার পর এবং আদালতের নির্দেশে দুই বছরের বেশি সময় ধরে সেতুগুলোর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
সভায় রেফারেন্সে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান জানতে চান, ত্রুটিপূর্ণ নকশা সংশোধন করে কাজ শেষ করতে অতিরিক্ত কত টাকা প্রয়োজন হবে।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, নকশা সংশোধনের কাজ চলছে। হিসাব শেষ হলে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ জানা যাবে।
মন্ত্রী নকশা প্রণয়নকারী প্রকৌশলীদের তালিকা চেয়ে তা জানানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে মূল প্রকল্পের ব্যয় এবং নকশা সংশোধনের সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয়ের হিসাব জানাতেও বলেন।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, “নকশার ভুলের কারণে যে টাকা ব্যয় হবে এই টাকা কে দেবে?”
এজন্য প্রকৌশলীদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “আপনাদের ভুলের কারণে গরীব দেশের মানুষের টাকা যেন নষ্ট না হয়।”
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন।
সভায় ৫০৩ উপজেলার প্রকৌশলী, ৬৪ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।