নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির নির্বাচন হাইকোর্টের আদেশে শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়ে যাওয়ায় গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও চলচ্চিত্র প্রযোজক সামসুল আলম। দীর্ঘদিন পর আয়োজিত হতে যাওয়া নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এফডিসিকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ভোটগ্রহণের ঠিক আগমুহূর্তে আইনি জটিলতায় নির্বাচন বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সামসুল আলম বলেন, নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। এ জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ও শ্রমও ব্যয় করা হয়েছে। প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে রিটের কারণে ভোট স্থগিত হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। তার মতে, এর ফলে প্রযোজকেরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
সামসুল আলম দ্রুত এই আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে যত দ্রুত সম্ভব একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতৃত্বের হাতে সমিতির দায়িত্ব হস্তান্তরের জোর দাবি জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন পর নির্বাচনকে ঘিরে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুত স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।
একই সঙ্গে চলচ্চিত্র অঙ্গনে রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়া ও বিভাজন তৈরির প্রবণতারও তীব্র সমালোচনা করেছেন এই প্রযোজক নেতা। তার মতে, চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে অযথা ‘ফ্যাসিস্ট’ বা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক তকমা দেওয়া ঠিক নয়। এতে শিল্পী ও কলাকুশলীদের সম্মানহানি হওয়ার পাশাপাশি পুরো চলচ্চিত্র অঙ্গনে অহেতুক বিভেদ তৈরি হয়।
চলচ্চিত্র শিল্প সবার—এমন মন্তব্য করে সামসুল আলম বলেন, এই শিল্পে রাজনৈতিক বিভাজনের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনগত অভিযোগ থাকলে তা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার করার আহ্বানও জানান তিনি।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও চলচ্চিত্র শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সামসুল আলম। তার বক্তব্যে নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি যেমন উঠে এসেছে, তেমনি চলচ্চিত্র অঙ্গনে পারস্পরিক বিভাজন ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে চিহ্নিত না করে আইন ও ন্যায়বিচারের পথে থাকার আহ্বানও রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রায় সাত বছর পর আগামী মেয়াদের জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রার্থিতা সংক্রান্ত আইনি চ্যালেঞ্জ ও আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে ভোটগ্রহণের ঠিক আগমুহূর্তে নির্বাচনটি সাময়িকভাবে আটকে গেছে।