মূল খবরে যান

বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬১৯ কার্তিক ১৪৩৩ ই-পেপার

সত্যের সাথে আগামীর পথে

শিরোনাম
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আশ্রয় দিচ্ছে বিএনপি, অভিযোগ নাহিদ ইসলামেরনাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ, ১৫ দিনের মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিকোরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াতের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া ঈমানি দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতিদিনাজপুরে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেপ্তারসড়কে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শ্রমিকদের সম্পর্ক নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীমিরপুরে পুলিশ সদস্যকে একা পেয়ে মারধরের অভিযোগ, বন্ধ মেট্রোরেলের স্টেশনশ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতার অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩৩ সদস্য গ্রেপ্তারমিরপুরে শ্রমিক-পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ
রাজনীতি

ঝিনাইদহের ফুরসন্দি গ্রামে বিএনপির দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, ১০ জন আহত।

Conflict erupted between supporters of two rival BNP leaders in Fursandi, Jhenaidah over prolonged supremacy, leaving ten people injured.

ঝিনাইদহের ফুরসন্দি গ্রামে বিএনপির দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, ১০ জন আহত।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ফুরসন্দি ইউনিয়ন ফের রাজনৈতিক কোন্দলের শিকার হয়েছে। ইউনিয়নের দুই প্রভাবশালী বিএনপি নেতা শাহাবুর মোল্লা ও জাহিদ বিশ্বাসের সমর্থকদের মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনার ফলস্বরূপ সৃষ্ট এই ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনকে গুরুতর অবস্থায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সংঘর্ষের সূত্রপাত একটি আপাতদৃষ্টিতে সামাজিক কলহ থেকে হলেও, এর নেপথ্যে কাজ করেছে স্থানীয় রাজনৈতিক গ্রুপিং। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শাহাবুর মোল্লার সমর্থক আল-আমিন এবং ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক জাহিদ বিশ্বাসের সমর্থক ফিরোজের মধ্যেকার পারিবারিক বিরোধ মুহূর্তেই দলীয় সংঘাতে রূপ নেয়। উভয়পক্ষের কর্মীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় দুটি বাড়িতে ভাঙচুরও চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী।

এই ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপিতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মী অভিযোগ করেছেন, দলের প্রভাবশালী নেতা শাহাবুর মোল্লা তার গ্রুপকে শক্তিশালী করতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কিছু কর্মীকে নিজের বলয়ে টেনে এনেছেন। তাদের দাবি, ৫ আগস্টের আগের আওয়ামী লীগ কর্মীরাই এখন শাহাবুর মোল্লার ছত্রছায়ায় গ্রামে গ্রামে বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষ ঘটিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ কর্মীদের এই অনুপ্রবেশের কারণেই দলের মধ্যে সংঘাতের প্রবণতা বাড়ছে।

এই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন ফুরসন্দি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক জাহিদ বিশ্বাস। তার মতে, "বিএনপিতে আসাটা দোষের নয়, কিন্তু এসে মারামারি করা উচিত না। আওয়ামী লীগের যেসব লোক ৫ আগস্টের পর বিএনপিতে এসেছে, তারাই মূলত এসব ঝামেলা করছে।" এদিকে, শাহাবুর মোল্লার বক্তব্য পাওয়া না গেলেও তার সমর্থক ওহাব মোল্লা নিজেকে এলাকার সবচেয়ে বড় বিএনপি কর্মী দাবি করে জানান যে, দলীয় পদ না থাকলেও শাহাবুর মোল্লার প্রভাব এখানে অনস্বীকার্য।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এটি সামাজিক বিরোধের সূত্র ধরে রাজনৈতিক দুটি পক্ষের সংঘর্ষ।” এই সংঘর্ষ স্থানীয় বিএনপিতে অন্তর্দ্বন্দ্বের পাশাপাশি দলীয় আদর্শিক অবস্থানের ক্ষেত্রে একটি গুরুতর প্রশ্ন সৃষ্টি করলো।

রাজনীতি
খবরটি শেয়ার করুন কপি হয়েছে

ফটোকার্ড

১২০০×১২০০ — ফেসবুকে পোস্ট করুন, খবরের লিংক দিন কমেন্টে।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…
ডাউনলোড করুন কার্ডে লেখা থাকে “বিস্তারিত কমেন্টে” — পোস্ট করার পর প্রথম কমেন্টে খবরের লিংক দিন।
ডেভেলপ করেছে Metanoz