ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বিদেশে অবস্থানরত ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের যোগসূত্র থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, এই কিলিং মিশনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ফিলিপ ওরফে গারো ফিলিপ নামের এক ভাড়াটে কিলারের নাম পাওয়া গেছে। ফিলিপকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং তাকে ধরতে পারলে নেপথ্যের মূল হোতাদের নাম বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘটনা অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মী এবং বিশেষ করে ‘জুলাই সংগঠকদের’ মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
হামলার শিকার হওয়া হাদি ছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টির হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং এবি পার্টির ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ আরও কয়েকজন জুলাই সংগঠক একটি ‘টার্গেট কিলিং’ তালিকায় আছেন বলে আগাম সতর্কতা এসেছিল। নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সূত্রের মাধ্যমে পাওয়া এই তথ্য সেপ্টেম্বরেই সরকারের উচ্চপর্যায়ে এবং গোয়েন্দা সংস্থায় পৌঁছে দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক আইনজীবী এই তথ্য সরকারের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
তবে এই নিরাপত্তা হুমকির জবাবে সরকারের তরফে জুলাই সংগঠকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী বা 'বডিগার্ড' নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাঠের রাজনীতি এবং সাধারণ কর্মীদের সাথে দূরত্বের কথা বিবেচনা করে তারা এই প্রস্তাবে রাজি হননি। ব্যারিস্টার ফুয়াদ এ প্রসঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "বিদ্যমান বাস্তবতায় পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে রাজনীতি করাও সম্ভব নয়। এসব উন্নত দেশগুলোতে চলে।" তিনি দাবি করেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে একটি বড় ধরনের অভিযান চালানো অপরিহার্য।
এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে আগাম তথ্যের বিষয়টি স্বীকার করা হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বা সিনিয়র সচিবের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও আইজিপি বাহারুল আলম ফিরতি বার্তায় জানিয়েছেন, "এ রকম কোনো কিছু আমরা পাইনি।" সরকারের এই অবস্থান আগাম তথ্যপ্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আগাম তথ্য জানা সত্ত্বেও কেন হামলা ঠেকানো গেল না এবং কেন সরকার উল্টো তথ্য অস্বীকার করছে—এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জুলাই সংগঠকসহ অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মীদের জীবন এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।