ভূমিকম্পপ্রবণ রাষ্ট্র জাপানে সম্প্রতি কয়েক দফায় শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হওয়ার পর সেদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর ‘মেগা ভূমিকম্পের’ বিরল সতর্কতা জারি করেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ৮ বা তার চেয়েও বেশি মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প প্রশান্ত মহাসাগরের 'রিং অব ফায়ার' নামক সক্রিয় ভূমিকম্প বলয়ের ওপর অবস্থিত এই দেশটিকে আঘাত হানতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপকূলীয় শহরগুলোতে জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
গত সোমবার উত্তর জাপানের উপকূলে একটি ৭.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর থেকেই সরকার নড়েচড়ে বসেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ভূমিকম্পের এই ধারাবাহিকতা উত্তর জাপানের লাখো মানুষের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও বিজ্ঞানীরা সুনির্দিষ্টভাবে ভূমিকম্পের সময় ও স্থান জানাতে পারেন না, তবুও জাপানের উন্নত সতর্কতা ব্যবস্থা ও অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে তারা এই ধরনের বিরল সতর্কতা জারি করেছেন। স্মরণীয় যে, ২০১১ সালে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প এবং এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং বিশেষজ্ঞরা সবাইকে নিরাপদে থাকার জন্য এবং দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি জোরদার করার জন্য সতর্ক করেছেন। লোকজনকে উপকূল থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করার পাশাপাশি জরুরি কিট প্রস্তুত রাখতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাপানে বছরে গড়ে প্রায় দেড় হাজার ভূমিকম্প হয়।
জাপানের পক্ষ থেকে পর্যটকদের জন্য কোনো সরাসরি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও, বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে। তাদের নির্দেশনা হলো, ভ্রমণকারীরা যেন সব সময় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশাবলী অনুসরণ করে এবং ভূমিকম্পকালীন প্রস্তুতি নিয়ে ভ্রমণ করে। জাপানের সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করেছে।