জাতীয়

সংঘাত এড়াতে প্রধান উপদেষ্টার কড়া বার্তা: তিন দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব যমুনায়

সংঘাত এড়াতে প্রধান উপদেষ্টার কড়া বার্তা: তিন দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব যমুনায়

দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে যেকোনো প্রকার সংঘাত-সহিংসতা এড়ানোর কঠোর বার্তা দিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ, শনিবার (১৩ ডিসেম্বর), তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়। এই আলোচনা এমন এক পরিস্থিতিতে হচ্ছে, যখন গতকাল শুক্রবার ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন শান্তি ও সংযম বজায় রাখার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার চাইছেন। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এই তিন দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব এই বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বৈঠকে দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ তাদের দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনার পরই প্রধান উপদেষ্টা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নড়েচড়ে বসেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধ এবং রাজনৈতিক পরিবেশ শান্ত রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই আজকের এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ডাকা হয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব অবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখার ভূমিকা নিয়ে আলোকপাত করা হবে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, প্রধান উপদেষ্টার এই উদ্যোগ সংঘাতমুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।