লিওনেল মেসির আগমনকে কেন্দ্র করে কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে বুধবার যে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, তার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের অবাঞ্ছিত উপস্থিতি। প্রায় ১ লক্ষ দর্শক অত্যন্ত চড়া দামে টিকিট কিনেছিলেন তাদের প্রিয় ফুটবলারকে এক নজর দেখবেন বলে। কিন্তু মেসি যখন গ্যালারির কাছে এসে দর্শকদের অভিবাদন জানাচ্ছিলেন, তখন একদল স্থানীয় নেতা তাকে ঘিরে ধরে দৃশ্যত আড়াল করে দেন।
এই ঘটনায় দর্শকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা জন্ম নেয়, যা দ্রুতই গণরোষের আকার ধারণ করে। দর্শকরা প্রথমে পানির বোতল ও ভাঙা চেয়ার মাঠে ছুড়ে প্রতিবাদ জানান। আয়োজক ও পুলিশের দুর্বল ব্যবস্থাপনার সুযোগ নিয়ে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
একপর্যায়ে, দু’আড়াই হাজার মানুষ ফেন্সিং ভেঙে সরাসরি মাঠে ঢুকে পড়ে। তাদের রোষের শিকার হয় স্টেডিয়ামের সম্পত্তি। তারা গোলপোস্টের জাল ও সাজঘরে যাওয়ার টানেলের ছাউনি ভেঙে দেয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক ছিল মাঠের ধারে রাখা তাঁবুতে অগ্নিসংযোগের প্রচেষ্টা, যা প্রমাণ করে পরিস্থিতি কতখানি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। পুলিশ ভাঙা চেয়ার দিয়ে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করলেও উত্তেজিত জনতাকে সামলাতে ব্যর্থ হয়।
এই ঘটনায় কেবল নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাই নয়, বরং ভিআইপি সংস্কৃতি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্রও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। সাধারণ দর্শকরা হাজার হাজার টাকা খরচ করেও শুধুমাত্র নেতাদের ভিড়ের কারণে তাদের তারকাকে কাছ থেকে দেখতে পাননি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত র্যাফ নামিয়ে স্টেডিয়াম এলাকা জনতার দখলমুক্ত করতে হয়। আন্তর্জাতিক মানের এমন একটি অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ও ভিআইপি প্রোটোকলের এমন চরম ব্যর্থতা ভারতের আয়োজক সক্ষমতার ওপর বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।