ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত জোট গঠন এবং আসন সমঝোতার কূটনীতি এখন তুঙ্গে। একসময় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন (পিআর পদ্ধতি) সংস্কারের দাবি তুললেও, দলগুলো শেষ পর্যন্ত জোটবদ্ধ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ বেছে নিচ্ছে।
দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এরই মধ্যে ২৮টি আসন ফাঁকা রেখে জোট ও মিত্রদের জন্য দরজার খোলা রেখেছে। মনোনয়ন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতাদের জন্য সুনির্দিষ্ট আসনগুলো ফাঁকা রাখা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জোটের রাজনীতিতে নমনীয়তা এবং বৃহত্তর ঐক্য ধরে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়েও বক্তব্য এসেছে, যেখানে নির্বাচনের পর বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগদান এই জোট প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
অন্যদিকে, জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দ্বারা গঠিত এনসিপি নির্বাচনের আগে জামায়াত থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে নতুন কৌশল নিয়েছে। সাতই ডিসেম্বর, তারা রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এবং এবি পার্টির সঙ্গে মিলে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ গঠন করেছে। এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, এই জোট আগামী নির্বাচনে 'একসঙ্গে, একই মার্কায়' লড়াই করবে। এই জোট গঠন পিআর পদ্ধতির দাবি থেকে সরে এসে নির্বাচনে জয়লাভের লক্ষ্যে সমন্বিত শক্তি প্রদর্শন করার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়াও, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আলোচনার বাইরে থাকা জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরেও ভাঙন স্পষ্ট। জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন অংশের বিপরীতে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন অংশটি 'জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট' (এনডিএফ) নামে ১৮ দলের একটি নতুন জোট গঠন করেছে। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে, তফসিল ঘোষণার পর দলীয় মতাদর্শিক অবস্থানকে পেছনে ফেলে আপাতত নির্বাচনে সাফল্য অর্জনের জন্যই জোটবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।
সবমিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচন শুধু একক দলের লড়াই হবে না, বরং জোট ও মিত্র দলগুলোর কৌশলগত সমঝোতা এবং ক্ষমতার ভাগাভাগির কূটনীতির একটি জটিল ক্ষেত্র হতে চলেছে।