জাতীয়

বরেন্দ্রের সার পাচারে জড়িত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কৃষকদের

বরেন্দ্রের সার পাচারে জড়িত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কৃষকদের

বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি খাতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এক দশক ধরে আলুসহ বিভিন্ন ফসল চাষে ঝুঁকলেও, প্রতি বছরই এই ভরা মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকটের শিকার হচ্ছেন কৃষকরা। বর্তমানে ১,০৫০ টাকার ডিএপি সার ১,৭০০ টাকায়, ১,৩৫০ টাকার টিএসপি সার ২,০০০ টাকায় এবং ১,০০০ টাকার এমওপি সার ১,৩০০ টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। এর মূল কারণ, ডিলারদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভর্তুকির সার স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটগুলোর মাধ্যমে কালোবাজারে চলে যাওয়া।

রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা এই চোরাই সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী যে, স্থানীয় কৃষক বা সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। কৃষকদের পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজশেই এই অবৈধ কার্যক্রম চলছে। এই কমিটিগুলো বাস্তবে সার মনিটরিংয়ের বদলে পাচারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

তানোরের কৃষ্ণপুর গ্রামের আলুচাষি মজিবুর রহমান জানান, উচ্চ মূল্যের কারণে তাদের আবাদের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তানোরের এক ডিলার মাইনুল ইসলাম টিএসপি সারের চাহিদা বেশি দাবি করে বরাদ্দের ক্ষেত্রে চাহিদা বিবেচনা না করার অভিযোগ আনলেও, বেশি দামে সার বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক অভিযোগ করেন, গুদাম থেকে সার তোলার পর ডিলাররা তা সরাসরি কালোবাজারিদের কাছে বিক্রি করে দেন এবং দোকানে গিয়ে সার চাইলে ‘শেষ হয়ে গেছে’ বলে ফিরিয়ে দেন।

ইতিমধ্যে রাজশাহীর বাগমারা ও দুর্গাপুরে সার পাচারের সময় বিক্ষুব্ধ কৃষকরা কিছু সার জব্দ করলেও, প্রশাসন পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে নামমাত্র জরিমানা করেই ছেড়ে দিয়েছে। কৃষকদের দাবি, সার পাচার ও কালোবাজারি বন্ধ করতে হলে শুধু ফড়িয়া বা ডিলারদের নয়, বরং এই পাচার সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত প্রশাসনের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নইলে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবেন না এবং তাদের জিম্মিদশা কাটবে না।