অন্যান্য

এনবিআর হানায় জব্দ সন্দেহভাজন ফয়সালের সব ব্যাংক হিসাব

এনবিআর হানায় জব্দ সন্দেহভাজন ফয়সালের সব ব্যাংক হিসাব

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের সব ব্যাংক হিসাব এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) কর্তৃক জব্দের ঘটনা প্রযুক্তি এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনার সৃষ্টি করেছে। মাসুদ যিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর একজন সদস্য, তার প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড’-এর হিসাবও একইসাথে জব্দ করা হয়েছে।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) এনবিআর সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে, ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীর ওপর এমন আক্রমণের পেছনে কী ধরনের আর্থিক ষড়যন্ত্র কাজ করছে? সাধারণত, অর্থনৈতিক অপরাধের তদন্তে এনবিআর এমন পদক্ষেপ নিলেও, এক্ষেত্রে সরাসরি হত্যাচেষ্টার সন্দেহের সঙ্গে প্রযুক্তি ব্যবসার জড়িত ব্যক্তির আর্থিক সংযোগ খোঁজা হচ্ছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, এই জঘন্য ঘটনার নেপথ্যে বড় ধরনের লেনদেন বা অবৈধ অর্থ ব্যবহারের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র সাজানো হয়ে থাকতে পারে।

ফয়সাল করিম মাসুদের মতো একজন বেসিস সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় সফটওয়্যার শিল্পেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তদন্তকারীরা এখন মনোযোগ দিচ্ছেন ফয়সালের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করা হয়েছিল কিনা, যা ওসমান হাদিকে টার্গেট করার জন্য ব্যবহার হতে পারত।

এদিকে, শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ওপর হামলার চেষ্টা এবং তার সন্দেহভাজনের আর্থিক উৎস বন্ধ করে দেওয়ায় নির্বাচন কেন্দ্রিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এনবিআরের এই পদক্ষেপ তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে সন্দেহভাজনের আর্থিক গতিবিধি এবং অপরাধের সম্ভাব্য ‘পে-মাস্টার’ বা মূল পরিকল্পনাকারীকে চিহ্নিত করতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য এখনো না এলেও, ব্যাংক হিসাব জব্দের ঘটনাটি পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াকে নতুন দিকে চালিত করছে।