১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমিতে সংঘটিত কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা বীরবিক্রমসহ তিন সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিল। হত্যাকাণ্ডের ৪৭ বছর পর দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, তাতে এই ঘটনাকে ‘পালটাপালটি অভ্যুত্থানের জটিল পরিস্থিতিরই ধারাবাহিক অংশ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জাসদ নেতা লে. কর্নেল আবু তাহেরের (অব.) নির্দেশ ছিল, যা পেনাল কোডের ৩০২/১০৯/৩৪ ধারার অপরাধ হিসেবে সত্য প্রমাণিত।
তবে সামরিক আদালতে সেনা কর্মকর্তা হত্যার দায়ে ইতোমধ্যেই লে. কর্নেল আবু তাহেরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায়, অপরাধ সত্য প্রমাণিত হলেও তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়নি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান অভিযুক্ত এবং হুকুমের আসামি—তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান, মেজর (অব.) মো. আবদুল জলিল ও মেজর (অব.) আসাদ উজ্জামানের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য, সাক্ষ্য বা প্রমাণ সিআইডি খুঁজে পায়নি। ফলে সিআইডি তাদের মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে।
২০২৩ সালের ১০ মে তারিখে নিহত নাজমুল হুদার মেয়ে নাহিদ ইজাহার খান মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের এমপি হোস্টেলে নাজমুল হুদাসহ অন্য দুই সেক্টর কমান্ডার—মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল এটিএম হায়দার বীর-উত্তমকে দশম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যরা ঠান্ডা মাথায় হত্যা করেন।
সিআইডির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাক্ষীর জবানবন্দি ও সামরিক নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৪ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ কর্তৃক জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা এবং ৭ নভেম্বর লে. কর্নেল আবু তাহেরের নেতৃত্বে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করার জন্য পালটা অভ্যুত্থান ঘটানোর প্রেক্ষাপটেই কর্নেল হুদা প্রাণ হারান। এই পুরো ঘটনাটিই ছিল সেই সময়ের অভ্যুত্থান-পালটা অভ্যুত্থানের এক জটিল ঘাত-প্রতিঘাত। এজাহারভুক্ত অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার পক্ষে কোনো সাক্ষী বা তথ্য প্রমাণ না পাওয়ায় সিআইডি তাদের অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।