অন্যান্য

ব্রেন ডেথ ঘোষণা: চেতনার অনুপস্থিতি ও জটিল নির্ণয় পদ্ধতি

ব্রেন ডেথ ঘোষণা: চেতনার অনুপস্থিতি ও জটিল নির্ণয় পদ্ধতি

ব্রেন ডেথ ঘোষণা করা একটি রোগীর জীবনাবসানের চূড়ান্ত ঘোষণা। এটি কোমা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি অবস্থা। কোমায় থাকা রোগীর মস্তিষ্কে কিছু কার্যক্রম চলমান থাকতে পারে এবং তাদের ধীরে ধীরে জ্ঞানে ফেরার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু ব্রেন ডেথ মানে হলো মস্তিষ্কের সব কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া, যার কোনো প্রত্যাবর্তন নেই।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ভুল নির্ণয় এড়াতে ব্রেন ডেথ ঘোষণার আগে একাধিক কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। প্রথমে নিশ্চিত করা হয় যে রোগীর এই অবস্থার পেছনে কোনো সাময়িক কারণ (যেমন: ওষুধের প্রভাব, অতিরিক্ত ঠান্ডা বা রক্তচাপের অস্বাভাবিকতা) নেই। এরপর মূল পরীক্ষাগুলো শুরু হয়:

  • চেতনা ও রিফ্লেক্স পরীক্ষা: আলো, শব্দ বা স্পর্শে রোগীর কোনো প্রতিক্রিয়া আছে কি না, তা গভীরভাবে দেখা হয়। চোখে আলো ফেলা বা গ্যাগ রিফ্লেক্সসহ ব্রেনস্টেমের সব প্রতিক্রিয়া অনুপস্থিত থাকা আবশ্যক।

  • অ্যাপনিয়া টেস্ট: ভেন্টিলেটর খুলে দেওয়া হয় এবং রোগী নিজে থেকে শ্বাস নেওয়ার কোনো চেষ্টা করে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়া ব্রেন ডেথের অন্যতম প্রধান লক্ষণ।

  • কোল্ড ক্যালোরিক টেস্ট: কানে ঠান্ডা জল দিয়ে ব্রেনস্টেমের প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করা হয়।

  • সহায়ক পরীক্ষা (প্রয়োজনে): প্রয়োজন অনুসারে ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাম (ইইজি) বা মস্তিষ্কে রক্ত ​​প্রবাহের পরীক্ষা (ব্রেন ব্লাড ফ্লো টেস্ট) করা হয়, যা মস্তিষ্কের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্য দেয়।

মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতিই ব্রেন ডেথের প্রধান কারণ। স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক পরবর্তী মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাব, অথবা গুরুতর মাথায় আঘাতের ফলে মস্তিষ্কের কোষগুলো অপূরণীয়ভাবে ধ্বংস হয়ে গেলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। একবার ব্রেন ডেথ নিশ্চিত হলে, শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল লিখিতভাবে নথিভুক্ত করা হয় এবং সেই দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর তারিখ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যন্ত্রের মাধ্যমে শরীর সচল থাকলেও এটিই মস্তিষ্কের চূড়ান্ত সমাপ্তি।