শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল মান্নান খানের কবরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ও রাজনৈতিক নেতারা। বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মাহফুজা বেগমের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যিনি দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন, মৃত্যুর পর কেন তার কবরকে এমন অবমাননার শিকার হতে হলো?
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার দিবাগত রাতে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা সুপরিকল্পিতভাবে কবরের ওপর দাহ্য পদার্থ ও কাঠ দিয়ে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। সকালে কবরের একাংশ ভস্মীভূত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিষয়টি জানার পর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা নেতাদের অবহিত করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহের প্রতি এমন অসম্মান দেশের ইতিহাসে বিরল এবং এটি একটি অত্যন্ত নিকৃষ্ট স্তরের অপরাধ। দোষীদের খুঁজে বের করতে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন।
পালং মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ওসির মতে, কবরে আগুন দেওয়া মানে একজন মানুষের ওপর আগুন দেওয়ার সমান অপরাধ। বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক আব্দুল জলিল সিকদার বলেন, বিজয়ের মাসে এই ঘটনা আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে। আমরা এর চরম শাস্তি চাই। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার মোটিভ উদ্ধারে তারা গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে এবং শীঘ্রই প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।