আগামী ২৫শে ডিসেম্বর দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার লন্ডনের এক আলোচনা সভায় তিনি কেবল তার ফেরার তারিখই জানাননি, বরং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করেছেন। তার মতে, গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দেশের মানুষ যে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়েছে, তার চূড়ান্ত ফসল হলো ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে আন্দোলনের কৃতিত্ব সাধারণ মানুষের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে বলেন, এটি কোনো একক রাজনৈতিক দলের সাফল্য নয়। কৃষক, শ্রমিক, পেশাজীবী ও ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল বলেই স্বৈরাচার পালাতে বাধ্য হয়েছে। তিনি নেতাকর্মীদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিজয় অর্জন করার চেয়ে বিজয় ধরে রাখা অনেক বেশি কঠিন। বর্তমানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ বা ১৯৮১ সালের চক্রান্তকারীরা আজও সক্রিয়। তাই দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
প্রত্যাবর্তনের সময় শৃঙ্খলা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি নেতাকর্মীদের বিমানবন্দরে না আসার জন্য যে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন, তাকে বিশ্লেষকরা একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ হিসেবে দেখছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বিশৃঙ্খলা কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না এবং এটি বিদেশের মাটিতে দেশের সম্মানহানি করে। তার এই বার্তা নেতাকর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। তিনি দেশের জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং সুশাসন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের নির্বাচনী ও রাজনৈতিক সমীকরণে এক ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে, যা দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার পথে সহায়ক হবে।