মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর নীতি এবার আরও বিস্তৃত হয়েছে। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা নতুন এক আদেশে জানানো হয়েছে, আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ এবং ফিলিস্তিনসহ মোট ২০টি দেশের নাগরিকরা এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হবেন। এছাড়া নাইজেরিয়া, তানজানিয়া ও জিম্বাবুয়েসহ আরও ১৫টি দেশের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক পর্যটন এবং শিক্ষা ও ব্যবসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ইচ্ছুক লাখ লাখ মানুষ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের মতে, এই দেশগুলোতে দুর্নীতি, স্ক্রিনিং ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এতটাই বেশি যে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি স্বরূপ। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ও সিরিয়ার নাগরিকদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাইকরণ পদ্ধতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অনীহা ছিল, যা এখন পূর্ণ নিষেধাজ্ঞায় রূপ নিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে নয় বরং মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তবে কূটনীতিক এবং যারা আগে থেকেই গ্রিন কার্ড পেয়েছেন, তাদের ওপর এই নিয়ম কার্যকর হবে না।
এই নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তালিকায় থাকা দেশগুলো যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের ডাটাবেজ শেয়ারিং এবং সন্ত্রাসী দমনে মার্কিন ফেডারেল এজেন্সিকে সন্তুষ্ট করতে না পারে, তবে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। অন্যদিকে, নাইজেরিয়া ও জিম্বাবুয়ের মতো দেশগুলোর ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় ওই দেশগুলোর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত বা নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ভিসা প্রাপ্তি সীমিত হয়ে যাবে।
নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই কার্যকর হতে যাওয়া এই নীতিটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে বৈষম্যমূলক বললেও ট্রাম্প প্রশাসন একে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ পলিসির অংশ হিসেবেই দেখছে। বর্তমানে আফগানিস্তান থেকে শুরু করে মিয়ানমার, হাইতি ও উত্তর আফ্রিকার বিশাল একটি অঞ্চল মার্কিন এই ব্ল্যাকলিস্টের অন্তর্ভুক্ত। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলোর সাথে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক দূরত্ব আরও বাড়বে।