বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মী প্রেরণের হার বাড়লেও দালাল ও প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্যে এই খাতের প্রকৃত সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতারণার এই জাল এতটাই শক্তিশালী যে, সরকারি নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও সাধারণ বিদেশগামীরা বারবার তাদের ফাঁদে পা দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শ্রমশক্তি রপ্তানিতে এখন সবচেয়ে বড় বাধা হলো অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং দালালের হস্তক্ষেপ। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে অনেক দরিদ্র মানুষ তাদের শেষ সম্বল জমি-জমা বিক্রি করে দালালের হাতে টাকা তুলে দেন। কিন্তু সঠিক ভিসার বদলে ভুয়া কাগজপত্র দেওয়ায় বিমানবন্দরে গিয়ে অনেকে ফিরে আসতে বাধ্য হন। আবার যারা বিদেশে পৌঁছান, তাদের অনেকেই উপযুক্ত কর্মসংস্থান না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেন। এই প্রতারণা বন্ধে বিদেশগামীদের সচেতন করার পাশাপাশি ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশগামীদের সুরক্ষা দিতে হলে জনশক্তি রপ্তানি খাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। এজন্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং প্রতিটি ধাপকে অনলাইন মনিটরিংয়ের আওতায় আনা প্রয়োজন। যদি বিদেশগামীরা সরাসরি সঠিক তথ্য ও সেবা পান, তবে তাদের আর দালালের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না। এটি নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন বিদেশগামীদের খরচ কমবে, অন্যদিকে প্রতারণা ও হয়রানিও বন্ধ হবে।
অভিবাসন খাতকে আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছ করতে পারলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক শ্রমবাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। সরকার যদি অভিবাসীদের সুরক্ষা এবং দালালের বিচার নিশ্চিত করতে পারে, তবেই এই গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।