রাজনীতি

ইসলামপন্থিদের মাস্টারপ্ল্যান: ২২০ আসন চায় শরিকরা, কী করবে জামায়াত?

ইসলামপন্থিদের মাস্টারপ্ল্যান: ২২০ আসন চায় শরিকরা, কী করবে জামায়াত?

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করতে সমঝোতার পথে হাঁটছে আটটি ইসলামি রাজনৈতিক দল। এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে জামায়াতে ইসলামীর কাছে শরিক দলগুলো মোট ২২০টি আসনের দাবি উত্থাপন করেছে। যদিও শুরুতে জামায়াত ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে এককভাবে মাঠে সক্রিয় ছিল, তবে বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে এখন তারা আসন ছাড়ের মানসিকতা দেখাচ্ছে। দলগুলোর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো—কোনো আসনেই যেন ইসলামি দলগুলোর ভোট ভাগ না হয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ১২০টি আসনের দাবি তোলা হলেও দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছেন, তারা আসলে একটি দলের মতোই কাজ করছেন। জয়ের নিশ্চয়তা থাকলে অন্য দলের প্রার্থীকেও সমর্থন দিতে তাদের দ্বিধা নেই। অন্যদিকে, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের তার দলের জন্য ৩০টি আসন চেয়েছেন এবং নিজে হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। যদিও ঐ আসনে জামায়াত অন্য এক প্রার্থীকে মনোনীত করেছে, তবুও ১৬ ডিসেম্বরের বৈঠকে এ জাতীয় জটিলতাগুলো নিরসন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈঠক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লিয়াজোঁ কমিটি আগামী দু-একদিনের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে। সমঝোতা অনুযায়ী, প্রতিটি আসনে জোটের পক্ষ থেকে মাত্র একজন প্রার্থী থাকবেন। যদিও তারা কোনো একক প্রতীকে লড়ছেন না, তবুও তাদের মধ্যে একটি কৌশলগত চুক্তি হয়েছে যে, যে দলের প্রার্থী যেখানে শক্তিশালী, বাকি দলগুলো তাকেই সর্বাত্মক সমর্থন দেবে। শরিকদের এই বিশাল চাহিদার বিপরীতে জামায়াত শেষ পর্যন্ত কতটি আসন নিজেদের জন্য রাখতে পারে, তা এখন দেখার বিষয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা সফল হলে নির্বাচনের মাঠে ইসলামি দলগুলো একটি বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।