ব্যাংকিং খাতে গ্রাহক সেবা আরও সহজতর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি যুগান্তকারী সার্কুলার জারি করেছে। এখন থেকে দেশের প্রতিটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রতিটি শাখা তাদের গ্রাহকদের অপ্রচলনযোগ্য বা ছেঁড়া-ফাটা নোট বদলে দিতে আইনিভাবে বাধ্য থাকবে। নতুন এই নীতিমালার মূল আকর্ষণ হলো, নোটের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ থাকলে গ্রাহক কোনো প্রকার কর্তন ছাড়াই পুরো টাকা ফেরত পাবেন। এর আগে অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো নোট নিতে অস্বীকৃতি জানাত বা দালালের মাধ্যমে টাকা কম দেওয়া হতো, যা এখন থেকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
সোমবার রাতে জারিকৃত এই সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো নোটের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পাঁচটি ক্যাটাগরি মেনে চলবে। যেসব নোট ব্যবহারের অনুপযোগী কিন্তু ৯০ শতাংশের বেশি ঠিক আছে, সেগুলো সাধারণ মানুষ যে কোনো ব্যাংক থেকেই বদলাতে পারবেন। তবে নোটের অবস্থা যদি খুবই খারাপ হয় বা ৯০ শতাংশের কম অংশ অবশিষ্ট থাকে, তবে তা ‘দাবিযোগ্য’ নোট হিসেবে গণ্য হবে। এই ধরনের নোটের ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্রাহকের আবেদন গ্রহণ করবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের পর সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে গ্রাহক তার প্রাপ্য অর্থ বুঝে পাবেন।
আগুনে পোড়া নোটের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম রাখা হয়েছে। যেহেতু এই নোটগুলোর সত্যতা যাচাই করা জটিল, তাই ব্যাংকগুলো সরাসরি এর বিনিময় মূল্য দেবে না। গ্রাহককে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কঠোর নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে যে, প্রতিটি শাখায় নোট বিনিময়ের তথ্য সম্বলিত ব্যানার বা নোটিশ থাকতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত না হন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নতুন সার্কুলারের ফলে বাজারে থাকা জরাজীর্ণ নোটের সংখ্যা কমে আসবে এবং মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরবে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করেছে যে, জালিয়াতির আশ্রয় নিলে বা জাল নোটের অংশ ব্যবহার করলে গ্রাহকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মূলত ২০১২ সালের পুরনো আইন বাতিল করে বর্তমান বাস্তবতার নিরিখে এই নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করবে।