রাজনীতি

ডিসেম্বরে ফিরছেন তারেক রহমান: বিমানবন্দর থেকে এভারকেয়ার পর্যন্ত জনসমুদ্রের প্রস্তুতি

ডিসেম্বরে ফিরছেন তারেক রহমান: বিমানবন্দর থেকে এভারকেয়ার পর্যন্ত জনসমুদ্রের প্রস্তুতি

আগামী ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত রচিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় লন্ডনে অবস্থান করার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরছেন। তার এই ফেরার মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং তাকে যথাযথ সম্মান জানাতে সালাহউদ্দিন আহমদ ও রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী অভ্যর্থনা কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। এই কমিটির অধীনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং সকল অঙ্গসংগঠন সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।

বিএনপি সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে তার গন্তব্য হবে এভারকেয়ার হাসপাতাল। সেখানে বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘকাল ধরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন। মা ও ছেলের দীর্ঘ ১৭ বছরের বিচ্ছেদ ঘুচিয়ে এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে দেশবাসী। নেতাকর্মীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত দীর্ঘ পথটি জনসমুদ্রে পরিণত করা হবে। রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে জনতা তাদের নেতাকে সংবর্ধনা দেবেন এবং বিমানবন্দর থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়টি অভ্যর্থনা কমিটি নিশ্চিত করবে।

সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়াই অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। কমিটির সদস্যসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মধ্যেও ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত সোমবার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় সকল অঙ্গসংগঠনের নেতাদের যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমানের ফিরে আসা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাকে উৎসবের নগরী হিসেবে সাজানোর প্রস্তুতিও চলছে তৃণমূল পর্যায়ে।

ঢাকায় ফেরার পর তারেক রহমান গুলশান এলাকায় অবস্থান করবেন এবং খুব শীঘ্রই নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসে দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সরাসরি পরিচালনা করবেন। তার এই পদক্ষেপে বিএনপি শক্তিশালী সাংগঠনিক রূপ পাবে এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের কৌশলগত অবস্থান আরও সুসংহত হবে বলে দলীয় নেতারা বিশ্বাস করেন। পুরো জাতি এখন ২৫ ডিসেম্বরের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।