সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেল প্রণয়নের কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে তাড়াহুড়ো না করে একটি নির্ভুল ও বৈষম্যহীন পে স্কেল উপহার দিতে চায় জাতীয় বেতন কমিশন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার এক দীর্ঘ ৫ ঘণ্টার বৈঠকে কমিশনের সদস্যরা খসড়া প্রস্তাবনার প্রতিটি ধারা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকে জানানো হয়েছে, বর্তমান খসড়াটিতে বেশ কিছু পরিমার্জন ও সংশোধনী প্রয়োজন, যার জন্য আগামীতে আরও অন্তত তিনটি পূর্ণাঙ্গ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ড. মোহাম্মদ আলী খান ও মো. ফজলুল করিমসহ কমিশনের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কমিশনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার বা সংগঠনের পক্ষ থেকে যেসব দাবি ও পরামর্শ জমা পড়েছে, সেগুলো বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রতিবেদনটি যেন সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ করছে কমিশন।
সংবাদটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাস্তবায়নের পদ্ধতি। জানা গেছে, পে কমিশনের রিপোর্ট সরাসরি কার্যকর হবে না; বরং এটি কয়েকটি শক্তিশালী প্রশাসনিক ধাপ পার হয়ে আসবে। কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্টের পর সচিব কমিটি এবং পরবর্তীতে উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ হিসেবে গেজেট জারি করা হবে, যা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর আইনি ভিত্তি দেবে।
দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার এই বৈঠকে শুধু পে স্কেলের ধাপ বা বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং এর অর্থনৈতিক প্রভাব ও সরকারি কোষাগারের সামর্থ্যের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে গেজেট প্রকাশের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো জানানো হয়নি, তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এই সংবাদটি প্রকাশের পর সারা দেশের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।