রাজনীতি

এনসিপি নেত্রীর আকস্মিক মৃত্যুতে প্রশ্নের মুখে দুই বিয়ে ও নিঃসঙ্গ জীবন

এনসিপি নেত্রীর আকস্মিক মৃত্যুতে প্রশ্নের মুখে দুই বিয়ে ও নিঃসঙ্গ জীবন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ ও এনসিপি নেত্রী জান্নাত আরা রুমির অকাল প্রয়াণে অনেক প্রশ্ন সামনে আসছে। ঝিগাতলার একটি হোস্টেলে একাকী জীবন কাটানো এই নেত্রীর মৃত্যুর কারণ খুঁজতে গিয়ে পুলিশ তার ব্যক্তিগত জীবনের নানা টানাপোড়েনের তথ্য পেয়েছে। দুইবার বিবাহবিচ্ছেদ এবং সন্তানদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা রুমি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে ব্যস্ত রাখলেও ভেতরে ভেতরে প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

রুমির সাবেক স্বামী বিপ্লব সরকার জানিয়েছেন, মাস তিনেক আগেই তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয় এবং এর পর থেকে রুমির সাথে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। রুমির প্রথম সংসারে একটি আট বছরের কন্যা এবং দ্বিতীয় সংসারে একটি সাড়ে তিন বছরের পুত্র সন্তান রয়েছে। পেশাগত প্রয়োজনে এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে তিনি ঢাকায় একাই থাকতেন, যেখানে সন্তানদের অভাব তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিয়েছিল বলে তার আত্মীয়স্বজনদের ধারণা।

হাজারীবাগ থানা পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে জান্নাতী ছাত্রী হোস্টেলের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। হাজারীবাগ থানার এসআই কামরুজ্জামান জানান, হোস্টেলের গৃহকর্মী দরজা ধাক্কা দিলে তা সহজেই খুলে যায় এবং ভেতর থেকে রুমির ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায়। মৃত্যুর সময় ঘরে অন্য কেউ ছিল কি না কিংবা এটি পরিকল্পিত কোনো ঘটনা কি না, তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা বিভাগ।

নিহতের খালাতো ভাই সোয়েইব হোসেনের মতে, রুমি ৫ আগস্টের আগে ও পরে অত্যন্ত সাহসের সাথে রাজপথে ছিলেন। নার্স হিসেবে চাকরি করার পাশাপাশি তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার মতো একজন দৃঢ়চেতা মানুষ কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন, তা নিয়ে এনসিপি কর্মীদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে রুমির কল রেকর্ড এবং হোস্টেলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে।