অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পরও সরকারি বাসভবন না ছাড়া নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন সাবেক দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। গত ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে তাদের সরকারি বাংলোয় অবস্থান করা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নৈতিকতার প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না থাকায় ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হয়েছে। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে গণমাধ্যমের কাছে এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন আসিফ মাহমুদ।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা জানান, তারা স্বেচ্ছায় বা শখের বশে সরকারি বাসায় থাকছেন না। মূলত নিরাপত্তাজনিত চরম ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা এখনো সেখানে অবস্থান করছেন। আসিফ মাহমুদ আরও দাবি করেন যে, আইন অনুযায়ী পদত্যাগের পর দুই মাস পর্যন্ত 'গ্রেস পিরিয়ড' হিসেবে সরকারি বাসায় থাকার সুযোগ রয়েছে, তাই এখানে কোনো আইনি লঙ্ঘন ঘটেনি। উল্লেখ্য, গত ১০ ডিসেম্বর বিকেলে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং সন্ধ্যায় নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার সাথে সাথে তাদের পদত্যাগ কার্যকর হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র আন্দোলনের ফসল হিসেবে ক্ষমতায় আসা এই দুই প্রতিনিধির ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল। ফলে তাদের এমন অবস্থানকে অনেকেই 'পুরানো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি' হিসেবে দেখছেন। আসিফ মাহমুদ ১৫ মাস এবং মাহফুজ আলম ১৩ মাস উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে তারা যুব, ক্রীড়া এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ সামলেছেন। তবে পদত্যাগের পর তাদের দ্রুত সরকারি সুবিধা ত্যাগ করা উচিত ছিল কি না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক চলছে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাধারণত পদত্যাগের পর বাসা ছাড়ার একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া থাকে, তবে আসিফ ও মাহফুজের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো নির্ধারিত হয়নি। নিরাপত্তা ও নৈতিকতার এই দ্বন্দ্বে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যেমন তাদের জীবনের ঝুঁকির বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা।