সামাজিক মাধ্যমে একটি বিতর্কিত ছবি পোস্ট করার দায়ে ‘মিস ফিনল্যান্ড’ মুকুট হারালেন সুন্দরী সারাহ জাফসে। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত মিস ইউনিভার্স আসর চলাকালীন তিনি পূর্ব এশীয়দের শারীরিক গঠন নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গি করেন, যা বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় তোলে। বিশেষ করে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরা একে অত্যন্ত বর্ণবাদী ও হীনমন্য কাজ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল আকার ধারণ করে যে, ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ ঘটনার নিন্দা জানাতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি দেশের ভাবমূর্তিকে বহির্বিশ্বে ম্লান করেছে।
ঘটনাটি আরও ভিন্ন মাত্রা পায় যখন ফিনল্যান্ডের দুজন সংসদ সদস্য সারাহকে সমর্থন দিতে গিয়ে একই ধরনের অঙ্গভঙ্গি করে ছবি পোস্ট করেন। যদিও পরে তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন, তবুও এই ঘটনাটি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। জুহো এরোলা নামের এক এমপি দাবি করেন, সারাহকে দেওয়া এই শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। তবে ফিনল্যান্ডের সরকার প্রধান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, জনপ্রতিনিধিদের উচিত সঠিক আচরণের উদাহরণ সৃষ্টি করা, বিতর্কিত কাজের সমর্থন নয়।
সারাহ জাফসে তার আত্মপক্ষ সমর্থনে জানিয়েছেন যে, তার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না এবং ক্যাপশনটি তার এক বন্ধুর দেওয়া। তিনি আরও বলেন যে তিনি সকল মানুষের প্রেক্ষাপট ও বৈচিত্র্যকে সম্মান করেন। কিন্তু ফিনিশ ভাষায় তার সেই ক্ষমা প্রার্থনা আন্তর্জাতিক সমালোচকদের মন গলাতে ব্যর্থ হয়েছে। এশীয় নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন যে, কেবল ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং এই ধরনের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। শেষ পর্যন্ত বর্ণবাদ বিরোধী কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে সারাহকে তার মুকুট ও মর্যাদা উভয়ই হারাতে হলো।