জাতিসংঘের নীল হেলমেট পরে বিদেশের মাটিতে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে শহীদ হওয়া ৬ বাংলাদেশি সৈনিকের নিথর দেহ এখন প্রিয় জন্মভূমির মাটিতে। সুদানের প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা যে অসীম সাহস দেখিয়েছেন, আজ জাতি শ্রদ্ধার সাথে তা স্মরণ করছে। বিমানবন্দরে তাদের কফিন আসার পর গার্ড অব অনার প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানানো হয়।
এই ৬ সদস্যের মৃত্যু আবারও প্রমাণ করেছে যে, বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কতটা নিবেদিত। সুদান বর্তমানে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে প্রাণঘাতী হামলা ও সহিংসতা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহীদরা সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে সরাসরি হামলার শিকার হয়েছিলেন। তাদের এই শাহাদাত বরণ দেশের সামরিক ইতিহাসে একটি শোকাবহ অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হলো।
সেনাবাহিনী প্রধান ও সরকারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে শহীদদের কফিন গ্রহণ করেন। প্রতিটি কফিন জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ছিল, যা তাদের সর্বোচ্চ দেশপ্রেমের প্রতীক। উপস্থিত কর্মকর্তাদের অনেকের চোখেই ছিল অশ্রু। শহীদদের পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দরে কান্নায় ভেঙে পড়েন, তাদের এই অপূরণীয় শূন্যতা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।
জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে থাকার পেছনে এ ধরনের অসংখ্য আত্মত্যাগ লুকিয়ে রয়েছে। বর্তমান সুদানের পরিস্থিতি বিবেচনা করে শান্তিরক্ষীদের সরঞ্জাম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক করার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই বীর সেনারা কেবল নিজের দায়িত্ব পালন করেননি, বরং বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে গর্বিত করেছেন। তাদের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।