ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকায় এখন থমথমে শোকের পরিবেশ। ইনকিলাব মঞ্চের অকুতোভয় মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে শেষ বিদায় জানাতে প্রস্তুত বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির ঠিক পাশেই তার জন্য নির্দিষ্ট স্থানটি প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল থেকেই একদল কর্মী কবর খননের কাজ তদারকি করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিশেষ নির্দেশনায় দাফন প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হাদির দাফনস্থল হিসেবে এই জায়গাকে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে তার দীর্ঘদিনের লড়াই এবং জাতীয় কবির দর্শনের প্রতি তার শ্রদ্ধা। শিক্ষার্থীরা বলছেন, হাদি সারাজীবন জালেমের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, তাই কবির পাশে তার স্থান পাওয়াটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই কবর খননের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ঢাবি ক্যাম্পাসে বিভিন্ন স্তরের মানুষ ভিড় করতে শুরু করেছেন। ছাত্র আন্দোলনের সময় তার তেজস্বী বক্তব্যগুলো এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে, যা তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়।
বিকেলের দিকে জানাজা শেষে তাকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদায় দাফন করা হবে। দাফন প্রক্রিয়া চলাকালীন জাতীয় কবির সমাধি প্রাঙ্গণে সাধারণের প্রবেশ সীমিত রাখা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শরিফ ওসমান হাদির এই বিদায়ে ইনকিলাব মঞ্চ তাদের প্রধান শক্তিকে হারিয়েছে। তবে তার অনুসারীদের মতে, তার আদর্শকে ধারণ করে তারা সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। তার দাফনস্থলটি আগামীতে তরুণদের জন্য এক প্রেরণার কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।