রাজনীতি

জাতীয় কবির পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হচ্ছেন ইনকিলাব মুখপাত্র ওসমান হাদি

জাতীয় কবির পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হচ্ছেন ইনকিলাব মুখপাত্র ওসমান হাদি

এক বুক দেশপ্রেম আর সাহসিকতার প্রতীক হয়ে থাকা শরিফ ওসমান হাদি আর নেই, কিন্তু রেখে গেছেন এক বিশাল শোকাতুর জনপদ। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হওয়ার পর থেকে দেশবাসী তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছিল। কিন্তু সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আজ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে তিনি সাধারণ মানুষের মনে কতটা জায়গা করে নিয়েছিলেন।

জানাজার প্রতিটি মুহূর্ত ছিল আবেগময়। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন শহীদের কফিনের পাশে দাঁড়ান, তখন পুরো এলাকায় এক পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। তিন বাহিনীর প্রধানদের উপস্থিতি রাষ্ট্রীয় সম্মানের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। সাধারণ মানুষের মতে, হাদি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তার ওপর হওয়া এই বর্বরোচিত হামলা ও হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জানাজা শেষে তার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স যখন বের হচ্ছিল, তখন হাজারো মানুষ স্লোগান দিয়ে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

শহীদ হাদির দাফন প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তাকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশেই সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা তার ত্যাগের এক বিশাল স্বীকৃতি। চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পরেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি, যা সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। জানাজায় আগত জনতা এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে শুরু করে হৃদরোগ ইনস্টিটিউট এবং সবশেষে সংসদ ভবন এলাকা—সবখানেই আজ ছিল কালো ব্যাজ পরিহিত মানুষের ভিড়। ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই জানাজাকে এক বিশাল রাজনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, হাদির মৃত্যু বিফলে যাবে না। সিঙ্গাপুর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটে আসা তার কফিনটি যখন দেশের মাটিতে নামে, তখনই শুরু হয়েছিল শোকের নতুন অধ্যায়, যা আজ দাফনের মাধ্যমে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা করল।