রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা আজ এক অভূতপূর্ব শোকাতুর জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজা আজ শনিবার দুপুর আড়াইটায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন শহীদের বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। দেশের ক্রান্তিলগ্নে হাদির এই আত্মত্যাগ সাধারণ মানুষের হৃদয়ে কতটা গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, তার প্রমাণ মিলেছে আজকের এই বিশাল গণজমায়েতে। সকাল থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং সংসদ ভবন এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর সাথে উপদেষ্টা পরিষদের অন্যান্য সদস্য এবং সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত হয়ে শহীদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। রাজনৈতিক অঙ্গনের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এই জানাজায় শরিক হন। উপস্থিত জনতা শহীদ হাদির বীরত্বগাথা স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেকেই বলছেন, এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহত্তম জানাজা।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংসদ ভবনের চারপাশের প্রতিটি প্রবেশপথে কঠোর নজরদারি বজায় রাখে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাধারণ মানুষকে আর্চওয়ে গেট দিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে খামারবাড়ি থেকে আসাদ গেট পর্যন্ত পুরো রাস্তা মানুষের ভিড়ে বন্ধ হয়ে যায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষগুলো প্রিয় নেতার শেষ বিদায়টুকু নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছেন।
শহীদ ওসমান হাদির মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে দুপুর ২টায় জানাজার স্থলে আনা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. আব্দুল আহাদ জানিয়েছেন, হাদির দাফন হবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে। এই সিদ্ধান্তটি শহীদের সম্মানে নেওয়া এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সুশীল সমাজ। বিজয়নগরে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হওয়া বর্বরোচিত হামলাটি আজ কেবল একটি প্রাণ কেড়ে নেয়নি, বরং দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের হৃদয়ে প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘ লড়াই শেষে তার এই বিদায় জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।